মিডমার্টের কেউ কখনো আপনার কাছে অগ্রিম টাকা চাইবে না
মিডমার্টের নাম করে অর্ডার ছাড়াতে, পুরস্কার নিতে বা অ্যাকাউন্ট যাচাই করতে টাকা চাইলে সেটি আমরা নই। চেনার উপায় জেনে নিন।
নিয়মটা দিয়েই শুরু করি, কারণ এর কোনো ব্যতিক্রম নেই: মিডমার্ট কারও কাছে কখনো টাকা চায় না। ডেলিভারির জন্য নয়, রেজিস্ট্রেশনের জন্য নয়, অর্ডার ছাড়ানোর জন্য নয়, অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের জন্য নয়, পুরস্কার নেওয়ার জন্যও নয়। আমরা কোনো পেমেন্টই নিই না — এটাই প্ল্যাটফর্মের গঠন। আমাদের নাম করে কেউ টাকা চাইলে সে নিজের পরিচয় নিয়েই মিথ্যা বলছে।
যেসব কথা ঘুরে বেড়ায়
ভাষা বদলায়, ছকটা বদলায় না। সবচেয়ে বেশি যেগুলোর অভিযোগ পাই:
- "পার্সেল ছাড়াতে আগে ডেলিভারি চার্জ পাঠান।" ডেলিভারি চার্জ দোকান ঠিক করে এবং চেকআউটেই দেখা যায়। আলাদা কোনো ব্যক্তিগত নম্বরে টাকা পাঠিয়ে কিছু ছাড়ানো হয় না।
- "দোকান রেজিস্ট্রেশনের জন্য ফি দিতে হবে।" মিডমার্টে দোকান খোলা ফ্রি, পণ্য তোলাও ফ্রি। কোনো ফি নেই।
- "আপনি ভাউচার জিতেছেন — প্রসেসিং চার্জ পাঠান।" সত্যিকারের কোনো অফার নিতে টাকা লাগে না।
- "অ্যাকাউন্ট যাচাই করতে OTP পাঠান।" কোনো কর্মী কখনো ওটিপি চাইবেন না। ওই কোডটি তাদের ঠেকানোর জন্যও।
- "প্ল্যাটফর্মের বাইরে অর্ডার করলে দাম কম।" বাইরে গেলে অর্ডারের রেকর্ড নেই, রিভিউ নেই, রিপোর্ট নেই, বিক্রেতার কোনো জবাবদিহিও নেই। ঠিক এ কারণেই প্রস্তাবটা আসে।
দশ সেকেন্ডে যাচাই
- আমাদের নামে টাকা চাওয়াই সবচেয়ে বড় লক্ষণ। মিডমার্ট টাকা ধরে না, কমিশনও নেয় না — বৈধভাবে বিল করার মতো কিছুই নেই।
- মেসেজ কোথা থেকে এসেছে দেখুন। আমাদের বার্তা আসে সাইটের অর্ডার থ্রেডে বা আমাদের প্রকাশ্য চ্যানেল থেকে — অচেনা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে নয়।
- যে নম্বরে টাকা চাইছে সেটি দেখুন। ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর একজন ব্যক্তির, কোনো কোম্পানির নয়।
- তাড়াহুড়ো দেখলে সতর্ক হোন। "এক ঘণ্টার মধ্যে না দিলে অর্ডার বাতিল" কথাটার কাজই আপনাকে যাচাই করতে না দেওয়া।
- নিজে সাইটে ঢুকুন। মেসেজের লিংকে নয়। আপনার আসল অর্ডার সবসময় আপনার অ্যাকাউন্টেই আছে।
বিক্রেতাকে অগ্রিম দেওয়া কি ঠিক?
সেটি আলাদা প্রশ্ন এবং বৈধ — অনেক ভালো দোকানই পাঠানোর আগে বিকাশে টাকা নেয়। সিদ্ধান্তটি আপনার আর বিক্রেতার। তাই ওজন করে দেখুন: দোকান ভেরিফায়েড কি না, কতগুলো অর্ডার ডেলিভারি হয়েছে, রিটার্ন পলিসিতে কী লেখা। অচেনা দোকানে প্রথম অর্ডারে ক্যাশ অন ডেলিভারিই নিরাপদ।
ঘটে গেলে কী করবেন
দোকান বা পণ্যের পেজ থেকে রিপোর্ট করুন — প্রতিটি রিপোর্ট মানুষ দেখে নিষ্পত্তি করে, আর এর ভিত্তিতে দোকান সাসপেন্ডও হতে পারে। স্ক্রিনশট আর লেনদেনের রেকর্ড রেখে দিন। টাকা চলে গেলে আপনার মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও পুলিশের সাইবার ইউনিটে যোগাযোগ করুন; লেনদেনের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা তাদেরই। অ্যাকাউন্টের ব্যাপারে ব্যবস্থা আমরা নেব, নিশ্চিতভাবেই।
মনে রাখার এক বাক্য: টাকা কখনো মিডমার্টে যায় না, তাই আমাদের নামে টাকা চাওয়া মানেই সেটি আমরা নই।
English
বাংলা