গল্পটা
খাদি শব্দটি আসার অনেক আগে থেকেই কুমিল্লায় মিহি সুতি কাপড় বোনা হতো; ঔপনিবেশিক আমলের নথিতে স্থানীয় সুতায় বোনা শাড়ি, ধুতি আর গামছার উল্লেখ আছে। খাদির আসল ঐতিহ্য গড়ে ওঠে বিশের দশকের শুরুতে অসহযোগ ও স্বদেশি আন্দোলনের সময়, যখন বিলাতি কলের কাপড় বর্জনের ডাকে হাতে কাটা, হাতে বোনা সুতি কাপড় হয়ে ওঠে রাজনৈতিক প্রতিবাদের ভাষা। জানা যায়, ১৯২১ সালে গান্ধী এ অঞ্চলে এসেছিলেন। ১৯১০ সালে কুমিল্লায় প্রতিষ্ঠিত অভয় আশ্রম, যার এই নাম হয় মোটামুটি সে সময়েই, চরকা বিক্রি করত, গ্রামের তাঁতিদের সংগঠিত করত, তাঁদের কাপড় বাজারে তুলত। নামের একটি প্রচলিত ব্যাখ্যা হলো, তাঁতিরা মাটিতে খোঁড়া গর্ত বা খাদের ওপর তাঁত বসিয়ে বুনতেন।
১৯৪৭ সালের পর ব্যবসা দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে বর্তমান বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) প্রতিষ্ঠাতা আখতার হামিদ খান খাদি তাঁতিদের সমবায়ে সংগঠিত করতে সহায়তা করেন, চান্দিনা হয় এর কেন্দ্র। চান্দিনা, দেবিদ্বার, মুরাদনগর আর বুড়িচংয়ের দেবনাথ (যুগী) সম্প্রদায়সহ নানা তাঁতি পরিবার শিল্পটি টিকিয়ে রেখেছে। এখন কুমিল্লা শহরের শত শত দোকানে, বিশেষ করে কান্দিরপাড় থেকে রাজগঞ্জ পর্যন্ত, খাদি বিক্রি হয় গজ কাপড়, পাঞ্জাবি, কুর্তা, থ্রি-পিস, শাড়ি, চাদর আর বিছানার চাদর হিসেবে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে কুমিল্লার খাদি জিআই নিবন্ধন সনদ পায়। এর খসখসে, দানাদার জমিন আর গরমে বাতাস চলাচলের গুণের জন্যই কদর, আর স্থানীয় অনেক ডিজাইনার এখন একে রং করে, ব্লক প্রিন্ট আর এমব্রয়ডারি করে আধুনিক পোশাক বানাচ্ছেন।
আসল কুমিল্লার খাদি চিনবেন কীভাবে
কঠোর অর্থে খাদি মানে হাতে কাটা সুতায় হাতে বোনা কাপড়। হাতে কাটা সুতা অসমান, তাই আসল খাদিতে মোটা-চিকন সুতার গিঁট আর আলোর দিকে ধরলে বুননে খানিক অসমতা চোখে পড়ে। আজ কুমিল্লার খাদি নামে যা বিক্রি হয়, তার বড় অংশ কলের সুতায় হাতে বা সাধারণ তাঁতে বোনা, তাই জমিন তুলনায় সমান; আবার কিছু "খাদি লুক" কাপড় পুরোপুরি মেশিনে বোনা, জমিনের নকল ছাপা, বা পলিয়েস্টার মেশানো। হাতে নিয়ে দেখুন: আসল সুতি খাদি নরম অথচ একটু খসখসে, দ্রুত পানি শোষে, সহজে কুঁচকে যায়; পলিয়েস্টার মিশ্রণ পিচ্ছিল লাগে, সহজে কোঁচকায় না, আর একটা সুতা পোড়ালে গলে যেতে পারে।
কেনার পরামর্শ
বিক্রেতার কাছে তিনটি বিষয় জানতে চান: সুতা হাতে কাটা না কলের, কাপড় হাতে বোনা কি না, আর পুরো সুতি কি না। কোথায় বোনা, সেটাও জিজ্ঞেস করুন; চান্দিনা আর দেবিদ্বার ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র। দাম ওঠানামা করে সুতার ধরন, কাপড়ের ওজন, রঙের মান আর এমব্রয়ডারি বা ব্লক প্রিন্টের ওপর; হাতে কাটা সুতার খাদি বানাতে সময় বেশি লাগে, দামও বেশি।
মিডমার্টে প্রতিটি দোকান স্বাধীন এবং নিজের ডেলিভারি চার্জ ঠিক করে, তাই এক দোকান থেকে পাঞ্জাবি আর আরেক দোকান থেকে কাপড় নিলে দুবার চার্জ। মিডমার্ট কখনো টাকা নেয় না বা ডেলিভারি করে না; দুটোই বিক্রেতা আপনার সঙ্গে সরাসরি ঠিক করেন। টাকা দেওয়ার আগে তৈরি পোশাকের মাপ আর বদলের শর্ত নিশ্চিত করুন, কারণ প্রথম ধোয়ায় খাদি কিছুটা ছোট হতে পারে।
কীভাবে রাখবেন
খাদি কিছুটা কুঁচকে ছোট হবে, ধরে নিন; কাটা বা সেলাইয়ের আগে নতুন কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে নিন। ঠান্ডা পানিতে হালকা ডিটারজেন্টে ধোবেন, প্রথম দিকে আলাদা করে, কারণ রং উঠতে পারে; ব্লিচ দেবেন না। রং যেন না জ্বলে, তাই ছায়ায় শুকান, আর সামান্য ভেজা থাকতে সুতির উচ্চ তাপে ইস্ত্রি করুন। খাদি টেকসই, তবে পরিষ্কার আর পুরোপুরি শুকনো অবস্থায় বাতাস চলাচল করে এমন আলমারিতে ভাঁজ করে রাখুন; বর্ষায় ভেজা সুতিতে ছত্রাক ধরে। ন্যাপথলিন কাগজে মুড়ে কাপড় থেকে দূরে রাখুন।
মিডমার্টে কুমিল্লার খাদি খুঁজুন
যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান
কুমিল্লা থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।
মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।
ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুনকুমিল্লার খাদি নিয়ে প্রশ্ন
আরও বিখ্যাত পণ্য
তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা
- Wikipedia: Khadi industry of Comilla
- Wikipedia: Abhay Ashram
- Dhaka Tribune: Comilla's Khadi fabric gets GI recognition
- BSS: Industries adviser for enriching GI products commercially
- কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে খাদির দোকান — ছবি: Ibrahim Husain Meraj · CC BY-SA 4.0 (উৎস, CC BY-SA 4.0)
English
বাংলা