বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

বাংলাদেশের বিখ্যাত পণ্য

মণিপুরি শাড়ি ও শাল (সিলেট)

সিলেটের মণিপুরিপাড়ার হালকা, উজ্জ্বল রঙের তাঁতের কাপড়

মণিপুরি বুনন বৃহত্তর সিলেটের মণিপুরি সম্প্রদায়ের ঘরোয়া শিল্প, সবচেয়ে পরিচিত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ আর সিলেট শহরের লামাবাজার। সিলেটের মণিপুরি শাড়ি ২০২৫ সালে জিআই সনদ পায়।

যেখান থেকে
মৌলভীবাজার, সিলেট
মৌসুম
সারা বছর
GI
জিআই নিবন্ধন ২০২৫
কালো, সাদা, গোলাপি, লাল ও হলুদ রঙের ঝালরওয়ালা ভাঁজ করা মণিপুরি চাদরের স্তূপ
সিলেটের মণিপুরি চাদর ছবি: Anik Sarker · CC BY-SA 4.0

গল্পটা

বাংলাদেশের মণিপুরিদের শিকড় সিলেটের উত্তর-পূর্বে মণিপুর রাজ্যে। কথিত আছে, আঠারো ও উনিশ শতকে নিজ ভূমির যুদ্ধবিগ্রহ থেকে বাঁচতে অনেক পরিবার বৃহত্তর সিলেটে এসে বসতি গড়ে, সঙ্গে আনে নাচ, গান আর বুননের সংস্কৃতি। এখন তাঁরা মূলত মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে থাকেন। তাঁতি পরিবারের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র কমলগঞ্জ উপজেলা, আদমপুর আর আশপাশের গ্রামগুলো; শ্রীমঙ্গল আর মাধবপুরও এর জন্য পরিচিত।

মণিপুরি ঘরে বুনন প্রথাগতভাবে নারীদের কাজ। এখনো দুই ধরনের তাঁত চলে। কোমরতাঁত, যার এক মাথা খুঁটিতে আর অন্য মাথা তাঁতির কোমরে বাঁধা থাকে, তাতে বোনা হয় শাল, মাফলার আর ফানেকের (মোড়ানো স্কার্ট) নকশি পাড়ের মতো সরু কাপড়। শাড়ি, বিছানার চাদর, থ্রি-পিসের মতো চওড়া কাপড় বোনা হয় হাতে মাকু ছোড়া ফ্রেম তাঁতে। সবচেয়ে পরিচিত শাড়ির নকশায় থাকে ধাপে ধাপে ওঠা "মন্দির" পাড়, আর নকশাগুলো সাহসী, জ্যামিতিক, উজ্জ্বল রঙের। সিলেট শহরের লামাবাজারের দোকানগুলো বহুদিন ধরে পর্যটকদের কাছে মণিপুরি বুনন বিক্রি করে আসছে।

বাংলাদেশ সিলেটের মণিপুরি শাড়িকে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে নিবন্ধন করেছে, সনদ হস্তান্তর হয় ২০২৫ সালের এপ্রিলে। শিল্পটি এখনো ছোট পরিসরের, ঘরভিত্তিক: সুতার বেশির ভাগ কিনে আনতে হয়, তাঁতিরা সাধারণত পাইকারের কাছে বিক্রি করেন, আয়ও সামান্য।

আসল মণিপুরি শাড়ি ও শাল (সিলেট) চিনবেন কীভাবে

হাতে বোনা মণিপুরি শাড়ি হালকা, বুনন একটু আলগা; নকশা ছাপা বা সেলাই করা নয়, বুননের ভেতরেই তোলা, তাই দুই পিঠেই নকশা দেখা যায়, অনেক শাড়ি উল্টেও পরা যায়। ধাপকাটা মন্দির পাড়, মোটিফে সামান্য অমিল আর একেবারে সোজা নয় এমন কিনারা খুঁজুন। কোমরতাঁতের শাল সরু, নকশা চলে সারি সারি, দুই মাথায় ঝালর। ছাপা নকলে নকশা থাকে এক পিঠে, আর পাওয়ার লুমের কাপড়ে মোটিফ হুবহু এক, কাপড় শক্ত, পেছনে লম্বা আলগা সুতা থাকে।

কেনার পরামর্শ

দাম নির্ভর করে সুতার ধরন (সুতি, সুতি-রেশম, কিংবা শীতের শালে অ্যাক্রিলিক), নকশার ঘনত্ব, আর কোমরতাঁত না ফ্রেম তাঁতে বোনা তার ওপর। বিক্রেতার কাছে জানতে চান কে, কোথায় বুনেছেন, সম্ভব হলে গ্রামের নামসহ, আর দুই পিঠের ছবি চেয়ে নিন। কমলগঞ্জ বা সিলেটের তাঁতিদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করা বিক্রেতারা সাধারণত এসব বলতে পারেন। সুতি কাপড়ে প্রথম দিকে রং উঠতে পারে, তাই সুতার রং পাকা কি না জিজ্ঞেস করুন।

মিডমার্টে স্বাধীন দোকানগুলো তালিকাভুক্ত, প্রত্যেকে নিজের ডেলিভারি চার্জ নেয়: দুই দোকান থেকে একটি শাড়ি আর একটি শাল নিলে দুবার চার্জ দিতে হবে। মিডমার্ট আপনার টাকা নেয় না, পার্সেলও পাঠায় না; টাকা পরিশোধ আর ডেলিভারি বিক্রেতা আপনার সঙ্গে সরাসরি ঠিক করেন। টাকা দেওয়ার আগে বিক্রেতার বদলের নিয়ম দেখে নিন।

কীভাবে রাখবেন

সুতি মণিপুরি কাপড় অন্তত প্রথম কয়েকবার আলাদা করে ঠান্ডা পানিতে হালকা ডিটারজেন্টে হাতে ধোবেন, ভিজিয়ে রাখবেন না। ছায়ায় শুকিয়ে মাঝারি তাপে ইস্ত্রি করুন। পশম বা অ্যাক্রিলিকের শাল আলতো করে ধুয়ে বিছিয়ে শুকান, যাতে টেনে লম্বা না হয়ে যায়। সুতি কাপড়ে মুড়ে শুকনো আলমারিতে ভাঁজ করে রাখুন; সিলেটের স্যাঁতসেঁতে বর্ষায় ছত্রাক ধরে সহজে, তাই কয়েক সপ্তাহ পরপর কাপড়গুলো ছায়ায় মেলে বাতাস লাগান। ন্যাপথলিন কাগজে মুড়ে কাপড় থেকে দূরে রাখুন।

মিডমার্টে মণিপুরি শাড়ি ও শাল (সিলেট) খুঁজুন

মিডমার্টে “মণিপুরি শাড়ি” খুঁজুন

যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান

মৌলভীবাজার, সিলেট থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

মণিপুরি শাড়ি ও শাল (সিলেট) নিয়ে প্রশ্ন

সিলেটের মণিপুরি শাড়ি ২০২৫ সালের এপ্রিলে জিআই নিবন্ধন সনদ পায়।

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা