বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

ধর্মীয়

বুদ্ধপূর্ণিমা

বৈশাখী পূর্ণিমা: বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপরিনির্বাণের স্মরণ

বৈশাখের পূর্ণিমা তিথির বুদ্ধপূর্ণিমা বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবচেয়ে পবিত্র দিন। গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপরিনির্বাণের স্মরণে দিনটি কাটে প্রার্থনা, পঞ্চশীল, প্রদীপ আর দানে।

তারিখ
বৃহস্পতিবার, ২০ মে ২০২৭ (সম্ভাব্য)

দোকানগুলো আলাদা করে পাঠায় আর উৎসবের আগে কুরিয়ারে ভিড় থাকে — নিশ্চিন্ত থাকতে ১৩ মে-এর মধ্যে অর্ডার করুন।

বুদ্ধপূর্ণিমায় গাঁদা ফুল ও দানসামগ্রীতে সাজানো বোধিবৃক্ষের চারপাশে হলুদ চীবর পরা ছোট বুদ্ধমূর্তি
বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে সাজানো বোধিবৃক্ষের বেদি। ছবি: Shahriar Amin Fahim247 · CC BY-SA 4.0

বুদ্ধপূর্ণিমা সম্পর্কে

বুদ্ধপূর্ণিমা, যাকে বৈশাখী পূর্ণিমা বা ভেসাকও বলা হয়, বাংলা বৈশাখ মাসের পূর্ণিমায় পালিত হয়। বৌদ্ধদের বিশ্বাস, সিদ্ধার্থ গৌতমের জীবনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এই একই পূর্ণিমায় ঘটেছিল: লুম্বিনীতে জন্ম, বুদ্ধগয়ায় বোধিবৃক্ষের নিচে বোধিলাভ, আর কুশীনগরে মহাপরিনির্বাণ। এই ত্রিস্মৃতির কারণেই দিনটি বৌদ্ধ বর্ষপঞ্জির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন।

দিনটি পূর্ণিমার ওপর নির্ভর করে বলে ইংরেজি ক্যালেন্ডারে তারিখ প্রতি বছর বদলায়, সাধারণত এপ্রিলের শেষ বা মে মাসে পড়ে। ২০২৬ সালে ছিল ১ মে; ২০২৭ সালে আনুমানিক ২০ মে আর ২০২৮ সালে আনুমানিক ৮ মে। এটি সরকারি ছুটির দিন, সঠিক তারিখ সরকারি ছুটির তালিকায় নিশ্চিত করা হয়।

বাংলাদেশে বৌদ্ধরা সংখ্যায় কম হলেও তাঁদের শিকড় অনেক পুরোনো। তাঁদের বেশির ভাগের বাস চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে; বাংলাভাষী বড়ুয়া সম্প্রদায়ের পাশাপাশি চাকমা, মারমাসহ কয়েকটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী এর মধ্যে আছে। এদিন ঢাকার বাসাবোর ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার এবং চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানের বিহারগুলো ভক্তদের ভিড়ে মুখর থাকে।

যেভাবে পালিত হয়

দিন শুরু হয় ভোরে, বিহারে। পরিবারগুলো পরিচ্ছন্ন, সাধারণত সাদা পোশাকে আসেন, ভিক্ষুসংঘকে ফুল, মোমবাতি ও খাবার দান করেন, দিনের জন্য পঞ্চশীল বা অষ্টশীল গ্রহণ করেন এবং সূত্রপাঠ ও ধর্মদেশনা শোনেন। অনেকে বোধিবৃক্ষে জল ঢালেন, সন্ধ্যায় সারি সারি মোমবাতি আর প্রদীপ জ্বালান। সমবেত প্রার্থনায় সব প্রাণীর মঙ্গল কামনা করা হয়, অনেকে দেশের শান্তির জন্যও প্রার্থনা করেন।

এই দিনের মূল কথা দান। ভিক্ষুদের খাবার, চীবর ও প্রয়োজনীয় জিনিস দেওয়া হয়, প্রতিবেশী ও অসহায় মানুষের সঙ্গে খাবার ভাগ করে নেওয়া হয়। বিহারে আলোচনা সভা, শিশুদের অনুষ্ঠান আর সাংস্কৃতিক আয়োজন হয়, কোথাও কোথাও মেলাও বসে। ঘরদোর পরিষ্কার করা হয়, রান্না হয় সাদামাটা নিরামিষ খাবার ও মিষ্টি। অন্য ধর্মের বন্ধুরাও প্রায়ই শুভেচ্ছা জানান বা সন্ধ্যার প্রদীপ প্রজ্বালনে যোগ দেন।

মানুষ যা কেনে

  1. সাদা বা হালকা রঙের পোশাক

    বিহারে যাওয়ার জন্য সাদা পাঞ্জাবি, শাড়ি বা সাদামাটা জামাই বেশি পছন্দ, তাই অনেক পরিবার এদিনের জন্য নতুন সেট কেনে।

  2. মোমবাতি, প্রদীপ ও আগরবাতি

    সন্ধ্যায় প্রচুর মোমবাতি ও মাটির প্রদীপ জ্বালানো হয়, বেদিতে আগরবাতি দেওয়া হয়।

  3. ভিক্ষুদের জন্য দানসামগ্রী

    ফল, শুকনো খাবার, চীবর, ছাতা আর প্রসাধনী ভিক্ষুসংঘকে দানের সাধারণ উপকরণ।

  4. বাচ্চাদের জামা

    বিহারে যাওয়া আর পরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য শিশুদের নতুন পোশাক কেনা হয়।

  5. বুদ্ধমূর্তি ও গৃহবেদির জিনিস

    ঘরের বেদির জন্য ছোট বুদ্ধমূর্তি, বাঁধানো ছবি, স্ট্যান্ড বা বেদির কাপড় অনেকে কেনেন।

  6. বই

    বুদ্ধের জীবনী, বাংলায় ধম্মপদ আর শিশুদের জন্য জাতকের গল্পের বই এ সময় জনপ্রিয়।

উপহারের আইডিয়া

  1. বুদ্ধমূর্তি বা ছবি

    বন্ধুর গৃহবেদি বা পড়ার কোণের জন্য একটি শান্ত, সুন্দর উপহার।

  2. বই

    শিশুদের জন্য জাতকের গল্প বা বড়দের জন্য সুমুদ্রিত ধম্মপদ টিকে থাকে বহু বছর।

  3. মোমবাতি ও আগরবাতির সেট

    সাধ্যের মধ্যে আন্তরিক উপহার, যা উৎসবের দিনেই কাজে লাগে।

  4. সাদা বা নরম রঙের পোশাক

    সাধারণ একটি পাঞ্জাবি, শাড়ি বা কুর্তি দিনটির শান্ত আবহের সঙ্গে মানিয়ে যায়।

কেনাকাটার পরামর্শ

ঈদ বা পূজার তুলনায় বুদ্ধপূর্ণিমার কেনাকাটা শান্ত, বেশির ভাগ পরিবার এক-দুই সপ্তাহ আগে শুরু করে। সম্ভাব্য তারিখটা আগেভাগে দেখে নিন, কারণ কোনো কোনো বছর এটি ঈদুল আজহা বা মে দিবসের ছুটির কাছাকাছি পড়ে, তখন কুরিয়ারে এমনিতেই চাপ থাকে আর ডেলিভারিতে সময় বেশি লাগতে পারে।

মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজের পার্সেল আলাদাভাবে পাঠায়, ডেলিভারি চার্জও দোকানপ্রতি। এক দোকান থেকে পোশাক আর আরেক দোকান থেকে মোমবাতি কিনলে দুটি পার্সেল, দুবার ডেলিভারি চার্জ। মিডমার্ট কখনো টাকা লেনদেন বা ডেলিভারি করে না; প্রত্যেক বিক্রেতা নিজেই আপনার সঙ্গে পেমেন্ট ও কুরিয়ারের ব্যবস্থা করেন। তাই পূর্ণিমার আগে অর্ডার পৌঁছাবে কি না, বিক্রেতার কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।

বুদ্ধপূর্ণিমা-এর কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

বুদ্ধপূর্ণিমা-এর তারিখ

বছর তারিখ
২০২৬ শুক্রবার, ১ মে ২০২৬ (সম্ভাব্য)
২০২৭ বৃহস্পতিবার, ২০ মে ২০২৭ (সম্ভাব্য)
২০২৮ সোমবার, ৮ মে ২০২৮ (সম্ভাব্য)
২০২৯ রবিবার, ২৭ মে ২০২৯ (সম্ভাব্য)

“সম্ভাব্য” চিহ্নিত তারিখ চাঁদ দেখা বা সরকারি ক্যালেন্ডারের ওপর নির্ভর করে, দিনের কাছাকাছি গিয়ে নিশ্চিত হয়।

বুদ্ধপূর্ণিমা নিয়ে প্রশ্ন

২০২৭ সালের বুদ্ধপূর্ণিমা আনুমানিক বৃহস্পতিবার, ২০ মে। তারিখ পূর্ণিমার ওপর নির্ভর করে, তাই সরকারি ছুটির তালিকায় মিলিয়ে নিন।

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা