বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

ধর্মীয়

দুর্গাপূজা

শরতের পাঁচ দিন: পূজা, নতুন কাপড়, মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরা আর বিদায়ের বিজয়া

দুর্গাপূজা বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব। শরতের পাঁচ দিন হাজারো মণ্ডপে দেবী দুর্গাকে বরণ, পূজা-অর্চনা আর ঢাকের বাদ্যি, তারপর বিজয়া দশমীতে বিদায়।

তারিখ
৫ অক্টোবর – ৯ অক্টোবর ২০২৭ (সম্ভাব্য)

দোকানগুলো আলাদা করে পাঠায় আর উৎসবের আগে কুরিয়ারে ভিড় থাকে — নিশ্চিন্ত থাকতে ২৮ সেপ্টেম্বর-এর মধ্যে অর্ডার করুন।

ঢাকার একটি মণ্ডপে লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিকসহ দেবী দুর্গার মাটির প্রতিমা
ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনে দুর্গাপূজা। ছবি: Pratyya Ghosh · CC BY-SA 3.0

দুর্গাপূজা সম্পর্কে

দুর্গাপূজায় দেবী দুর্গার আরাধনা করা হয়। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী তিনি মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন, যা অশুভের বিরুদ্ধে শুভের জয় হিসেবে দেখা হয়। বাংলায় দেবীকে আবার ঘরের মেয়ের মতো করেও বরণ করা হয়, যিনি লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ আর কার্তিককে নিয়ে কয়েক দিনের জন্য বাপের বাড়ি আসেন। তাই এই উৎসব যতটা ধর্মীয়, ততটাই পারিবারিক মিলনের। পূজার প্রায় এক সপ্তাহ আগে মহালয়া দিয়ে শুরু হয় ক্ষণগণনা, সেদিন অনেক পরিবার ভোরে উঠে চণ্ডীপাঠ শোনে।

মূল উৎসব চলে শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত; মাঝের সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী পূজার প্রধান দিন। হিন্দু পঞ্জিকা চাঁদের হিসাবে চলে বলে তারিখ প্রতি বছর বদলায়, সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরের শেষের মধ্যে পড়ে। ২০২৭ সালে বিজয়া দশমী আনুমানিক ৯ অক্টোবর আর ২০২৮ সালে আনুমানিক ২৮ সেপ্টেম্বর; সঠিক দিন পূজা উদযাপন পরিষদ ও সরকার সময়মতো নিশ্চিত করে।

ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি বিভাগের শহর-গ্রামে দুর্গাপূজা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সারা দেশে সর্বজনীন ও পারিবারিক মণ্ডপের সংখ্যা ত্রিশ হাজার ছাড়িয়েছে। উৎসবটি সামাজিকও বটে: সব ধর্মের বন্ধু-প্রতিবেশী মণ্ডপে যান, প্রতিমা দেখেন, আনন্দ ভাগ করে নেন।

যেভাবে পালিত হয়

প্রতিটি মণ্ডপে থাকে স্থানীয় শিল্পীদের সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে গড়া মাটির প্রতিমা। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত যত বেশি মণ্ডপ ঘোরা যায়, ততই মজা। ঢাকের বাদ্যি, শাঁখের আওয়াজ আর সন্ধ্যারতিতে চারপাশ মুখর থাকে। অষ্টমীতে অনেক মন্দিরে কুমারী পূজা হয়; ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনে এ উপলক্ষে প্রচুর মানুষের ভিড় হয়। বাড়িতে রান্না হয় নিরামিষ পদ, অনেক মণ্ডপে খিচুড়ি ভোগ বিতরণ হয়, আর ঘরে ঘরে বানানো হয় নাড়ু, মোয়াসহ নানা মিষ্টি।

বিজয়া দশমীতে বিবাহিত নারীরা সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন, তারপর শোভাযাত্রা করে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় নদী বা পুকুরে বিসর্জনের জন্য, যেমন ঢাকায় বুড়িগঙ্গায়। এরপর আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি গিয়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা আর মিষ্টিমুখ চলে। নবমী ও দশমী সরকারি ছুটি, আর এই কয়েক দিন মণ্ডপগুলো ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকে।

মানুষ যা কেনে

  1. নতুন শাড়ি

    পূজার প্রতিটি দিনের জন্য আলাদা নতুন শাড়ি অনেকের প্রিয় রীতি। গরম দুপুরে সুতি তাঁতের শাড়ি, আর অষ্টমী-দশমীর জন্য সিল্ক বা জামদানি।

  2. পাঞ্জাবি ও ধুতি

    ছেলেরা সাধারণত উৎসবের রঙে পাঞ্জাবি পরেন, আর অঞ্জলি বা পূজার সময় অনেকে ঐতিহ্যবাহী ধুতি বেছে নেন।

  3. বাচ্চাদের পোশাক

    পরিবারের সঙ্গে মণ্ডপ ঘোরার প্রতিটি দিনের জন্য শিশুদের কয়েক সেট নতুন জামা কেনা হয়।

  4. শাঁখা, চুড়ি ও গয়না

    শাঁখা, কাচের চুড়ি আর হালকা ইমিটেশন গয়না পূজার সাজ পূর্ণ করে, ছোট উপহার হিসেবেও এগুলোর চাহিদা অনেক।

  5. পূজার সামগ্রী

    ধূপ, মাটির প্রদীপ, সলতে, ঘি, শাঁখ, কাঁসার থালা আর সাজসজ্জার জিনিস কেনা হয় বাড়ির পূজা ও পাড়ার মণ্ডপের জন্য।

  6. মিষ্টি ও উপহারের বাক্স

    অতিথি আপ্যায়ন আর দশমীর পর আত্মীয়বাড়ি যাওয়ার জন্য সন্দেশ, রসগোল্লা, নাড়ুর বাক্স লাগে।

  7. ঘর সাজানোর জিনিস

    মরিচবাতি, আলপনার স্টেনসিল আর নতুন কুশন কভার দিয়ে অতিথিদের জন্য ঘর সাজানো হয়।

উপহারের আইডিয়া

  1. শাড়ি বা পাঞ্জাবি

    মা-বাবা, শ্বশুরবাড়ি আর কাছের আত্মীয়দের জন্য পূজার উপহার বলতে এখনো পোশাকই সেরা।

  2. বিজয়ার মিষ্টি

    দশমীর পর কারও বাড়ি গেলে এক বাক্স ভালো মিষ্টি নিয়ে যাওয়াই রেওয়াজ।

  3. গয়না বা চুড়ি

    বোন, মেয়ে বা বন্ধুর জন্য চুড়ি, কানের দুল বা লকেট মনে রাখার মতো উপহার।

  4. শারদীয় সংখ্যা ও বই

    পূজার ছুটিতে শারদীয় সংখ্যা আর নতুন উপন্যাস পড়া বাঙালির পুরোনো অভ্যাস।

  5. কাঁসা বা তামার পূজার বাসন

    প্রদীপ, থালা বা ঘণ্টা বছরের পর বছর ঘরের পূজায় কাজে লাগে।

কেনাকাটার পরামর্শ

বেশির ভাগ পরিবার ষষ্ঠীর তিন-চার সপ্তাহ আগে থেকে পূজার কেনাকাটা শুরু করে। ব্লাউজ বা বাচ্চাদের জামা সেলাই করাতে বাড়তি সময় লাগে, তাই আগেভাগে অর্ডার দিন। পূজার আগের শেষ সপ্তাহে কুরিয়ারে প্রচণ্ড চাপ থাকে, আর অনেক বিক্রেতা ষষ্ঠীর কয়েক দিন আগেই অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দেন।

মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজের অর্ডার নিজেই প্যাক করে পাঠায়, আর ডেলিভারি চার্জ ধরা হয় দোকানপ্রতি। এক দোকান থেকে শাড়ি, আরেক দোকান থেকে মিষ্টি আর তৃতীয় দোকান থেকে পূজার সামগ্রী কিনলে তিনটি আলাদা পার্সেল আসবে, ডেলিভারি চার্জও লাগবে তিনবার। মিডমার্ট কখনো টাকা লেনদেন বা ডেলিভারি করে না; প্রত্যেক বিক্রেতা নিজেই আপনার সঙ্গে পেমেন্টের পদ্ধতি ও কুরিয়ার ঠিক করেন। নির্দিষ্ট দিনের আগে দরকার এমন জিনিস কেনার আগে বিক্রেতার কাছ থেকে ডেলিভারির তারিখ নিশ্চিত করে নিন।

দুর্গাপূজা-এর কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

দুর্গাপূজা-এর তারিখ

বছর তারিখ
২০২৬ ১৭ অক্টোবর – ২১ অক্টোবর ২০২৬ (সম্ভাব্য)
২০২৭ ৫ অক্টোবর – ৯ অক্টোবর ২০২৭ (সম্ভাব্য)
২০২৮ ২৪ সেপ্টেম্বর – ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৮ (সম্ভাব্য)
২০২৯ ১২ অক্টোবর – ১৬ অক্টোবর ২০২৯ (সম্ভাব্য)

“সম্ভাব্য” চিহ্নিত তারিখ চাঁদ দেখা বা সরকারি ক্যালেন্ডারের ওপর নির্ভর করে, দিনের কাছাকাছি গিয়ে নিশ্চিত হয়।

দুর্গাপূজা নিয়ে প্রশ্ন

২০২৭ সালের দুর্গাপূজা আনুমানিক ৫ অক্টোবর (ষষ্ঠী) থেকে ৯ অক্টোবর (বিজয়া দশমী) পর্যন্ত। তারিখ চান্দ্র পঞ্জিকা অনুযায়ী, সময়মতো নিশ্চিত করা হয়।

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা