বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

ধর্মীয়

শবে বরাত

শাবানের মাঝামাঝি ইবাদত আর স্মরণের এক রাত

শবে বরাত শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী রাত, রমজানের দুই সপ্তাহ আগে। বাংলাদেশের অনেক মুসলমান এ রাত ইবাদতে কাটান, প্রয়াত স্বজনদের স্মরণ করেন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে হালুয়া-রুটি ভাগ করে নেন।

তারিখ
রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৭ (সম্ভাব্য)

দোকানগুলো আলাদা করে পাঠায় আর উৎসবের আগে কুরিয়ারে ভিড় থাকে — নিশ্চিন্ত থাকতে ১৭ জানুয়ারী-এর মধ্যে অর্ডার করুন।

শবে বরাত উপলক্ষে ঢাকার একটি বেকারিতে সাজিয়ে রাখা বড় নকশাদার রুটি
ঢাকার খিলগাঁওয়ের একটি বেকারিতে শবে বরাতের নকশাদার রুটি। ছবি: FaysaLBinDaruL · CC BY-SA 4.0

শবে বরাত সম্পর্কে

শবে বরাত ফারসি শব্দ, যার অর্থ সাধারণত করা হয় ভাগ্যের রাত বা মুক্তির রাত। ইসলামি বর্ষপঞ্জির অষ্টম মাস শাবানের ১৪ ও ১৫ তারিখের মাঝের রাতে এটি পালিত হয়; আরবিতে একে লাইলাতুল বরাত বা মধ্য-শাবানের রাত বলা হয়। বাংলাদেশের অনেক মুসলমানের কাছে এটি ক্ষমা প্রার্থনা, জীবিত ও মৃতদের জন্য দোয়া এবং প্রায় দুই সপ্তাহ পরে শুরু হওয়া রমজানের জন্য মন প্রস্তুত করার রাত।

এ রাত কীভাবে কাটানো হবে, তা পরিবারভেদে আলাদা। কেউ নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত আর জিকিরে রাত কাটান এবং পরদিন রোজা রাখেন; কেউ আরও সাদামাটাভাবে দিনটি পালন করেন। প্রচলিত রীতিগুলোর কোনটি ধর্মীয় শিক্ষা থেকে এসেছে আর কোনটি স্থানীয় ঐতিহ্য, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভিন্নমত আছে। তাই একে এমন এক রাত হিসেবে দেখাই ভালো, যা অনেকে নিজের মতো করে সম্মান করেন।

তারিখটি চান্দ্র বর্ষপঞ্জি মেনে চলে এবং প্রতি বছর প্রায় ১১ দিন এগিয়ে আসে; তাই কোনো কোনো বছর, যেমন ২০২৯ সালে, একই ইংরেজি বছরে দুবার শবে বরাত পড়ে। বাংলাদেশে রাতের পরের দিনটি সরকারি ছুটি, আর শাবানের শুরুতে চাঁদ দেখা কমিটি সঠিক তারিখ ঠিক করে। এখানে দেওয়া তারিখগুলো ছুটির সম্ভাব্য দিন।

যেভাবে পালিত হয়

বাংলাদেশে এ সন্ধ্যায় মসজিদগুলো মুসল্লিতে ভরে যায়, বিশেষ বয়ান হয়, আর অনেকে মা-বাবা ও দাদা-দাদির কবর জিয়ারত করে তাঁদের জন্য দোয়া করেন। ঘরে ঘরে সুজি, বুটের ডাল, গাজর বা পেঁপের হালুয়া বানানো হয়, সঙ্গে পাতলা চালের রুটি বা ভাজা রুটি; সেগুলো প্রতিবেশী আর গরিবদের মধ্যে বিলানো হয়। পুরান ঢাকার বেকারিগুলো এই দিনে মাছ বা কুমিরের আকৃতির বিশাল নকশাদার রুটির জন্য বিখ্যাত, যা দিনেই ফুরিয়ে যায়।

ছুটি মাত্র এক দিনের, আর এ সময়ের কেনাকাটাও সীমিত ও স্থানীয়: হালুয়ার উপকরণ, নতুন টুপি বা জায়নামাজ, আতর, কখনো একটা নতুন পাঞ্জাবি। অনেক পরিবার রমজানের আগে দান-খয়রাতের সুযোগ হিসেবেও দিনটিকে কাজে লাগায়। শহরের বাসাবাড়িতে বিকেল থেকেই হালুয়া বানানোর ব্যস্ততা শুরু হয়, আর সন্ধ্যার আগে প্লেটে সাজিয়ে আশপাশের বাড়িতে পাঠানো হয়।

মানুষ যা কেনে

  1. হালুয়ার উপকরণ

    ঘরে হালুয়া বানাতে সুজি, বুটের ডাল, চিনি, ঘি, গুঁড়া দুধ, এলাচ আর বাদাম কেনা হয়।

  2. রুটির জন্য চালের আটা

    হালুয়া আর মাংসের তরকারির সঙ্গে পাতলা রুটি বানাতে মিহি চালের গুঁড়া বা আটা লাগে।

  3. জায়নামাজ ও টুপি

    ইবাদতের রাতের জন্য পরিষ্কার বা নতুন জায়নামাজ আর টুপি কেনা খুব প্রচলিত।

  4. আতর ও তসবিহ

    অনেকে এ সন্ধ্যার জন্য অ্যালকোহলমুক্ত আতর আর তসবিহ কেনেন।

  5. ইসলামি বই

    রমজানের আগে এই মৌসুমে কুরআন শরিফ, দোয়ার বই আর শিশুদের ইসলামি বইয়ের চাহিদা বাড়ে।

উপহারের আইডিয়া

  1. জায়নামাজ ও তসবিহ সেট

    নরম জায়নামাজের সঙ্গে মিলিয়ে একটা তসবিহ মা-বাবা বা দাদা-দাদির জন্য সম্মানজনক উপহার।

  2. সুন্দর বাঁধাইয়ের কুরআন শরিফ

    স্পষ্ট ছাপার কুরআন শরিফ বা বাংলা অনুবাদ পরিবারের জন্য স্থায়ী উপহার হয়ে থাকে।

  3. আতরের গিফট বক্স

    ছোট্ট এক বাক্স আতর সহজেই দেওয়া যায়, আর ইবাদতের রাতের সঙ্গে মানিয়েও যায়।

কেনাকাটার পরামর্শ

শাবানের চাঁদ দেখার পর শবে বরাত খুব দ্রুত চলে আসে, তাই নামাজের সামগ্রী আর শুকনো উপকরণ এক সপ্তাহের মতো আগে অর্ডার করুন। কুরিয়ার ব্যস্ত হয়ে ওঠার আগে রমজান ও ঈদের কেনাকাটার পরিকল্পনা করার জন্যও এটি ভালো সময়।

মিডমার্টে প্রতিটি দোকান আলাদাভাবে ডেলিভারি দেয় এবং নিজের ডেলিভারি চার্জ নেয়, তাই কয়েকটি দোকান থেকে কিনলে কয়েকটি পার্সেল আর কয়েকবার চার্জ লাগবে। মিডমার্ট কখনো টাকা লেনদেন বা ডেলিভারি সামলায় না; প্রত্যেক বিক্রেতা নিজের ব্যবস্থা করেন। রাতের আগেই জিনিস দরকার হলে বিক্রেতার কাছ থেকে ডেলিভারির সময় জেনে নিন।

শবে বরাত-এর কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

শবে বরাত-এর তারিখ

বছর তারিখ
২০২৬ বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (সম্ভাব্য)
২০২৭ রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৭ (সম্ভাব্য)
২০২৮ বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৮ (সম্ভাব্য)
২০২৯ সোমবার, ১ জানুয়ারী ২০২৯ (সম্ভাব্য)
২০২৯ শনিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৯ (সম্ভাব্য)

“সম্ভাব্য” চিহ্নিত তারিখ চাঁদ দেখা বা সরকারি ক্যালেন্ডারের ওপর নির্ভর করে, দিনের কাছাকাছি গিয়ে নিশ্চিত হয়।

শবে বরাত নিয়ে প্রশ্ন

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ২৩ জানুয়ারি দিবাগত রাতে শবে বরাত পালিত হতে পারে, আর সরকারি ছুটি ২৪ জানুয়ারি।

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা