গল্পটা
আগর হলো অ্যাকুইলেরিয়া গণের গাছ, আর সেই গাছ থেকে পাওয়া কালচে সুগন্ধি কাঠেরও নাম। সুস্থ আগর গাছের কাঠ ফ্যাকাশে আর সাধারণ। গাছ আঘাত পেয়ে সংক্রমিত হলে তবেই সে নিজেকে বাঁচাতে ক্ষতস্থানের কাঠ ভারী সুগন্ধি রজনে ভরিয়ে তোলে, আর রজনে ভেজা সেই কাঠকেই সুগন্ধি শিল্পে বলা হয় আগরউড বা উদ। প্রকৃতিতে এই প্রক্রিয়ায় কয়েক দশক লাগতে পারে। মৌলভীবাজারের চাষিরা তা দ্রুত করতে লাগানো গাছের গুঁড়িতে লোহার পেরেক ঠুকে দেন, তারপর বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন কখন পেরেকের চারপাশে রজন জমবে।
এই ব্যবসা মূলত বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়ন আর আশপাশের গ্রামে কেন্দ্রীভূত। স্থানীয়ভাবে বলা হয়, সেখানকার পরিবারগুলো প্রায় চারশো বছর ধরে আগর নিয়ে কাজ করছে, আর এখন সেখানে শত শত ছোট কারখানা। আগর ও আতর প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠনের আবেদনে ২০২৪ সালে মৌলভীবাজারের আগর আর মৌলভীবাজারের আগর আতর দুটি আলাদা ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হয়। তেলের বড় অংশ যায় বিদেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে, যেখানে উদ সবচেয়ে দামি সুগন্ধি উপাদানগুলোর একটি।
আতর তৈরি ধৈর্যের কাজ। ফ্যাকাশে কাঠ থেকে রজনে ভরা অংশ কেটে আলাদা করে ছোট ছোট টুকরা করা হয়, তারপর কয়েক দিন পানিতে ভিজিয়ে বড় বড় বন্ধ পাত্রে জ্বাল দেওয়া হয়। বাষ্প ঠান্ডা করে পানির ওপর ভেসে ওঠা তেল দিনের পর দিন ধরে ফোঁটা ফোঁটা করে সংগ্রহ করা হয়। কাঠের ওজনের তুলনায় তেল মেলে খুবই সামান্য, তাই খাঁটি আগর তেলের দাম এত বেশি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্যাসের দাম আর মজুরি বেড়ে যাওয়ায় অনেক ছোট কারখানা চাপে পড়েছে।
আসল মৌলভীবাজারের আগর ও আগর-আতর চিনবেন কীভাবে
খাঁটি আগর তেল ঘন, ধীরে গড়ায়, আর কাঠ ও পাতনের ধরন অনুযায়ী রং সোনালি থেকে গাঢ় বাদামি পর্যন্ত হয়; শুধু রং দেখে কিছু প্রমাণ হয় না। সবচেয়ে ভালো পরীক্ষা গন্ধ। ত্বকে লাগালে শুরুতে কাঠ, ধোঁয়া আর একটু পশুর মতো গন্ধ আসে, তারপর কয়েক ঘণ্টা ধরে বদলাতে থাকে, আর এক ফোঁটাই স্প্রে করা পারফিউমের চেয়ে অনেক বেশি সময় টেকে। কৃত্রিম উদ সুগন্ধি তেলের গন্ধ চড়া, প্রথম মিনিট থেকে শেষ পর্যন্ত একই রকম, আর প্রায়ই দ্রুত মিলিয়ে যায় বা ঝাঁজালো হয়ে ওঠে। প্রথাগত আতর তেলভিত্তিক, তাতে অ্যালকোহল থাকে না; বিজ্ঞাপনে অ্যালকোহলমুক্ত লেখা থাকলে জিজ্ঞেস করুন বাহক তেল কোনটি, কারণ সস্তা মিশ্রণ প্রায়ই প্যারাফিন বা অন্য গন্ধহীন তেলে পাতলা করা হয়। খুব কম দামে প্রতি তোলা খাঁটি আগর তেল পাওয়া বাস্তবসম্মত নয়।
কেনার পরামর্শ
দাম নির্ভর করে কাঠের মান, তেলটি খাঁটি আগর না অন্য আতরের সঙ্গে মিশ্রণ, কত দিন পুরোনো, আর পরিমাণের ওপর; দেশে আতর প্রায়ই তোলা হিসেবে বিক্রি হয়। বিক্রেতাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন পণ্যটি খাঁটি আগর তেল, মিশ্রণ, নাকি উদের আদলে তৈরি সুগন্ধি, আর কোথায় পাতন করা হয়েছে। বড়লেখা বা মৌলভীবাজারের অন্য এলাকার বিক্রেতা প্রক্রিয়াটি বুঝিয়ে বলতে পারার কথা। বেশি কেনার আগে ছোট এক শিশি দিয়ে শুরু করুন। পোড়ানোর জন্য আগর কাঠের টুকরাও বিক্রি হয়, সেগুলোর মান ঠিক হয় কাঠ কতটা ঘন আর রজনে ভরা তার ওপর।
মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি চার্জ ঠিক করে নেয়, তাই দুই বিক্রেতার আতর মানে দুটি পার্সেল, দুবার চার্জ। মিডমার্ট কখনো টাকা রাখে না বা কুরিয়ারের ব্যবস্থা করে না; দুটোই আপনি বিক্রেতার সঙ্গে মিটিয়ে নেবেন। ছোট কাচের শিশি পথে যাতে চুইয়ে না পড়ে বা না ভাঙে, সেজন্য কীভাবে প্যাক করা হবে জেনে নিন।
কীভাবে রাখবেন
আতর শক্ত করে মুখ আটকানো কাচের শিশিতে, খাড়া করে, রোদ আর তাপ থেকে দূরে ঠান্ডা অন্ধকার ড্রয়ারে রাখুন। ভালো আগর তেল বহু বছর ভালো থাকে, আর অনেক ব্যবহারকারীর মতে পুরোনো হলে গন্ধ আরও মোলায়েম হয়। আগর কাঠের টুকরা মুখবন্ধ বাক্সে রাখুন, যাতে শুকিয়ে না যায় বা অন্য গন্ধ না টানে।
মিডমার্টে মৌলভীবাজারের আগর ও আগর-আতর খুঁজুন
যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান
মৌলভীবাজার থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।
মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।
ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুনমৌলভীবাজারের আগর ও আগর-আতর নিয়ে প্রশ্ন
আরও বিখ্যাত পণ্য
তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা
- The Daily Star: Agar-attar industry in trouble for higher cost of production
- Wikipedia (Bangla): মৌলভীবাজারের আগর আতর
- Ajker Patrika: জামালপুরের নকশিকাঁথাও জিআই পণ্য, সংখ্যা বেড়ে ৩১ (16 February 2024)
- Wikipedia: Barlekha Upazila
- মৌলভীবাজারে ফুল ফোটা একটি আগর গাছ — ছবি: Abul Hossain · CC BY-SA 4.0 (উৎস, CC BY-SA 4.0)
English
বাংলা