গল্পটা
খন্ডল কোনো শহর নয়, পরশুরাম উপজেলার একটি ছোট গ্রামীণ বাজার, খন্ডল হাট। ফেনী শহর থেকে মোটামুটি ২৫ কিলোমিটার দূরে, ভারত সীমান্তের কাছে। এমন নিরিবিলি জায়গার নামেই চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্যতম পরিচিত মিষ্টি, এটাই এর মজা। স্থানীয় মানুষ আর সংবাদমাধ্যমে যে গল্প চলে, তা স্বাধীনতার কাছাকাছি সময়ের। কুমিল্লার যোগল চন্দ্র দাস নামে এক ময়রা খন্ডলে এসে উচ্চবিদ্যালয়ের কাছে একটি ছোট দোকানে কাজ নেন। বলা হয় তিনি কয়েক ডজন রকমের মিষ্টি বানাতে জানতেন, তবে রসে ডোবানো তাঁর ছানার গোল মিষ্টির টানেই মানুষ দূর থেকে হাটে আসতে শুরু করে। সবাই চাইত "খন্ডলের মিষ্টি", আর সেই নামই থেকে গেল।
ঠিক কোন বছর শুরু, তা নিয়ে সূত্রগুলো একমত নয়; কেউ বলেন ষাটের দশকের শেষ, কেউ সত্তরের দশকের শেষ ভাগ। এটুকু পরিষ্কার যে যোগল চন্দ্র দাস চলে যাওয়ার পর তাঁর শিষ্যরা রেসিপি ধরে রাখেন। তাঁদের একজন কবির আহমদ পাটোয়ারী, যাঁর পরিবার এখনো আদি কারিগর হিসেবে সবচেয়ে বেশি উল্লেখ হওয়া দুটি দোকানের একটি চালায়। দশকের পর দশক ধরে আত্মীয়স্বজন আর প্রবাসীরা এই মিষ্টি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, এমনকি আফ্রিকাতেও নিয়ে গেছেন।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফেনী জেলা প্রশাসন খন্ডলের মিষ্টিকে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের আবেদনের জন্য বেছে নেয়। ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন জমা পড়ে পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল। নিবন্ধন না মেলা পর্যন্ত এটি জিআই পণ্য নয়, আর বাক্সে "খন্ডল" লেখা থাকলেই তা আইনি নিশ্চয়তা নয়।
আসল খন্ডলের মিষ্টি চিনবেন কীভাবে
গরুর দুধের ছানার সঙ্গে সামান্য ময়দা মেখে গোল্লা বানানো হয়, যাতে ভেঙে না যায়, তারপর অনেকক্ষণ চিনির রসে জ্বাল দেওয়া হয়। ফলে পাতলা রসে ভাসা ক্রিম-সাদা থেকে হালকা হাতির দাঁত রঙের গোল্লা, ঢাকার স্পঞ্জ রসগোল্লার চেয়ে একটু শক্ত আর ঘন, স্বাদে পরিষ্কার দুধের ভাব, টক নেই। কারিগরেরা জোর দিয়ে বলেন, টাটকা ছানা, ময়দা আর চিনি ছাড়া এতে কিছু দেওয়া হয় না। এর একটা আলাদা বৈশিষ্ট্য হলো, কড়াই থেকে নামানো গরম অবস্থায়ও খাওয়া হয়, ঠান্ডা করেও; খন্ডলের অনেক দোকান গরম পরিবেশন করে। রস খুব চটচটে, কামড়ে রাবারের মতো বা ময়দা-ময়দা ভাব, টক গন্ধ, কিংবা প্যাকেটে অস্বাভাবিক লম্বা মেয়াদ থাকলে বুঝবেন টাটকা জিনিস পাচ্ছেন না। খন্ডলের বাইরেও কয়েকটি দোকান এই নাম ব্যবহার করে, তাই কোথায় তৈরি জিজ্ঞেস করুন।
কেনার পরামর্শ
বিক্রেতার কাছে জানতে চান মিষ্টি খন্ডলেই তৈরি, নাকি ফেনীর অন্য কোথাও, কখন বানানো হয়েছে, আর রসসহ কিনছেন নাকি রস ঝরিয়ে। রসসহ মিষ্টির ওজন বেশি, তাই রসসহ আর রস ছাড়া কেজিপ্রতি দাম আলাদা; তুলনা করার সময় একই রকম জিনিসের সঙ্গে তুলনা করুন। কীভাবে প্যাক হবে (কুরিয়ারের জন্য কার্টনের ভেতরে মুখবন্ধ প্লাস্টিকের বাক্স বা টিনই নিরাপদ) আর আপনার এলাকায় পৌঁছাতে কত দিন লাগবে, তা-ও জেনে নিন। টাটকা দুধের মিষ্টি বলে গরমের দিনে এক-দুই দিনের বেশি যাত্রা সত্যিকারের ঝুঁকি।
মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি চার্জ নিজে ঠিক করে, তাই দুই দোকান থেকে নিলে দুটি পার্সেল, দুটি চার্জ। মিডমার্ট টাকা নেয় না, কুরিয়ারের ব্যবস্থাও করে না; দুটোই আপনি আর বিক্রেতা সরাসরি ঠিক করবেন। কোনো পণ্য খন্ডলের আদি কারিগরদের কি না, মিডমার্ট তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তাই ওপরের প্রশ্নগুলো বিক্রেতাকে করুন, পরিষ্কার উত্তর পেলে তবেই কিনুন।
কীভাবে রাখবেন
মিষ্টি রসসহ ঢাকনাওয়ালা পাত্রে ফ্রিজে রাখুন, তিন-চার দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলুন। খন্ডলের কায়দায় খেতে চাইলে কয়েকটি রসসহ হালকা আঁচে গরম করে নিন, নইলে ঠান্ডাই খান। রস ঘোলা হয়ে গেলে বা টক গন্ধ এলে ফেলে দিন।
মিডমার্টে খন্ডলের মিষ্টি খুঁজুন
মিডমার্টে “খন্ডলের মিষ্টি” খুঁজুন
যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান
ফেনী থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।
মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।
ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন
English
বাংলা