বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

বাংলাদেশের বিখ্যাত পণ্য

নেত্রকোনার বালিশ মিষ্টি

বালিশের মতো দেখতে নেত্রকোনার রসের মিষ্টি, শতবর্ষ আগে বারহাট্টা রোডে যার শুরু

বালিশ মিষ্টি ছানা আর ময়দার বড় লম্বাটে মিষ্টি, ভেজে রসে ডুবিয়ে ওপরে ঘন দুধের মালাই দিয়ে পরিবেশন করা হয়। নেত্রকোনা শহরের গয়ানাথ ঘোষ প্রথম এটি তৈরি করেন, আর ২০২৫ সালে এটি জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পায়।

যেখান থেকে
নেত্রকোণা
মৌসুম
সারা বছর
GI
জিআই নিবন্ধন ২০২৫
খাদ্যমেলায় প্লাস্টিকের বাক্সে স্বচ্ছ চিনির রসে ডুবে থাকা বড় লম্বাটে বালিশ মিষ্টি
রসে ডোবানো আস্ত বালিশ মিষ্টি, ঐতিহ্যের হাট ২০২৫-এ ছবি: Tanvir Rahat · CC BY-SA 4.0

গল্পটা

নেত্রকোনায় মিষ্টির কথা উঠলে প্রায় সবার মুখে আসে গয়ানাথের বালিশের নাম। এই মিষ্টির জনক হিসেবে ধরা হয় নেত্রকোনা শহরের বারহাট্টা রোডের মিষ্টির কারিগর গয়ানাথ ঘোষকে, যিনি শতবর্ষেরও বেশি আগে প্রথম এটি বানিয়েছিলেন বলে জানা যায়। লম্বা, ফোলা, গোলচে গড়নটা দেখতে পাশবালিশের মতো, আর প্রচলিত গল্প হলো ক্রেতারাই এর নাম দেন বালিশ। স্থানীয় ছড়ায়ও এর উল্লেখ আছে, আর জেলার প্রায় সব মিষ্টির দোকান এখন নিজেদের বালিশ বানালেও নেত্রকোনার মানুষ একে এখনো গয়ানাথের বালিশ বলেই ডাকেন।

দেশভাগের সময় পরিবারের অনেকে চলে গেলেও গয়ানাথ ঘোষ নেত্রকোনায় থেকে যান। ষাটের দশকে দোকানের দায়িত্ব যায় তাঁর প্রধান কারিগরের হাতে, মোদক পরিবারের সেই উত্তরসূরিরাই তখন থেকে গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভান্ডার চালাচ্ছেন। মূল পদ্ধতি সবার জানা: গরুর দুধের ছানা ময়দার সঙ্গে মেখে মণ্ড বানিয়ে বালিশের আকার দেওয়া হয়, ডুবো তেলে ভেজে লম্বা সময় গরম চিনির রসে ভিজিয়ে রাখা হয়। পরিবেশনের আগে ওপরে দেওয়া হয় মালাই বা ক্ষীরের পুরু স্তর। তবে কারিগরেরা কিছু খুঁটিনাটি গোপন রাখেন। একজনের খাওয়ার মতো ছোট থেকে শুরু করে পাঁচ-ছয়জনে ভাগ করে খাওয়ার মতো বড় বালিশও পাওয়া যায়, বিয়ে আর আত্মীয়বাড়িতে বড় বালিশ নিয়ে যাওয়ার চল বেশ পুরোনো।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসন ২০২৩ সালে জিআই সুরক্ষার আবেদন করে। পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে বালিশ মিষ্টিকে দেশের ৫৮তম জিআই পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করে, আর সনদ হস্তান্তর হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে।

আসল নেত্রকোনার বালিশ মিষ্টি চিনবেন কীভাবে

ভালো বালিশ ভেতর পর্যন্ত নরম ও স্পঞ্জের মতো, রসে পুরো ভেজা অথচ গলে বা নেতিয়ে পড়ে না। বাইরের রং হালকা বাদামি, ভেতরটা ফ্যাকাশে আর মিহি দানার। ওপরের মালাই হবে ঘন, ক্রিমের মতো, জ্বাল দেওয়া দুধের স্বাদে ভরা। মাঝখানটা শক্ত বা কাঁচা মণ্ডের মতো, পুরোনো তেলের গন্ধ, টক ভাব কিংবা পাতলা পানসে মালাই থাকলে বুঝবেন মিষ্টিটি নিম্নমানের বা বাসি। এখন অনেক দোকানই বালিশ বানায়; গয়ানাথের দোকানের রেসিপির স্বাদ চাইলে কোথা থেকে কেনা তা বিক্রেতার কাছে জেনে নিন, আর মনে রাখবেন প্রতিবেদন অনুযায়ী আদি দোকানটি কেবল নেত্রকোনা শহরের নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র থেকেই বিক্রি করে।

কেনার পরামর্শ

বালিশ রসে ডুবিয়ে পাঠাতে হয়, তাই প্যাকেজিং খুব জরুরি: মুখবন্ধ, রস চুইয়ে পড়ে না এমন বাক্স চান, আর মালাই আলাদা করে প্যাক হবে কি না জিজ্ঞেস করুন। কবে বানানো, কোন সাইজ পাচ্ছেন আর ডেলিভারিতে কত সময় লাগবে, তা আগেই জেনে নিন; এক-দুই দিনের বেশি পথে থাকলে ঝুঁকি বাড়ে। মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি নিজে করে ও চার্জ নেয়, তাই আলাদা দোকান থেকে কিনলে একাধিক ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে। মিডমার্ট কোনো টাকা নেয় না, কিছু পাঠায়ও না; টাকা পরিশোধ আর কুরিয়ারের বিষয় বিক্রেতা আপনার সঙ্গে সরাসরি ঠিক করেন।

কীভাবে রাখবেন

বালিশ মিষ্টি রসসহ ঢাকনাওয়ালা পাত্রে ফ্রিজে রাখুন, দুই-তিন দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলুন; ওপরের মালাই মিষ্টির চেয়ে আগে নষ্ট হয়। পরিবেশনের কিছুক্ষণ আগে বের করে রাখলে রস একটু পাতলা হয়ে আসে। রস ঘোলা হয়ে গেলে বা টক গন্ধ এলে আর খাবেন না।

মিডমার্টে নেত্রকোনার বালিশ মিষ্টি খুঁজুন

মিডমার্টে “বালিশ মিষ্টি” খুঁজুন

যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান

নেত্রকোণা থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

নেত্রকোনার বালিশ মিষ্টি নিয়ে প্রশ্ন

মিষ্টিটি লম্বা, ফোলা আর গোলচে, দেখতে পাশবালিশের মতো। শোনা যায় ক্রেতারাই এর নাম দেন বালিশ।

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা