বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

রাজশাহী বিভাগ · বাংলাদেশ

নাটোর

রানী ভবানীর রাজবাড়ি, চলনবিল আর কাঁচাগোল্লার নাটোর

নাটোর ও দিঘাপতিয়া রাজাদের রাজবাড়ি, চলনবিলের জলাভূমি, কাঁচাগোল্লা আর ভেষজ উদ্ভিদ চাষের গ্রামের জন্য পরিচিত রাজশাহী বিভাগের জেলা নাটোর।

আয়তন
১,৯০০ বর্গকিমি
জনসংখ্যা (২০২২)
১,৮৫৯,৯২২
উপজেলা
৭
ইউনিয়ন
৫২
জেলা গঠন
১৯৮৪
সাক্ষরতা
৭১.৫%
মেঘলা আকাশের নিচে নাটোর রাজবাড়ির কারুকাজ করা প্রাসাদ ভবন
নাটোর রাজবাড়ি, রানী ভবানীর জমিদারি ছবি: Nur-E-Saud · CC BY-SA 4.0

নাটোর সম্পর্কে

নাটোর রাজশাহী আর বগুড়ার মাঝখানে, যমুনা সেতু থেকে উত্তর-পশ্চিমে যাওয়ার প্রধান সড়কের ওপর। দক্ষিণে লালপুরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মা। বড়াল, নন্দকুজা, আত্রাই আর গুড় নদী সিংড়া ও গুরুদাসপুরের নিচু এলাকায় পানি আনে। এই এলাকার বড় অংশই দেশের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ জলাভূমি চলনবিলের অংশ। বছরের অর্ধেক সময় এটি মাছ ধরার নৌকায় ভরা বিশাল জলরাশি, বাকি অর্ধেক সময় ধান আর সরিষার মাঠ।

অনেক বাংলাদেশি নাটোরের নাম প্রথম চেনেন এক লাইন কবিতা থেকে: জীবনানন্দ দাশের "নাটোরের বনলতা সেন"। শহরও নামটি আপন করে নিয়েছে, দোকান আর ভবনে বনলতার নাম চোখে পড়ে। নাটোর ছিল বাংলার সবচেয়ে বড় জমিদারিগুলোর একটির কেন্দ্র, আর সেই রাজবাড়িগুলোই এখনো দর্শনার্থীদের আসার প্রধান কারণ। ২০১৩ সালে নাটোর সদর ভেঙে নলডাঙ্গা উপজেলা হয়, ফলে জেলায় এখন সাতটি উপজেলা।

ইতিহাস

আঠারো শতকের শুরুতে মুর্শিদকুলী খানের অধীনের রাজস্ব কর্মকর্তা রামজীবন নাটোর রাজ প্রতিষ্ঠা করেন। পরে এই জমিদারি উত্তর ও মধ্য বাংলার বিশাল অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এর সবচেয়ে বিখ্যাত শাসক রানী ভবানী। আঠারো শতকের মাঝামাঝি কয়েক দশক তিনি জমিদারি পরিচালনা করেন, আর বাংলাজুড়ে মন্দির, রাস্তা ও দিঘি নির্মাণের জন্য আজও স্মরণীয়। ব্রিটিশরা নাটোরকে আদি রাজশাহী জেলার সদর করে, তবে ১৮২৫ সালে সদর সরিয়ে নেয় রামপুর বোয়ালিয়ায়, আজকের রাজশাহী শহরে। ১৮৪৫ সালে নাটোর মহকুমা আর ১৯৮৪ সালে জেলা হয়।

রামজীবনের দেওয়ান দয়ারাম রায় প্রতিষ্ঠিত দিঘাপতিয়া রাজ যে প্রাসাদ তৈরি করেছিল, সেটিই এখন উত্তরা গণভবন, উত্তরবঙ্গে সরকারপ্রধানের দাপ্তরিক বাসভবন। ১৮৫৯–৬০ সালে ইউরোপীয় নীলকরদের বিরুদ্ধে নীল প্রতিরোধ আন্দোলনে এই জেলাও শামিল ছিল। ১৯৭১ সালে নাটোর, লালপুর ও ময়নায় বড় যুদ্ধ আর হত্যাকাণ্ড ঘটে।

ঝোপের বেড়ার পেছনে উত্তরা গণভবনের লাল-সাদা খিলানওয়ালা সম্মুখভাগ
উত্তরা গণভবন (দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি) ছবি: Khalidrahman · CC BY-SA 4.0

অর্থনীতি ও জীবিকা

বেশির ভাগ পরিবার কৃষিকাজে যুক্ত। ধান, গম, আখ, রসুন, পেঁয়াজ আর ডাল প্রধান ফসল, আর চলনবিল এলাকা থেকে প্রচুর মিঠাপানির মাছ আসে। এখানে দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল চালু আছে: নাটোর চিনিকল আর লালপুরের গোপালপুরে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস। একটি বড় বেসরকারি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাও আছে। নাটোরের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী শিল্প ভেষজ চাষ। নব্বইয়ের দশক থেকে নাটোর সদরের লক্ষ্মীপুর-খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের কৃষকেরা অ্যালোভেরা, অশ্বগন্ধা, শতমূলীসহ প্রায় ১৪০ রকম ঔষধি গাছের চাষ করছেন, তাই এলাকাটির নাম হয়েছে "ঔষধি গ্রাম"।

খাবার, সংস্কৃতি ও উৎসব

কাঁচাগোল্লা না খেলে নাটোর ভ্রমণ পূর্ণ হয় না। নামে গোল্লা হলেও এটি আসলে গোল নয়: টাটকা ছানা হালকা আঁচে চিনির সঙ্গে পাক করে ঝুরঝুরে অবস্থায় পরিবেশন করা হয়। স্থানীয় ময়রারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম এটি বানিয়ে আসছেন। বর্ষায় চলনবিলের মানুষের নৌকাবাইচ বিখ্যাত, আর বর্ষাকালে মাছ ধরার সরঞ্জামের হাট জমজমাট থাকে। কথ্য ভাষা রাজশাহীর কাছাকাছি উত্তরবঙ্গীয় ধাঁচের।

নাটোর-এর দর্শনীয় স্থান

  1. নাটোর রাজবাড়ি (রানী ভবানীর রাজবাড়ি)

    শহরের কিনারে নাটোর রাজাদের জমিদারি এলাকা। পার্কের মতো বিশাল চত্বরে কয়েকটি প্রাসাদ ভবন, মন্দির আর বড় বড় পুকুর। হাঁটার জন্য শান্ত জায়গা, আর মূল ভবনগুলো রাজের আঠারো ও উনিশ শতকের স্বর্ণযুগের।

  2. উত্তরা গণভবন (দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি)

    শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে পরিখা আর প্রাচীরঘেরা বাগানের ভেতরে দিঘাপতিয়া রাজাদের প্রাসাদ। এখন এটি সরকারি দাপ্তরিক বাসভবন, তবে নির্দিষ্ট সময়ে চত্বর, বাগান আর জাদুঘর দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে।

  3. চলনবিল

    বর্ষায় সিংড়া আর গুরুদাসপুরের চারপাশের জলাভূমি বিশাল হ্রদে পরিণত হয়। সূর্যাস্ত আর জেলেপাড়া দেখতে নৌকা ভাড়া নিন, আর শুকনো মৌসুমে বিলের ওপর দিয়ে ডুবো সড়কে গাড়ি চালিয়ে যান।

  4. লক্ষ্মীপুর-খোলাবাড়িয়া ঔষধি গ্রাম

    নাটোর সদরের কয়েকটি গ্রামজুড়ে অ্যালোভেরা আর অন্যান্য ঔষধি গাছের খেত। ব্যতিক্রমী এক খামার ভ্রমণ, আর চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ভেষজ কেনা যায়।

  5. লালপুর ও পদ্মা

    পদ্মাতীরের এই উপজেলাকে প্রায়ই বাংলাদেশের সবচেয়ে শুষ্ক এলাকাগুলোর একটি বলা হয়। এখানে নদীর চর আর পুরোনো নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস দেখা যায়।

নাটোর যে জন্য বিখ্যাত

নাটোর কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে নাটোর প্রায় ২২০ কিলোমিটার। যমুনা সেতু ও বনপাড়া মোড় হয়ে বাসে মোটামুটি ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লাগে। গাবতলী ও মহাখালী থেকে বাস ছাড়ে, আর রাজশাহীগামী কোচও নাটোর হয়ে যায়। ঢাকা ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেন নাটোর স্টেশনে থামে, আর লালপুরের আবদুলপুর জংশন একটি রেল কেন্দ্র। রাজশাহী বিমানবন্দর সড়কপথে প্রায় এক ঘণ্টার পথ।

হাট ও বাজার

চাঁচকৈড় হাট, গুরুদাসপুর
চলনবিলের কাছে প্রতি মঙ্গল ও শনিবার বসে। খলশুনের মতো বাঁশের মাছ ধরার ফাঁদ আর অন্যান্য সরঞ্জামের জন্য বিখ্যাত, মৌসুমে টাটকা মাছও মেলে।
খোলাবাড়িয়ার ভেষজ বাজার
লক্ষ্মীপুর-খোলাবাড়িয়ার স্থানীয় ব্যবসায়ী আর চাষিরা দেশের নানা প্রান্তের ভেষজ ওষুধ প্রস্তুতকারকদের কাছে কাঁচা ও শুকনো অ্যালোভেরাসহ নানা ঔষধি গাছ বিক্রি করেন।
নাটোর শহরের মিষ্টির দোকান ও বাজার
শহরকেন্দ্রের পুরোনো মিষ্টির দোকান থেকেই দর্শনার্থীরা কাঁচাগোল্লা কেনেন, আর প্রতিদিনের বাজারে চলনবিলের মাছ পাওয়া যায়।

এক নজরে নাটোর

এক নজরে নাটোর

মিডমার্টে নাটোর-এর দোকান

নাটোর থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে বিক্রি করছে না।

নাটোর-এর দোকান থেকে কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

নাটোর নিয়ে প্রশ্ন

রানী ভবানীর নাটোর রাজবাড়ি, উত্তরা গণভবন, চলনবিল, কাঁচাগোল্লা, ঔষধি গ্রাম আর "বনলতা সেন" কবিতা।

নাটোর-এ কিছু বানান বা ফলান?

বিনামূল্যে দোকান খুলুন আর সারা বাংলাদেশের ক্রেতার কাছে বিক্রি করুন। কোনো কমিশন বা লিস্টিং ফি নেই — ক্রেতা সরাসরি আপনাকে টাকা দেন, কুরিয়ার বেছে নেন আপনি।

নাটোর থেকে অনলাইনে বিক্রি করুন

রাজশাহী বিভাগের আরও জেলা

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা

সংখ্যাগুলো নিচের তথ্যসূত্র থেকে নেওয়া। আলাদা করে বলা না থাকলে জনসংখ্যার তথ্য ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা থেকে।