বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

বাংলাদেশের বিখ্যাত পণ্য

বগুড়ার দই

মাটির সরায় জমানো ঘন, মিষ্টি দই, জন্ম শেরপুরে

বগুড়ার দই জ্বাল দেওয়া ঘন দুধ আর চিনিতে মাটির সরায় ধীরে জমানো মিষ্টি দই। এর শুরু শেরপুর উপজেলায়, খ্যাতি বগুড়া শহর থেকে। ২০২৩ সালের জুনে এটি জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হয়।

যেখান থেকে
বগুড়া
মৌসুম
সারা বছর
GI
জিআই নিবন্ধন ২০২৩
দোকানের তাকে বাঁশের চটিতে বাঁধা মাটির সরায় সারি সারি বগুড়ার দই
নিয়ে যাওয়ার জন্য সাজিয়ে রাখা সরার দই ছবি: Sm faysal · CC BY-SA 4.0

গল্পটা

বগুড়ার দইয়ের ইতিহাস সাধারণত খুঁজে পাওয়া যায় শেরপুরের ঘোষ পরিবারগুলোর কাছে। কে প্রথম বানিয়েছিলেন, তা নিয়ে নানা মত আছে। বগুড়া রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির জিআই আবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৫০ বছর আগে নীলকণ্ঠ ঘোষের হাতে শেরপুরে এই দই তৈরির শুরু; আবার কোনো কোনো স্থানীয় বিবরণে আরও পুরোনো সময়ের কথা আর ঘেটু ঘোষের নাম আসে। সব বিবরণেই মিল একটি জায়গায়: শুরুটা হয়েছিল সাধারণ টক দই দিয়ে, পরে তা হয়ে ওঠে আজকের গাঢ় রঙের মিষ্টি দই।

শেরপুর থেকে বগুড়া শহরে এই দই নিয়ে আসার কৃতিত্ব দেওয়া হয় গৌর গোপাল পালকে (কেউ কেউ লেখেন গৌর গোপাল ঘোষ)। বলা হয়, বগুড়ার নবাব পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি দই বানাতেন, আর নবাববাড়ী সড়কে তাঁর বংশধরেরা এখনো দোকান চালান। শোনা যায়, ১৯৩৮ সালে বগুড়ার দই ইংল্যান্ডেও পাঠানো হয়েছিল। স্বাধীনতার পর বাঘোপাড়ার মতো এলাকার মুসলমান কারিগরেরাও নাম করেন। এখন জেলাজুড়ে কয়েক শ কারখানায় দই হয়, তবে শেরপুর, বগুড়া শহর আর মাঝের মহাসড়কের দোকানগুলোই এর মূল ঠিকানা।

পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর ২০২৩ সালের জুনে বগুড়ার দইকে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে নিবন্ধন দেয়। দেশের প্রথম দিকের খাদ্য জিআইগুলোর একটি এটি।

আসল বগুড়ার দই চিনবেন কীভাবে

ভালো বগুড়ার দই জমানো হয় চকচকে প্রলেপহীন মাটির সরা বা হাঁড়িতে। মাটি বাড়তি পানি টেনে নেয়, তাই দই থাকে ঘন। ওপরে সাধারণত হালকা বাদামি, একটু পোড়া-মিষ্টি সর থাকে, আর ভেতরটা ধবধবে সাদা নয়, ক্রিম বা হালকা বাদামি, কারণ চিনি দেওয়ার আগে দুধ অনেকক্ষণ জ্বাল দেওয়া হয়। সরা কাত করলে দই জায়গা ছাড়বে না, ওপরে পানি জমে থাকবে না বললেই চলে। গন্ধ হবে জ্বাল দেওয়া দুধের, ঝাঁঝালো বা কৃত্রিম কিছুর নয়। একই কারিগরদের টক দই সাদা ও চিনিছাড়া; দুটোই খাঁটি বগুড়ার পণ্য, তাই কোনটি অর্ডার করছেন তা জেনে নিন। দোকানের সাইনবোর্ডে "বগুড়ার দই" লেখা থাকলেই তা বগুড়ার নয়; ঢাকাসহ সারা দেশে এই নাম ব্যবহার হয়।

কেনার পরামর্শ

দই জীবন্ত দুগ্ধজাত খাবার, বেশি দূর যাত্রা সহ্য করে না। কারিগরেরাই বলেন, জমানোর পর মোটামুটি এক দিনের মধ্যে খাওয়াই ভালো। তাই কয়েক শ কিলোমিটার দূরের শহরে পাঠাতে হলে রাতের বা একই দিনের পরিবহন লাগবে। অর্ডারের আগে বিক্রেতার কাছে জেনে নিন দই আসলে কোথায় তৈরি (শেরপুর, বগুড়া শহর নাকি অন্য কোথাও), কবে জমানো, কুরিয়ারের জন্য সরা কীভাবে মুখ বেঁধে মোড়ানো হবে, আর পৌঁছাতে কত ঘণ্টা লাগবে। দাম মূলত নির্ভর করে সরার আকার, দুধের মান আর মিষ্টি না টক দই নিচ্ছেন তার ওপর।

মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজের পণ্য নিজে বিক্রি ও পাঠায়, ডেলিভারি চার্জও নিজেই ঠিক করে। এক দোকান থেকে দই আর আরেক দোকান থেকে মিষ্টি নিলে দুটি আলাদা পার্সেল, দুটি আলাদা চার্জ। মিডমার্ট টাকা নেয় না, ডেলিভারিও করে না; দাম পরিশোধ আর পাঠানোর ব্যবস্থা বিক্রেতার সঙ্গে সরাসরি ঠিক করবেন। মিডমার্ট কোনো দোকানকে জিআই সনদপ্রাপ্ত বলে নিশ্চয়তা দেয় না, তাই উৎস আর টাটকা থাকা নিয়ে বিক্রেতা কী বলছেন, সেটাই যাচাই করুন।

কীভাবে রাখবেন

হাতে পাওয়ামাত্র সরা ঢেকে ফ্রিজে রাখুন, আর দুই-তিন দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলুন। ফ্রিজারে জমাবেন না, গরম ঘরে ফেলে রাখবেন না; তাতে দই টকে গিয়ে পানি ছাড়বে। প্রতিবার পরিষ্কার শুকনো চামচ ব্যবহার করলে বাকি দই ভালো থাকে।

মিডমার্টে বগুড়ার দই খুঁজুন

মিডমার্টে “দই” খুঁজুন

যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান

SUMU ART নতুন বগুড়া
এখনো কোনো রিভিউ নেই

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

বগুড়ার দই নিয়ে প্রশ্ন

শুরু বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায়, পরে খ্যাতি ছড়ায় বগুড়া শহর থেকে। দুটোই জিআই এলাকার অংশ।

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা