গল্পটা
রাস্তার দোকানের সাধারণ জিলাপি গাঁজানো ময়দার খামিরের মচমচে প্যাঁচ। ছানার জিলাপি তার কাছ থেকে নিয়েছে শুধু আকারটা। এর খামির টাটকা ছানা, রসগোল্লা আর সন্দেশের সেই নরম ছানা, ভালো করে মসৃণ করে মাখা, সাধারণত সামান্য ময়দা বা সুজি মিশিয়ে বাঁধা। খামির মোটা দড়ির মতো করে ঢিলেঢালা প্যাঁচ বা আটের মতো আকার দেওয়া হয়, ঘি বা তেলে ভাজা হয় যতক্ষণ না ওপরটা গাঢ় লালচে বাদামি হয়, তারপর চিনির রসে ডুবিয়ে রাখা হয়। ফলে বাইরে পাতলা, একটু শক্ত আবরণ আর ভেতরে নরম, রসাল, দুধেল; স্বভাবে মচমচে জিলাপির চেয়ে পান্তুয়ার অনেক কাছাকাছি।
খাদ্য-লেখকেরা একে বাংলার ছানার মিষ্টির মধ্যে "কুলীন" মিষ্টি বলেন, আর ধারণা করা হয় এর জন্ম শহরের দোকানে নয়, গ্রামবাংলার ময়রার হাতে। অনেক জেলায়, পশ্চিমবঙ্গেও এটি তৈরি হয়, তাই কোনো একটি জায়গার একার সম্পদ নয়। তবে বাংলাদেশে দুটি নাম বারবার উঠে আসে: সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর আর দক্ষিণ-পশ্চিমের গোপালগঞ্জ। দুধের জিনিসের জন্য পরিচিত গোপালগঞ্জে ছানার জিলাপি রসগোল্লার পাশাপাশি স্থানীয় দোকানগুলোর সবচেয়ে গর্বের মিষ্টি। অতিথি আপ্যায়নে দেওয়া হয়, আত্মীয়বাড়ি যাওয়ার সময় উপহার হিসেবে নেওয়া হয়, বিয়ে বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কেনা হয় বেশি করে।
অনেক ভাজা মিষ্টির মতো রমজানে ছানার জিলাপির কদর বিশেষ বাড়ে, সারা দেশের ইফতারের টেবিলে দেখা যায়। গোপালগঞ্জ ও আশপাশের কারিগরদের মুখে সেখানে কে প্রথম বানিয়েছিলেন তা নিয়ে নানা গল্প আছে, কিন্তু নির্ভরযোগ্য কোনো লিখিত তথ্য আমরা পাইনি, তাই উৎপত্তির প্রশ্নটা খোলাই রাখছি।
আসল ছানার জিলাপি চিনবেন কীভাবে
ভালো ছানার জিলাপি কয়েক সেন্টিমিটার চওড়া মোটা প্যাঁচ বা লুপ, গায়ে চকচকে লালচে বাদামি থেকে গাঢ় বাদামি রং, কখনো ওপরে চিনি ছিটানো থাকে। ভাঙলে ভেতরটা হবে ফ্যাকাশে, নরম, ছানার জন্য সামান্য দানাদার, রসে ভেজা কিন্তু গলে যাওয়া নয়। গন্ধে ঘি আর দুধ। ভেতরটা ধবধবে সাদা আর রাবারের মতো হলে, কিংবা স্বাদে শুধু ময়দা মনে হলে বুঝবেন ছানা কম পড়েছে। পাতলা, মচমচে, উজ্জ্বল কমলা প্যাঁচ হলে তা সাধারণ জিলাপি, ছানার জিলাপি নয়। টক বা পনিরের মতো গন্ধ মানে পুরোনো ছানা। মিষ্টিটি গোপালগঞ্জে তৈরি কি না, বাক্সের লেখা দিয়ে তা প্রমাণ হয় না; আসল যাচাই হলো বিক্রেতাকে করা প্রশ্ন আর হাতে পাওয়ার পর স্বাদ।
কেনার পরামর্শ
জিজ্ঞেস করুন ব্যাচটি কোথায় আর কখন ভাজা, ঘিয়ে নাকি তেলে (ঘিয়ে ভাজা বেশি সমৃদ্ধ, দামও সাধারণত বেশি), আর খামিরে ময়দার তুলনায় ছানা মোটামুটি কতটা। রসসহ আসবে নাকি রস ঝরিয়ে, কীভাবে প্যাক হবে, আপনার এলাকায় কুরিয়ারে কত সময় লাগবে, সেটাও জেনে নিন। টাটকা দুধের মিষ্টি বলে এক-দুই দিনের মধ্যে পৌঁছালে তবেই নিরাপদ; গরমের মাসে বিক্রেতাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন, এত দূরের যাত্রা আদৌ সম্ভব কি না।
মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি চার্জ ঠিক করে, কয়েকটি দোকান থেকে কিনলে আলাদা আলাদা পার্সেল, আলাদা চার্জ। মিডমার্ট টাকা নেয় না, কিছু পৌঁছেও দেয় না; দাম, পরিশোধ আর পাঠানোর ব্যবস্থা বিক্রেতা আর আপনি নিজেরাই ঠিক করবেন। কোনো পণ্য গোপালগঞ্জে তৈরি কি না, মিডমার্ট তা নিশ্চিত করতে পারে না, তাই পণ্যের শিরোনামের চেয়ে বিক্রেতার পরিষ্কার উত্তরের ওপর ভরসা করুন।
কীভাবে রাখবেন
ঘরের তাপমাত্রায় এক দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলুন, নয়তো ঢেকে ফ্রিজে দুই-তিন দিন রাখা যায়। খাওয়ার আগে কয়েক সেকেন্ড হালকা গরম করে নিলে নরম ভাব আর ঘিয়ের গন্ধ ফিরে আসে। টক গন্ধ এলে বা রস পিচ্ছিল হয়ে গেলে ফেলে দিন।
মিডমার্টে ছানার জিলাপি খুঁজুন
মিডমার্টে “ছানার জিলাপি” খুঁজুন
যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান
গোপালগঞ্জ থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।
মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।
ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন
English
বাংলা