গল্পটা
বাংলাদেশে গামছার মতো সাধারণ জিনিস খুব কমই আছে। কৃষক রোদ ঠেকাতে মাথায় পেঁচান, রিকশাচালক ঘাম মোছেন, আর প্রায় প্রতিটি ঘরে গোসলের পর গা মোছা হয় গামছায়। এটি আলগা বুননের এক টুকরো আয়তাকার সুতি কাপড়, সাধারণত লাল, সবুজ, নীল বা কমলা চেকে, সাদামাটা বা ডোরাকাটা পাড়সহ; এত হালকা যে ঘণ্টাখানেকে শুকিয়ে যায়, আর দাম এত কম যে প্রায়ই বদলানো যায়।
যমুনার পশ্চিম পাড়ের সিরাজগঞ্জ দেশের অন্যতম বড় তাঁতশিল্পের জেলা হয়ে ওঠে আঠারো-উনিশ শতকে নদীর ধারে তাঁতি পরিবারগুলো বসতি গড়ার পর। বেলকুচি, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, এনায়েতপুর আর কামারখন্দে ঘরে ঘরে তাঁত, আর শাহজাদপুর ও সোহাগপুরের কাপড়ের হাট দেশের সবচেয়ে বড় তাঁতবস্ত্রের পাইকারি বাজারগুলোর মধ্যে। উল্লাপাড়া আর বেলকুচির গামছার কদর বহুদিনের। ২০২৫ সালের এপ্রিলে সিরাজগঞ্জের গামছা ৩৬ নম্বর জিআই নিবন্ধন সনদ পায়।
গামছা বুনন শুধু সিরাজগঞ্জেই সীমিত নয়। নরসিংদীর বাবুরহাট বিশাল পাইকারি কাপড়ের বাজার, সেখানে প্রচুর গামছা তৈরি ও কেনাবেচা হয়; কুষ্টিয়ার কুমারখালীর তাঁতের ঐতিহ্য পুরোনো, এখানকার হাতে বোনা গামছার সুনাম আছে; আর পাবনার বেড়া ও সাঁথিয়া এলাকায় সিরাজগঞ্জের মতোই যমুনাপাড়ের বুননের চল। তবে এসব জেলায় এখন উৎপাদনের বড় অংশ হাতের তাঁত থেকে পাওয়ার লুমে চলে গেছে।
আসল সিরাজগঞ্জের গামছা চিনবেন কীভাবে
ভালো হাতে বোনা গামছা প্রথম ব্যবহার থেকেই নরম, পাতলা অথচ সমান বুননের, আর দ্রুত পানি শোষে। আলোর দিকে ধরে দেখুন: হাতের তাঁতের বুনন খোলামেলা, খানিক অসমান, চেকগুলোতেও সামান্য তারতম্য; পাওয়ার লুমের গামছা একেবারে নিখুঁত সমান, প্রায়ই ঘন আর শক্ত। দুই মাথা দেখুন: হাতে বোনা গামছায় সাধারণত ছোট ঝালর বা সাধারণ মোড়ানো সেলাই থাকে, কিনারাও মেশিনের মতো নিখুঁত নয়। সাদা কাপড়ে ভেজা কোনা ঘষে রং পরীক্ষা করুন, আর কোনাকুনি আলতো টেনে দেখুন কাপড় বেঁকে যায় কি না; আলগা, দুর্বল বুনন তাড়াতাড়ি পাতলা হয়ে যায়। কৃত্রিম সুতা মেশানো গামছা পিচ্ছিল লাগে, ভালো শোষে না; একটু ভিজিয়ে দেখলেই ধরা পড়ে।
কেনার পরামর্শ
দাম নির্ভর করে তুলার মান আর সুতার কাউন্ট, মাপ, হাতের তাঁত না পাওয়ার লুম, আর সেট হিসেবে বিক্রি কি না তার ওপর। বিক্রেতার কাছে জানতে চান গামছা কোথায় বোনা, হাতের তাঁতের কি না, আর ইঞ্চিতে সঠিক মাপ কত, কারণ মাপে অনেক তফাত থাকে। গামছা প্রায়ই কয়েকটির সেটে বিক্রি হয়, যা উপহার আর ঘরের মজুতের জন্য সুবিধাজনক।
মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি চার্জ ঠিক করে, তাই গামছা, লুঙ্গি, বিছানার চাদর এক দোকানে পেলে সেখান থেকেই নিন; তিন দোকান মানে তিনবার চার্জ। মিডমার্ট কখনো টাকা নেয় না, ডেলিভারিও দেয় না; দুটোই আপনি আর বিক্রেতা সরাসরি মিটিয়ে নেবেন। বেশি পরিমাণে কিনলে সংখ্যা, মাপ, রং আর কবে পৌঁছাবে, টাকা দেওয়ার আগে লিখিতভাবে ঠিক করে নিন।
কীভাবে রাখবেন
নতুন গামছা প্রথম এক-দুবার আলাদা করে ধোবেন, কারণ শুরুতে প্রায়ই রং ওঠে; প্রথম ধোয়ার পানিতে এক চিমটি লবণ দেওয়া ঘরোয়া পরিচিত কৌশল। ঠান্ডা বা কুসুম গরম পানি আর সাধারণ সাবান ব্যবহার করুন, রঙিন চেকে ব্লিচ দেবেন না। ছায়ায় বা হালকা রোদে শুকান, কড়া রোদে সময়ের সঙ্গে রং ফিকে হয়। ভাঁজ করার আগে পুরোপুরি শুকিয়ে নিন, কারণ স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ভেজা সুতিতে দ্রুত গন্ধ আর ছত্রাক ধরে।
মিডমার্টে সিরাজগঞ্জের গামছা খুঁজুন
যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান
নরসিংদী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।
মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।
ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুনসিরাজগঞ্জের গামছা নিয়ে প্রশ্ন
আরও বিখ্যাত পণ্য
তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা
- The Daily Star: Sirajganj's special weaves
- BSS: Industries adviser for enriching GI products commercially
- Dhaka Tribune: Gamchha industry in Sirajganj in dire straits
- Banglapedia: Baburhat
- Daily Observer: Kumarkhali, a potential textile hub, famous for lungi
- বাংলাদেশি গামছার চেনা খোলামেলা চেক সুতি বুনন — ছবি: Rokib_Khan · CC BY-SA 3.0 (উৎস, CC BY-SA 3.0)
English
বাংলা