গল্পটা
খাসি (বাংলাদেশে প্রায়ই খাসিয়া লেখা হয়) একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী, যাদের আদি নিবাস ভারতের মেঘালয়ের পাহাড় থেকে বৃহত্তর সিলেটের উত্তর-পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। বাংলাদেশে তাঁরা থাকেন পুঞ্জি নামের পাহাড়ি গ্রামে, প্রতিটি পুঞ্জির প্রধানকে বলা হয় মন্ত্রী। বেশির ভাগ পুঞ্জি মৌলভীবাজার জেলায়, কুলাউড়া, বড়লেখা, কমলগঞ্জ আর শ্রীমঙ্গলের আশপাশে; কিছু আছে সিলেট ও হবিগঞ্জেও। পানচাষ বহুকাল ধরে খাসি জীবনের কেন্দ্রে, অনেক পুঞ্জিতে এটিই আয়ের প্রধান উৎস।
খাসিয়া পানকে আলাদা করেছে এর চাষের ধরন। সমতলের চাষিরা পান তোলেন বাঁশ-খড়ের নিচু ঘেরা বরজে। খাসি চাষিরা পাহাড়ের ঢালে উঁচু গাছের গোড়ায় লতা লাগিয়ে দেন, লতা গাছের গুঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠে; ফলে পানের বাগানটা আসলে যত্নে রাখা এক টুকরা বন, যাকে বলে পানজুম। পুরুষেরা বাঁশের মই বেয়ে গাছে উঠে পান তোলেন, নারীরা ধুয়ে, বাছাই করে, গুছিয়ে আঁটি বাঁধেন; বাঙালি ব্যবসায়ীরা পুঞ্জিতে এসেই সেই পান কিনে নেন। যাঁরা পুঞ্জি ঘুরে লিখেছেন, তাঁরা বলছেন এই চাষপদ্ধতির কারণেই পাহাড় সবুজ থাকে, ছড়ার পানি থাকে পরিষ্কার।
তবে এই জীবনধারা ভঙ্গুর। অনেক পুঞ্জি চা-বাগানের কাছ থেকে উপ-ইজারা নেওয়া জমিতে বা বনভূমিতে, আর পত্রিকায় বারবার খবর এসেছে, বিরোধের জেরে পানের লতা আর লতা বয়ে চলা গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। লতার রোগ আর খরাও অনেক পরিবারকে পুঞ্জি ছাড়তে বাধ্য করে। খাসিয়া পান কেনা মানে দেশের একটি ছোট জনগোষ্ঠীর হাতের ফসল কেনা।
আসল খাসিয়া পান চিনবেন কীভাবে
রাজশাহী বা মহেশখালীর নরম মিষ্টি পানের তুলনায় খাসিয়া পানকে সাধারণত বড়, মজবুত পাতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়; রং গাঢ় সবুজ, শিরা স্পষ্ট, স্বাদ বেশি ঝাঁঝালো। সিলেটের অনেক পানপ্রেমী এই কারণেই একে পছন্দ করেন। টাটকা পাতা মচমচে আর চকচকে, বোঁটার মাথা সবুজ ও ভেজা। হলদেটে ভাব, কালো দাগ, নেতানো কিনারা বা টক গন্ধ মানে পান পুরোনো হয়ে গেছে। খাসিয়া পানের কোনো সনদ নেই, অন্য জায়গার পানও এই নামে বিক্রি হতে পারে। তাই উৎস নির্ভর করে বিক্রেতা কী বলতে পারেন তার ওপর: কোন পুঞ্জি বা উপজেলা, আর তিনি সরাসরি খাসি চাষিদের কাছ থেকে কেনেন কি না।
কেনার পরামর্শ
জিজ্ঞেস করুন পান কোথাকার, কবে তোলা, প্রতি আঁটিতে কয়টি পাতা আর আকার অনুযায়ী বাছাই করা কি না। মজবুত পাতা নরম পাতার চেয়ে ভালোভাবে যাত্রা সইতে পারে, তবু বাতাস লাগে; মুখবন্ধ পলিথিনে নয়, ভেজা কাপড় বা কলাপাতায় মুড়ে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাসহ বাক্সে পাঠাতে বলুন। কুরিয়ারে আপনার এলাকায় পৌঁছাতে কত সময় লাগে জেনে নিন, আর স্বাদ পছন্দ হয় কি না দেখতে প্রথমে ছোট এক আঁটি কিনুন।
মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি চার্জ নিজে ঠিক করে; এক বিক্রেতার কাছ থেকে পান আর অন্যজনের কাছ থেকে সুপারি নিলে ডেলিভারি দুটি, চার্জও দুটি। মিডমার্ট আপনার টাকা নেয় না, পার্সেলও সামলায় না; পরিশোধ আর পাঠানোর ব্যবস্থা বিক্রেতা আপনার সঙ্গে সরাসরি ঠিক করবেন। খাসি চাষিদের পাশে দাঁড়ানো যদি আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়, বিক্রেতাকে খোলাখুলি জিজ্ঞেস করুন তিনি পান কোথা থেকে আনেন।
কীভাবে রাখবেন
পান হাতে পেয়ে খুলে ফেলুন, নষ্ট পাতা বেছে ফেলে বাকিগুলো পরিষ্কার, ভেজা কাপড়ে আলগা করে মুড়ে রাখুন। ঠান্ডা, ছায়াময় জায়গায় বা ফ্রিজের নিচের দিকে বাক্সে রাখুন, প্রতিদিন দেখে নিন। পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন না। ঠিকমতো রাখলে মজবুত পাতা সাধারণত সপ্তাহখানেক ভালো থাকে।
মিডমার্টে খাসিয়া পান খুঁজুন
মিডমার্টে “খাসিয়া পান” খুঁজুন
যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান
মৌলভীবাজার থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।
মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।
ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন
English
বাংলা