বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

বাংলাদেশের বিখ্যাত পণ্য

জয়পুরহাটের লতিরাজ লতি

পাঁচবিবি আর জয়পুরহাটের লম্বা, নরম কচুর লতি

চিংড়ি, শুঁটকি বা ইলিশ দিয়ে কচুর লতি বাঙালির প্রিয় তরকারি। জয়পুরহাট, বিশেষ করে পাঁচবিবি উপজেলায় যে পরিমাণ লতিরাজ কচুর চাষ হয়, তা আর কোনো জেলায় হয় না। জয়পুরহাটের লতিরাজ কচু এখন নিবন্ধিত জিআই পণ্য।

যেখান থেকে
জয়পুরহাট
মৌসুম
সারা বছর
GI
জিআই নিবন্ধন ২০২৬

গল্পটা

কচুগাছ ভেজা মাটির ওপর দিয়ে যে লম্বা, সরু ডগা ছড়িয়ে দেয়, সেটিই কচুর লতি। বেশির ভাগ কচু চাষ হয় মুখী বা পাতার জন্য, কিন্তু বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত পানিকচুর জাত লতিরাজ বাছাই করা হয়েছে লতির জন্যই: এ গাছ অনেকগুলো লম্বা, মোটা, নরম লতি ছাড়ে, আর মৌসুমজুড়ে বারবার তোলা যায়। জয়পুরহাটের কৃষকেরা শুরুতেই এ জাত গ্রহণ করেন, আর এখন এই ফসল জেলার অর্থনীতি বদলে দিয়েছে, বিশেষ করে পাঁচবিবিতে, যেখানে একসময় শুধু ধান হতো সেই জমিতে এখন লতির খেত।

জয়পুরহাট জেলা প্রশাসন সোনালি মুরগির পাশাপাশি লতিরাজ কচুকে জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য করেছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে জেলায় হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে এর চাষ হয়। পাঁচবিবির বটতলীর পাইকারি লতির হাটকে উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় লতির বাজার বলা হয়; ব্যস্ত দিনে সেখানে হাজার হাজার মণ লতি কেনাবেচা হয়, তারপর আঁটি বেঁধে ট্রাকে যায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ নানা শহরে। রপ্তানিকারকেরা লতি প্রক্রিয়াজাত করে মধ্যপ্রাচ্য আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়ও পাঠান।

জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক ২০১৭ সালের মার্চে ভৌগোলিক নির্দেশক স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর জয়পুরহাটের লতিরাজ কচুকে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধন দেয়, নিবন্ধন নম্বর ৬৩। এই স্বীকৃতি আঞ্চলিক নামটিকে সুরক্ষা দেয়, আলাদা কোনো কৃষক বা দোকানের পণ্য যাচাই বা প্রত্যয়ন করে না।

আসল জয়পুরহাটের লতিরাজ লতি চিনবেন কীভাবে

টাটকা লতিরাজ লতি লম্বা, সোজা আর আগাগোড়া সমান মোটা, মোটামুটি পেনসিলের মতো বা একটু বেশি; খোসা মসৃণ ও শক্ত, রং সবুজ, গোড়ার দিকে প্রায়ই বেগুনি বা লালচে আভা। বাঁকালে পট করে ভেঙে যাবে, আর কাটা মাথা ভেজা ও ফ্যাকাশে থাকবে, বাদামি বা শুকনো নয়। নেতিয়ে পড়া, কুঁচকানো, পিচ্ছিল বা মাথা কালো হয়ে যাওয়া আঁটি এড়িয়ে চলুন; এর মানে কয়েক দিন আগে তোলা বা গরমে ভেজা অবস্থায় রাখা। খুব সরু, খাটো বা আঁশালো লতি অন্য জাতের কচুর হতে পারে, কিংবা গাছের ফলনের শেষ দিকের। বলা হয়, লতিরাজের লতিতে অন্য অনেক লতির চেয়ে গলা কম চুলকায়; তবে যেকোনো লতি কম সেদ্ধ হলে চুলকাতে পারে, এটি গাছের প্রাকৃতিক দানার কারণে, ভেজালের জন্য নয়। লতি দেখে বোঝা যায় না এটি জয়পুরহাটের কি না, তাই জিজ্ঞেস করে নিন।

কেনার পরামর্শ

কোন উপজেলার লতি, কবে তোলা হয়েছে আর কীভাবে প্যাক করা হবে, বিক্রেতার কাছে জেনে নিন। লতি কয়েক দিনেই নেতিয়ে যায়, তাই পাঠানোর অল্প আগে তুলে আঁটি বেঁধে এমনভাবে মোড়াতে হয় যাতে ঠান্ডা আর একটু ভেজা থাকে, কিন্তু পানিতে ডুবে না থাকে। দূরের পথ হলে জিজ্ঞেস করুন যেদিন তোলা সেদিনই পাঠাতে পারবেন কি না, কিংবা পরিষ্কার করে কেটে হিমায়িত লতি দেন কি না।

মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি চার্জ ঠিক করে নেয়, তাই লতি এক দোকান থেকে আর শুঁটকি আরেক দোকান থেকে নিলে দুটি আলাদা চার্জ। মিডমার্ট টাকা নেয় না, অর্ডার পৌঁছেও দেয় না; টাকা দেওয়ার পদ্ধতি আর কুরিয়ার বিক্রেতার সঙ্গে সরাসরি ঠিক করবেন। বিজ্ঞাপনে জয়পুরহাট লেখা মানে বিক্রেতার দাবি, সনদ নয়, তাই অর্ডারের আগে বিস্তারিত যাচাই করুন।

কীভাবে রাখবেন

লতি এক-দুই দিনের মধ্যে রান্না করাই সবচেয়ে ভালো। আঁটিটি খবরের কাগজ বা সামান্য ভেজা কাপড়ে আলগা করে মুড়িয়ে ফ্রিজের সবজির ড্রয়ারে রাখুন। বেশি দিন রাখতে চাইলে ধুয়ে আঙুলের মাপে কেটে অল্প ভাপিয়ে ডিপ ফ্রিজে রাখুন। লতি ভালোভাবে সেদ্ধ করে রাঁধুন; তরকারিতে একটু তেঁতুল, লেবু বা টমেটো দিলে চুলকানির ভয় কমে।

মিডমার্টে জয়পুরহাটের লতিরাজ লতি খুঁজুন

মিডমার্টে “লতি” খুঁজুন

যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান

জয়পুরহাট থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

জয়পুরহাটের লতিরাজ লতি নিয়ে প্রশ্ন

হ্যাঁ। ২০১৭ সালে করা আবেদনের ভিত্তিতে জয়পুরহাটের লতিরাজ কচু বাংলাদেশের জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত, নিবন্ধন নম্বর ৬৩।

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা