বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

সিলেট বিভাগ · বাংলাদেশ

সিলেট

সুরমা তীরের পুণ্যভূমি, জাফলং আর রাতারগুলের প্রবেশদ্বার

সিলেট উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক ও বাণিজ্যিক রাজধানী: হযরত শাহজালাল ও শাহপরানের মাজার, উপমহাদেশের প্রথম চা-বাগান, জাফলংয়ের পাথুরে নদী আর রাতারগুলের জলাবন।

আয়তন
৩,৪৫২ বর্গকিমি
জনসংখ্যা (২০২২)
৩,৮৫৭,১২৩
উপজেলা
১৩
জেলা গঠন
১৭৮২
সাক্ষরতা
৭৬.৪%
সন্ধ্যায় সিলেট শহরে সুরমা নদীর ওপর লাল রঙের লোহার কিনব্রিজ
সুরমা নদীর ওপর কিনব্রিজ, সিলেট ছবি: Tarunno · CC BY-SA 4.0

সিলেট সম্পর্কে

সিলেট জেলা বাংলাদেশের একেবারে উত্তর-পূর্বে, উত্তরে মেঘালয়ের খাসি ও জৈন্তিয়া পাহাড় আর পূর্বে আসাম। বরাক নদীর দুই শাখা সুরমা ও কুশিয়ারা ভারত থেকে ঢুকে জেলাজুড়ে এঁকেবেঁকে পশ্চিমে বয়ে গেছে, আর সুরমার উত্তর তীরে গড়ে উঠেছে সিলেট শহর। শহরের উত্তরে ভূমি উঠে গেছে চা-ঢাকা টিলায়; দক্ষিণ ও পশ্চিমে তা নেমে গেছে হাওরে, যার মধ্যে আছে দেশের সবচেয়ে বড় হাওর হাকালুকির একাংশ।

সিলেট শহর বিভাগীয় সদর — টিলার ওপরের মাজার, শহরসীমার ভেতরেই চা-বাগান, ঝকঝকে শপিং মল আর ব্রিটেনের সঙ্গে পুরোনো যোগাযোগের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা এক নগর। জেলার ভেতরে পিয়াইন, ডাউকি ও সারির মতো পাহাড়ি নদী মেঘালয় থেকে স্ফটিক-স্বচ্ছ পানি আর পাথর বয়ে আনে, যা গড়ে তুলেছে জাফলং, বিছনাকান্দি ও লালাখালের দৃশ্যপট — সারা দেশ থেকে পর্যটকেরা যার টানে আসেন।

ইতিহাস

প্রাচীন গ্রন্থে এই অঞ্চলের নাম শ্রীহট্ট। চতুর্দশ শতকের আগে এটি কয়েকটি স্থানীয় রাজ্যে বিভক্ত ছিল, যেমন রাজা গৌড় গোবিন্দের গৌড় রাজ্য আর জৈন্তিয়া রাজ্য, যার রাজধানী জৈন্তাপুরে আজও খাড়া পাথরের মেগালিথ দাঁড়িয়ে আছে। ১৩০৩ সালে সুফি সাধক হযরত শাহজালাল তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে আসেন এবং মুসলিম বাহিনীর সঙ্গে মিলে গৌড় গোবিন্দকে পরাজিত করেন; তখন থেকেই তাঁর মাজার সিলেটকে তীর্থস্থানে পরিণত করেছে, আর ১৩৪০-এর দশকে পর্যটক ইবনে বতুতা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তাঁর ভাগনে হযরত শাহপরান শায়িত আছেন শহরের পূর্ব প্রান্তের একটি টিলায়।

ব্রিটিশরা ১৭৮২ সালে সিলেট জেলা প্রতিষ্ঠা করে, আর ১৮৭৪ সালে একে নতুন আসাম প্রদেশে যুক্ত করা হয়। ১৯৪৭ সালের জুলাইয়ের গণভোটে সিলেট পূর্ববঙ্গে যোগ দেওয়ার পক্ষে রায় দেয়; ফলে এর বেশির ভাগ অংশ পাকিস্তান, পরে বাংলাদেশের অংশ হয়, আর করিমগঞ্জ যায় ভারতে। উপমহাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক চা-বাগান মালনীছড়া প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫৪ সালে। আশির দশকে বৃহত্তর সিলেট চারটি জেলায় ভাগ হয়, আর ১৯৯৫ সালে সিলেট নতুন একটি বিভাগের সদর দপ্তর হয়।

শুকনো মৌসুমে রাতারগুলে খালের পাড়ে বাঁধা কাঠের নৌকার ওপর থেকে তোলা দৃশ্য
রাতারগুলের নৌকা, গোয়াইনঘাট ছবি: Abdulmominbd · CC BY-SA 4.0

অর্থনীতি ও জীবিকা

সিলেটের অর্থনীতি একটু ব্যতিক্রমী। রেমিট্যান্স এর কেন্দ্রে: ব্রিটিশ বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের বড় অংশের শিকড় সিলেটে, আর দেশে পাঠানো অর্থ ও বিনিয়োগের ছাপ দেখা যায় শহরের বাড়িঘর, দোকানপাট আর ব্যাংকে। শহরের আশপাশে এবং জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জের চা-বাগান আরেকটি স্তম্ভ। জেলায় হরিপুর, কৈলাসটিলা ও জালালাবাদের মতো গ্যাসক্ষেত্রও আছে, আর সীমান্তের নদী থেকে পাথর ও বালু উত্তোলন দীর্ঘদিনের বড় — এবং বিতর্কিত — ব্যবসা। কৃষি, বিশেষ করে হাওরে বোরো ধান এবং টিলায় লেবুজাতীয় ফল, আনারস ও পান, বহু গ্রামীণ পরিবারের জীবিকা; আর পর্যটন প্রতি বছর বাড়ছে।

খাবার, সংস্কৃতি ও উৎসব

সিলেটের নিজস্ব ভাষা সিলেটি, যা এতটাই স্বতন্ত্র যে একসময় এর নিজস্ব লিপিও ছিল — সিলেটি নাগরী, যাতে ধর্মীয় ও লোককাব্য লেখা হতো। শাহজালাল ও শাহপরানের মাজারে প্রতি বছর ওরস হয়, আর সুফি ও বাউল গান মিশে আছে দৈনন্দিন জীবনে। খাসি, মণিপুরি ও চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠী যোগ করেছে নিজস্ব উৎসব ও কারুশিল্প, আর জেলাটি বিখ্যাত শীতলপাটির জন্য — মুর্তা বেত দিয়ে বোনা মিহি, ঠান্ডা মাদুর।

খাবারেও আছে স্বাতন্ত্র্য। তেতো-সুগন্ধি সাতকরা দিয়ে রান্না গরুর মাংস বা মাছ, অনুষ্ঠানে পরিবেশিত সুগন্ধি আখনি, বাঁশের চোঙায় রান্না চুঙ্গা পিঠা আর ঝাল নাগা মরিচ — সবই সিলেটের পরিচয়। শহরের ক্যাফে থেকে বাগানের পথের পাশের দোকান পর্যন্ত সর্বত্র চায়ের কদর।

সিলেট-এর দর্শনীয় স্থান

  1. হযরত শাহজালালের মাজার

    সিলেট শহরের প্রাণকেন্দ্র দরগাহ গেটে চতুর্দশ শতকের এই সাধকের মাজার, যেখানে সব ধর্ম ও শ্রেণির মানুষ আসেন। মসজিদ, পবিত্র গজার মাছের পুকুর আর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার ভিড় — সব মিলিয়ে এক অনন্য পরিবেশ।

  2. জাফলং

    গোয়াইনঘাটে মেঘালয়ের পাহাড় থেকে পিয়াইন নদী যেখানে নেমে এসেছে, সেই নদীতীর; এখান থেকে দেখা যায় ঝরনা আর সীমান্তের ওপারের ডাউকি সেতু। পাথর তোলার নৌকা, খাসি গ্রাম আর আশপাশের চা-বাগান দৃশ্যটিকে পূর্ণ করে; শহর থেকে দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার।

  3. রাতারগুল জলাবন

    গোয়াইনঘাট উপজেলায় দেশের হাতে গোনা কয়েকটি মিঠাপানির জলাবনের একটি। বর্ষায় ছোট নৌকায় চড়ে অর্ধেক ডুবে থাকা গাছের ফাঁক দিয়ে ভেসে বেড়ানো যায়; শুকনো মৌসুমে বনের মাটি জেগে ওঠে আর নৌকাগুলো সারি বেঁধে থাকে কিনারে।

  4. বিছনাকান্দি ও লালাখাল

    দুটি পাহাড়ি নদীর গন্তব্য: বিছনাকান্দি, যেখানে মেঘালয় থেকে নেমে আসা স্রোত বয়ে যায় পাথর বিছানো তলদেশের ওপর দিয়ে; আর জৈন্তাপুরের লালাখাল, চা-টিলার পাশে সারি নদীর পান্না-সবুজ পানির জন্য পরিচিত।

  5. কিনব্রিজ ও আলী আমজাদের ঘড়ি

    ১৯৩৬ সালে সুরমার ওপর চালু হওয়া লোহার কিনব্রিজ আর এর পাশের উনিশ শতকের ঘড়িঘর শহরের চিরচেনা নদীতীরের প্রতীক; নদীর ঘাট থেকে সন্ধ্যায় দেখতে সবচেয়ে সুন্দর।

  6. মালনীছড়া চা-বাগান

    শহরের ঠিক বাইরে বিমানবন্দর সড়কের কাছে ১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বাগানকে উপমহাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক চা-বাগান ধরা হয়। শহরের কেন্দ্র থেকে অল্প দূরেই এর ঢেউখেলানো টিলা।

সিলেট যে জন্য বিখ্যাত

সিলেট কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সড়কপথে সিলেট শহর প্রায় ২৪০ কিলোমিটার। সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল ও মহাখালী থেকে বাসে ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক ধরে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা লাগে। কমলাপুর থেকে প্রতিদিন কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন ছাড়ে, শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান পেরিয়ে পৌঁছাতে লাগে মোটামুটি সাত থেকে আট ঘণ্টা। আকাশপথে ঢাকা থেকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ঘণ্টার কম সময় লাগে, আর সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও আছে। সিলেট শহর থেকে জাফলং, রাতারগুল ও লালাখাল গাড়ি, সিএনজি বা বাসে একদিনেই ঘুরে আসা যায়।

হাট ও বাজার

বন্দরবাজার
সুরমার কাছে শহরের পুরোনো বাণিজ্যিক কেন্দ্র, কাপড়, মুদি, গৃহস্থালি পণ্য আর ইলেকট্রনিকসের পাইকারি ও খুচরা দোকানে ঠাসা।
জিন্দাবাজার
সিলেটের প্রধান কেনাকাটার সড়ক, শপিং মল, গয়নার দোকান আর পোশাকের দোকানের পাশাপাশি সিলেটি খাবারের জন্য বিখ্যাত রেস্তোরাঁয় ভরা।
কালীঘাট
সুরমার পাশের পাইকারি বাজার, যেখানে মসলা, চাল, শুঁটকি ও অন্যান্য মুদিপণ্য গোটা অঞ্চলের দোকানের জন্য বড় পরিমাণে কেনাবেচা হয়।

এক নজরে সিলেট

এক নজরে সিলেট

মিডমার্টে সিলেট-এর দোকান

সিলেট থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে বিক্রি করছে না।

সিলেট-এর দোকান থেকে কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

সিলেট নিয়ে প্রশ্ন

হযরত শাহজালাল ও শাহপরানের মাজার, চা-বাগান, জাফলং, রাতারগুল, বিছনাকান্দি ও লালাখালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিপুলসংখ্যক যুক্তরাজ্যপ্রবাসী, সাতকরা আর শীতলপাটি।

সিলেট-এ কিছু বানান বা ফলান?

বিনামূল্যে দোকান খুলুন আর সারা বাংলাদেশের ক্রেতার কাছে বিক্রি করুন। কোনো কমিশন বা লিস্টিং ফি নেই — ক্রেতা সরাসরি আপনাকে টাকা দেন, কুরিয়ার বেছে নেন আপনি।

সিলেট থেকে অনলাইনে বিক্রি করুন

সিলেট বিভাগের আরও জেলা

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা

সংখ্যাগুলো নিচের তথ্যসূত্র থেকে নেওয়া। আলাদা করে বলা না থাকলে জনসংখ্যার তথ্য ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা থেকে।