বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

বাংলাদেশের বিখ্যাত পণ্য

শ্রীমঙ্গল ও সিলেটের চা

শ্রীমঙ্গল, সিলেট, হবিগঞ্জ আর চট্টগ্রামের সবুজ টিলার চা

দেশের বেশির ভাগ চা হয় বৃহত্তর সিলেটে, আর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলকে বলা হয় চায়ের রাজধানী। সিটিসি, অর্থোডক্স আর গ্রিন টির পার্থক্য, রং মেশানো বা পুরোনো চা চেনার উপায় আর চা টাটকা রাখার নিয়ম জেনে নিন।

মৌসুম
সারা বছর
শ্রীমঙ্গলে লম্বা ছায়াগাছের নিচে সারি সারি সবুজ চা-গাছের মাঝ দিয়ে মাটির পথ
শ্রীমঙ্গলের একটি বাগানে চা-গাছ আর ছায়াগাছ ছবি: Kritzolina · CC BY-SA 4.0

গল্পটা

ব্রিটিশ আমলে এই অঞ্চলে চায়ের আগমন। চট্টগ্রামে শুরুর দিকের একটি বাগান টেকেনি, আর বর্তমান বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক চা-বাগান গড়ে ওঠে ১৮৫৪ সালে সিলেট শহরের কাছে মালনীছড়ায়। বাগানমালিকেরা অল্প দিনেই বুঝলেন, বৃহত্তর সিলেটের নিচু ঢেউখেলানো টিলা আর প্রচুর বৃষ্টি চা-গাছের জন্য আদর্শ, আর মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেটজুড়ে বাগান ছড়িয়ে পড়ে। আজ দেশের চা-বাগানের বড় অংশই বৃহত্তর সিলেটে, বাকিগুলো ফটিকছড়িসহ চট্টগ্রামে, আর উত্তরের পঞ্চগড়ে গড়ে উঠেছে তুলনামূলক নতুন ও ছোট চা-অঞ্চল।

চারপাশে অসংখ্য চা-বাগান থাকায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলকে বলা হয় দেশের চায়ের রাজধানী। এখানে আছে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, আর চট্টগ্রামের পুরোনো নিলামকেন্দ্রের পাশাপাশি একটি চা নিলামকেন্দ্রও। এর পরিপাটি সবুজ ঢাল সারা বছর পর্যটক টানে। ডোরাকাটা সাত রঙের চায়ের জন্মও শ্রীমঙ্গলে; এক গ্লাসে নানা রঙের চা স্তরে স্তরে সাজানো এই চা আসলে চায়ের দোকানের একটি মজার উদ্ভাবন। চেখে দেখতে ভালো, তবে এটি চা পানের প্রথাগত রীতি নয়।

বাগানগুলোতে কাজ করেন মূলত চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠী, ঔপনিবেশিক আমলে যাঁদের পূর্বপুরুষদের ভারতের নানা অঞ্চল থেকে আনা হয়েছিল; তাঁদের অনেকেই নিজস্ব ভাষা আর উৎসবের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষ। তাঁদের মজুরি আর জীবনযাত্রার মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন আর আলোচনা চলছে, যা এক কাপ চা উপভোগের সময় মনে রাখা ভালো।

আসল শ্রীমঙ্গল ও সিলেটের চা চিনবেন কীভাবে

দেশে বিক্রি হওয়া বেশির ভাগ চা সিটিসি (ক্রাশ, টিয়ার, কার্ল): ছোট কালচে দানা, যা দ্রুত ভিজে গাঢ় লালচে-বাদামি কড়া লিকার দেয়, দুধ-চিনির চায়ের জন্য আদর্শ। অর্থোডক্স চায়ে পাতা পাকানো বা আস্ত থাকে, লিকার হালকা আর সুগন্ধি, সাধারণত দুধ ছাড়া খাওয়া হয়। গ্রিন টি গাঁজানো হয় না, তাই পাতা সবুজ থাকে আর লিকার ফিকে, ঘাসের মতো স্বাদ। ভালো চায়ের দানা বা পাতা আকারে আর রঙে সমান, ডাঁটা বা গুঁড়া কম, আর গন্ধ টাটকা, মল্টের মতো বা ফুলেল, ভ্যাপসা নয়। রং মেশানো কি না বুঝতে ঘরোয়া একটি পরীক্ষা প্রচলিত: এক গ্লাস ঠান্ডা পানিতে এক চিমটি চা ফেলুন; আসল চা ধীরে ধীরে রং ছাড়ে, রং মেশানো চা প্রায় সঙ্গে সঙ্গে রঙের রেখা ছড়ায়। প্যাকেটে বাগানের নাম আর প্যাকিংয়ের তারিখ থাকা প্রিমিয়াম লেখা যেকোনো লেবেলের চেয়ে বেশি কাজের।

কেনার পরামর্শ

দাম নির্ভর করে গ্রেড, ধরন (সিটিসি, অর্থোডক্স, গ্রিন বা বিশেষ চা), বাগান, পাতা তোলার সময় আর প্যাকিংয়ের ওপর। বিক্রেতার কাছে জানতে চান চা কোন বাগান বা এলাকার, কবে প্যাক করা, আর সিটিসি না অর্থোডক্স। কেজি দরে বিক্রি হওয়া খোলা চায়েরও প্যাকিংয়ের তারিখ থাকা উচিত। একসঙ্গে অনেক না কিনে কয়েক মাসে শেষ করতে পারবেন, এমন পরিমাণে কিনুন।

মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি চার্জ ঠিক করে, তাই শ্রীমঙ্গলের এক বিক্রেতার চা আর আরেক দোকানের মসলা দুটি পার্সেলে, দুবার চার্জে আসবে। মিডমার্ট টাকা নেয় না বা ডেলিভারির ব্যবস্থা করে না; বিক্রেতা আপনার সঙ্গে সরাসরি দুটোই ঠিক করেন। বিশেষ করে বর্ষায় সিলবন্ধ, আর্দ্রতারোধী প্যাকিং চেয়ে নিন।

কীভাবে রাখবেন

চা বায়ুরোধী, আলো ঢোকে না এমন পাত্রে ঠান্ডা, শুকনো তাকে রাখুন, রোদ, ভাপ আর মসলার মতো কড়া গন্ধের খাবার থেকে দূরে, কারণ চা সহজেই গন্ধ টেনে নেয়। ফ্রিজে রাখবেন না, সেখানে আর্দ্রতা ঢুকতে পারে। প্রতিবার শুকনো চামচ ব্যবহার করুন। প্যাকেট খোলার পর কয়েক মাস চায়ের স্বাদ সবচেয়ে ভালো থাকে।

মিডমার্টে শ্রীমঙ্গল ও সিলেটের চা খুঁজুন

মিডমার্টে “চা” খুঁজুন

যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান

চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

শ্রীমঙ্গল ও সিলেটের চা নিয়ে প্রশ্ন

চারপাশে অসংখ্য চা-বাগান থাকার কারণে। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট আর একটি চা নিলামকেন্দ্রও এখানে।

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা