গল্পটা
চট্টগ্রামে বেকারির ইতিহাস অনেক পুরোনো। বন্দর হিসেবে ষোড়শ শতক থেকে এখানে পর্তুগিজ বণিকদের আনাগোনা, পরে মোগল সেনাছাউনি; দুই পক্ষই সঙ্গে এনেছিল রুটি-বিস্কুটের রুচি। স্থানীয় ইতিহাসবিদেরা শহরের বেকারি ব্যবসার শুরুকে বর্ধমান থেকে আসা পরিবারগুলোর সঙ্গে যুক্ত করেন, আর প্রথম দিকের কারিগর হিসেবে লাল খান সুবেদার ও তাঁর ছেলে কানু খান মিস্ত্রির নাম বলেন। তাঁদেরই উত্তরপুরুষ আবদুল গণি সওদাগর চন্দনপুরার কলেজ রোডে গণি বেকারি প্রতিষ্ঠা করেন। সূত্রভেদে প্রতিষ্ঠাকাল ১৮৭০ বা ১৮৮০-র দশক, আর সামনের মোড়টি আজও বেকারির নামেই পরিচিত।
বেলা নামটা কোথা থেকে এল, কেউ নিশ্চিত নন। লেখক আবুল ফজল ১৯৬৬ সালের এক স্মৃতিকথায় লিখেছিলেন, চন্দনপুরার বেলায়েত আলী নামে এক বিস্কুট বিক্রেতার নাম থেকেই এই নাম; এই ব্যাখ্যাই সবচেয়ে বেশি শোনা যায়। কথিত আছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম থেকে আরাকান পর্যন্ত সেনাছাউনিগুলোতে সকালের নাশতা জোগাত গণি বেকারি, আর রুটির সঙ্গে বেলা বিস্কুট হয়ে ওঠে সৈনিকদের রোজকার খাবার। ১৯৪৫ সালে আবদুল গণি বেকারিটিকে ওয়াক্ফ, অর্থাৎ বিক্রি করা যায় না এমন ধর্মীয় দান হিসেবে লিখে দেন; তারপর থেকে এটি পরিবারের হাতেই চলছে।
এখন চট্টগ্রামের অনেক বেকারিই বেলা বিস্কুট বানায়, তবু মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয় গণি বেকারির বিস্কুটকে। এখানে এখনো মাটির চুলায় সেঁকা হয়, বাজারের ইস্টের বদলে নিজস্ব মাওয়া দিয়ে খামির প্রায় এক দিন রেখে গাঁজানো হয়, আর পাওয়া যায় সাধারণ, বাটার ও গোলাপ, এই তিন রকম। চট্টগ্রামের চায়ের দোকান থেকে বৈঠকখানা, সবখানেই বেলা বিস্কুটের উপস্থিতি, আর শহর থেকে ফেরার সময় এক প্যাকেট সঙ্গে নেওয়া অনেকের অভ্যাস।
আসল চট্টগ্রামের বেলা বিস্কুট চিনবেন কীভাবে
বেলা বিস্কুট ডিম্বাকার থেকে গোল, চ্যাপ্টা আর বেশ পুরু, রং হালকা সোনালি থেকে হালকা বাদামি, ওপরটা শুকনো আর একটু ফোসকা-পড়া। পুরোটা শক্ত ও মচমচে; ভাঙলে বেঁকে যায় না, গুঁড়া হয়েও ঝরে না, পরিষ্কার মটমট করে ভাঙে। লম্বা সময় গাঁজানোর ফলে ভেতরে সূক্ষ্ম, স্তরে স্তরে, একটু ফাঁপা গঠন দেখা যায়। মিষ্টি খুবই হালকা, সঙ্গে খামিরের মৃদু গন্ধ। এটা বানানোই হয় চায়ে ডোবানোর জন্য: ভালো বেলা গরম চায়ে নরম হয়, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়ে না। নরম, মাখনে ভরা বা খুব মিষ্টি বিস্কুট এই নামে বিক্রি হলেও সেটা অন্য জিনিস। কয়েকটি বেকারির মোড়ক দেখতে প্রায় এক রকম, তাই নির্দিষ্ট কারিগরের বিস্কুট চাইলে প্যাকেটে বেকারির নাম-ঠিকানা পড়ে নিন। মনে রাখবেন, আসল কোনটা, তা প্রত্যয়ন করার মতো কোনো বাইরের সংস্থা নেই।
কেনার পরামর্শ
বেলা বিস্কুট শুকনো আর মজবুত, তাই দেশের যেকোনো জায়গায় ভালোভাবেই পাঠানো যায়। বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করুন কোন বেকারির তৈরি, কবে সেঁকা, প্যাকেট সিল করা কি না; পুরোনো মাল বাসি হয়ে মচমচে ভাব হারায়। কীভাবে প্যাক হবে তাও জেনে নিন, বাক্সে না ভরে আলগা প্যাকেট পাঠালে গুঁড়া হয়ে পৌঁছাতে পারে। দাম নির্ভর করে বেকারি, ধরন (সাধারণ, বাটার না গোলাপ) আর প্রতি প্যাকেটে কয়টা বিস্কুট তার ওপর, তাই শুধু দাম নয়, প্যাকেটের আকারও মিলিয়ে দেখুন।
মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি ফি নিজে ঠিক করে নেয়, তাই চট্টগ্রামের এক বেকারির পার্সেল আর অন্য দোকানের পার্সেল আলাদা ডেলিভারি। মিডমার্ট কখনো টাকা নেয় না, পণ্যও পাঠায় না; দুটোই আপনি আর বিক্রেতা সরাসরি ঠিক করবেন। কোন তালিকার বিস্কুট কোন বেকারির, মিডমার্ট তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না, তাই অর্ডারের আগে জিজ্ঞেস করে নিন।
কীভাবে রাখবেন
বেলা বিস্কুট বায়ুরোধী টিন বা বয়ামে, স্যাঁতসেঁতে জায়গা থেকে দূরে রাখুন। প্যাকেট খুললে বাকিটা সঙ্গে সঙ্গে কৌটায় তুলে ফেলুন, কারণ ভেজা বাতাসে এক-দুই দিনেই নরম হয়ে যায়। এভাবে রাখলে কয়েক সপ্তাহ মচমচে থাকে। নরম হয়ে গেলে কম আঁচে ওভেনে বা শুকনো কড়াইয়ে কয়েক মিনিট গরম করলে কিছুটা মচমচে ভাব ফিরে আসে।
মিডমার্টে চট্টগ্রামের বেলা বিস্কুট খুঁজুন
মিডমার্টে “বেলা বিস্কুট” খুঁজুন
যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান
চট্টগ্রাম থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।
মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।
ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন
English
বাংলা