গল্পটা
মহেশখালী বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ। কক্সবাজার শহরের উল্টো দিকে চ্যানেল পেরোলেই উপকূলের সমতল থেকে উঠে আসা বনে ঢাকা টিলার সারি। স্থানীয় মানুষের ভাষ্য, অন্তত দুই শ বছর ধরে এখানে পানের চাষ চলছে, আর আজ পানই এই দ্বীপের পরিচয়। বড় মহেশখালী, ছোট মহেশখালী, হোয়ানক, শাপলাপুর, কালারমারছড়ার মতো ইউনিয়নে পাহাড়ের ঢালে আর সমতলে সারি সারি পানের বরজ, হাজার হাজার পরিবারের জীবিকা এর ওপর নির্ভর করে।
দ্বীপে বরজ দুই রকম। পাহাড়ে বাঁশ আর খড়ের ছাউনি-বেড়া দেওয়া বরজ কয়েক বছর ধরে পান দেয়। নিচু সমতলে বর্ষায় পানি জমে, তাই সেখানে সাধারণত শুকনা মৌসুমে, মোটামুটি অক্টোবর থেকে মে পর্যন্ত, এক মৌসুমের চাষ হয়। এক-দুই সপ্তাহ পরপর হাতে পান তোলা হয়, আকার অনুযায়ী বাছাই করে ৮০টি পানে এক বিড়া বাঁধা হয়। দ্বীপের সাপ্তাহিক হাটে চট্টগ্রাম আর ঢাকার পাইকারেরা ট্রাক ভরে কিনে নেন। কিছু পান বিদেশেও যায়, মূলত মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, ইউরোপ আর উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাজারে।
চাষিদের মতে, এই পানের মিষ্টতার পেছনে আছে দ্বীপের পাহাড়ি মাটি আর সাগরের লোনা বাতাস। কারণ যা-ই হোক, মহেশখালীর পান সবার কাছে মিষ্টি পান নামেই পরিচিত। ২০২৪ সালে রাজশাহীর মিষ্টি পান ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে নিবন্ধন পেয়েছে; মহেশখালীর পান এখনো পায়নি, যদিও স্থানীয় পত্রপত্রিকায় বারবার এর দাবি উঠেছে। তাই "জিআই মহেশখালীর পান" লেখা দেখলে সাবধান থাকুন।
আসল মহেশখালীর পান চিনবেন কীভাবে
ভালো মহেশখালীর পান পাতলা, নরম আর সহজে ভাঁজ হয়; রং হালকা থেকে মাঝারি সবুজ, চকচকে, গা মসৃণ, শিরা সূক্ষ্ম। ছোট এক টুকরা ছিঁড়ে চিবিয়ে দেখুন: টাটকা আর হালকা মিষ্টি লাগবে, পুরু পানের মতো ঝাঁঝালো জ্বালা থাকবে না। মোটা, গাঢ়, চামড়ার মতো শক্ত আর কড়া ঝাঁঝের পাতা সম্ভবত অন্য জাতের। টাটকা পান টানটান থাকে, বোঁটার কাটা মাথা সবুজ ও ভেজা দেখায়; বোঁটা বাদামি, পাতায় কালো দাগ, কিনারা নেতানো বা টক গন্ধ মানে পান পুরোনো বা পচতে শুরু করেছে। মহেশখালী আর অন্য এলাকার মিষ্টি পান দেখতে প্রায় এক, তাই লেবেল দিয়ে উৎস প্রমাণ হয় না। যে বিক্রেতা ইউনিয়নের নাম আর হাটের দিন বলতে পারেন, তাঁর কথা বেশি ভরসাযোগ্য।
কেনার পরামর্শ
জিজ্ঞেস করুন এক আঁটি বা বিড়ায় কয়টি পান (দ্বীপে এক বিড়া মানে ৮০টি, অন্য বাজারে হিসাব আলাদা হতে পারে), আকার অনুযায়ী বাছাই করা কি না, আর কবে তোলা। এমন নরম পান মাত্র কয়েক দিন সবচেয়ে ভালো থাকে, তাই প্যাকিং কেমন হবে জেনে নিন। মুখবন্ধ পলিথিনের চেয়ে ভেজা কাপড় বা কলাপাতায় মুড়ে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাসহ বাক্সে পাঠানো অনেক ভালো। কোন কুরিয়ারে যাবে আর আপনার কাছে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে, সেটাও জানুন; কক্সবাজার থেকে উত্তরবঙ্গে পৌঁছাতে যে সময় লাগে, তাতে পানের মান বদলে যেতে পারে। প্রথমবার অল্প করে কিনুন।
মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি চার্জ নিজে ঠিক করে ও নেয়; এক দোকান থেকে পান আর আরেক দোকান থেকে সুপারি বা মসলা কিনলে পার্সেল দুটি, চার্জও দুটি। মিডমার্ট টাকা নেয় না, কুরিয়ারও ঠিক করে না: দাম, পরিশোধ আর পাঠানোর ব্যবস্থা বিক্রেতার সঙ্গে সরাসরি ঠিক করবেন। তালিকায় মহেশখালী লেখা থাকা বিক্রেতার দাবি, কোনো সনদ নয়; তাই আগে প্রশ্নগুলো করে নিন।
কীভাবে রাখবেন
হাতে পেয়েই পান খুলে ফেলুন, ক্ষতিগ্রস্ত পাতা বেছে ফেলে বাকিগুলো পরিষ্কার, হালকা ভেজা কাপড়ে আলগা করে মুড়ে রাখুন। ঠান্ডা, ছায়াময় জায়গায় বা ফ্রিজের সবজির খোপে রাখুন, আর প্রতিদিন দেখে নিন, কারণ একটি পাতা পচলে দ্রুত অন্যগুলোতেও ছড়ায়। পানিতে ডুবিয়ে রাখবেন না। টাটকা পান সাধারণত কয়েক দিন থেকে সপ্তাহখানেক ভালো থাকে।
মিডমার্টে মহেশখালীর পান খুঁজুন
যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান
কক্সবাজার থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।
মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।
ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন
English
বাংলা