গল্পটা
রাজশাহীর পশ্চিমে, ভারত সীমান্তঘেঁষা চাঁপাইনবাবগঞ্জকে অনেকে আমের রাজধানী বলেন, আর এ জেলার সবচেয়ে গর্বের জাত ক্ষীরশাপাত। একসময় এ অঞ্চল ছিল পুরোনো মালদহের দক্ষিণ অংশ, যেখানে শত শত বছর ধরে ভালো আমের চাষ হয়ে আসছে। স্থানীয় বিবরণ অনুযায়ী, প্রায় ২০০ বছর আগে ময়মনসিংহের এক জমিদার পরিবার কানসাটে যে বাগান করেছিল, সেখান থেকেই সংগঠিতভাবে ক্ষীরশাপাত চাষের শুরু। এখন এর বেশির ভাগ আসে শিবগঞ্জ, ভোলাহাট আর গোমস্তাপুর উপজেলা থেকে, আর মৌসুমে শিবগঞ্জের কানসাট বাজার হয়ে ওঠে দেশের সবচেয়ে বড় আমের হাট।
চাষিদের পক্ষে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ২০১৭ সালে আবেদন করে, আর ২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর জিআই সনদ তুলে দেয়। দেশের তৃতীয় জিআই এবং দ্বিতীয় কৃষিপণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর একই জেলার ল্যাংড়া, আশ্বিনা আর ফজলির পথও খুলে যায়। পশ্চিমবঙ্গও একই ঘরানার আমের জন্য নিজস্ব জিআই নিয়েছে; ১৯৪৭ সালের সীমান্তের দুই পাশেই যে ফল জন্মায়, দুই প্রতিবেশী আলাদাভাবে তার সুরক্ষা নিয়েছে।
অনেক ক্রেতা, এমনকি ব্যবসায়ীরাও ক্ষীরশাপাত আর হিমসাগর নাম দুটো একই আমের জন্য ব্যবহার করেন। কোনো কোনো উদ্যানতত্ত্ববিদ এ দুটিকে একই জাতের দুই নাম মনে করেন, কেউ আবার আকার আর রঙে সামান্য পার্থক্য দেখান। মেহেরপুরের হিমসাগর আলাদা জিআই পেয়েছে, তাই মিডমার্টে দুটির জন্য আলাদা পাতা রাখা হয়েছে।
আসল চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্ষীরশাপাত আম চিনবেন কীভাবে
পাকা ক্ষীরশাপাত মাঝারি আকারের, সাধারণত ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম, একটু লম্বাটে আর ভরাট, বোঁটা মোটা ও শক্ত। খোসা মসৃণ, তাতে সূক্ষ্ম ফুটকি; পাকার সময় বোঁটার দিকের অংশ হালকা হলুদ হয়, নিচের অর্ধেক অনেক সময় ফিকে সবুজই থাকে। কাটলে শাঁস গাঢ় হলুদ, একেবারে আঁশহীন, রসাল আর মিষ্টি, সঙ্গে স্পষ্ট সুবাস। ফলের তুলনায় আঁটি পাতলা। যে আম বাইরে থেকে সমানভাবে ঝকঝকে হলুদ অথচ আঁটির কাছে শাঁস শক্ত আর টক, সেটি সম্ভবত অপরিপক্ব অবস্থায় পেড়ে জোর করে রং আনা হয়েছে। বোঁটার দিকটা শুঁকে দেখুন: গাছপাকা ক্ষীরশাপাত পুরো নরম হওয়ার আগেই সেখানে মিষ্টি গন্ধ ছড়ায়।
কেনার পরামর্শ
অপরিপক্ব আম এড়ানোর সবচেয়ে ভালো উপায় সময় মেনে কেনা। রাজশাহী জেলা প্রশাসন প্রতিবছর আম পাড়ার সময়সূচি দেয়, আর সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে ক্ষীরশাপাত ও হিমসাগর পাড়ার অনুমতি মিলেছে ৩০ মের দিকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কখনো আলাদা তারিখ দেয়, কখনো কোনো তারিখই বেঁধে দেয় না, তাই অর্ডারের আগে সে বছরের খবর দেখে নিন। মে মাসের শুরুতে ক্ষীরশাপাত বলে যা বিক্রি হয়, তা প্রায় নিশ্চিতভাবে অন্য আম বা কাঁচা পাড়া। দাম নির্ভর করে মৌসুমের কোন সপ্তাহ, আমের আকার, বাছাই করে ক্যারেট বা কার্টনে প্যাক করা কি না আর কত দূরে যাবে তার ওপর।
মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজে বিক্রি ও পাঠায় এবং নিজের ডেলিভারি চার্জ ঠিক করে, তাই দুই বিক্রেতার আম মানে দুটি পার্সেল আর দুবার চার্জ। মিডমার্ট টাকা নেয় না, কিছু পৌঁছেও দেয় না: দাম, টাকা দেওয়ার উপায় আর কুরিয়ার বিক্রেতার সঙ্গে সরাসরি ঠিক করবেন। নিশ্চিত করার আগে জিজ্ঞেস করুন বাগান কোন উপজেলায়, এই চালান কোন তারিখে পাড়া, কীভাবে প্যাক হবে আর কুরিয়ারে কত দিন লাগবে। যে বিক্রেতা পরিষ্কার উত্তর দেন, শুধু "জিআই আম" লেখা বিজ্ঞাপনের চেয়ে তিনি বেশি ভরসার।
কীভাবে রাখবেন
আম হাতে পেয়েই প্যাকেট খুলে ফেলুন, ঠান্ডা ও বাতাস চলাচল করে এমন ঘরে খবরের কাগজ বা ঝুড়িতে এক স্তরে ছড়িয়ে রাখুন, দুই থেকে চার দিনে নিজে থেকেই পেকে যাবে। যে পলিথিন বা বন্ধ বাক্সে এসেছে, তাতে রেখে দেবেন না। আম নরম আর সুগন্ধি হলে এক দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলুন বা ফ্রিজে রাখুন, সেখানে আরও কয়েক দিন ভালো থাকে; গোটা আম ঠান্ডা করে খাওয়ার ঠিক আগে কাটুন। ক্ষীরশাপাতের শাঁস জমিয়ে রাখলে পরে মিল্কশেক বা মিষ্টান্নে ভালো কাজে লাগে।
মিডমার্টে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্ষীরশাপাত আম খুঁজুন
মিডমার্টে “ক্ষীরশাপাত আম” খুঁজুন
যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।
মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।
ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন
English
বাংলা