বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

বাংলাদেশের বিখ্যাত পণ্য

রাজশাহীর আম

রাজশাহী অঞ্চলের আসল আম কেনার নিয়ম, আর আম পাড়ার সময়সূচির মানে

"রাজশাহীর আম" বলতে বোঝায় দেশের প্রধান আম অঞ্চল রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আর নওগাঁর আম। নামটি নিজে জিআই নয়, আলাদা আলাদা জাত জিআই পেয়েছে। কোন জাত কবে পাড়া যাবে, তা ঠিক করে সরকারি সময়সূচি, মে মাসের মাঝামাঝি থেকে আগস্ট পর্যন্ত।

মৌসুম
মে – আগস্ট
ওপর থেকে দেখা চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের হাট, সবুজ আমবোঝাই শত শত সাইকেল আর ভ্যান
ভরা মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি পাইকারি আমের হাট ছবি: Mahinur11 · CC BY-SA 4.0

গল্পটা

বেশির ভাগ বাংলাদেশির কাছে "রাজশাহীর আম" মানেই ভালো আম। কথাটির মধ্যে আছে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আর নওগাঁর বাগান, পাশে নাটোরও; এখানকার মাটি আর গরম, শুকনো গ্রীষ্ম আমগাছের জন্য দেশের প্রায় যেকোনো জায়গার চেয়ে উপযোগী। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট আর রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর দেশের সবচেয়ে বড় আমের পাইকারি হাটগুলোর মধ্যে পড়ে, আর মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত ট্রাক ও ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে আম যায় ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তে।

"রাজশাহীর আম" নামে আলাদা কোনো জিআই নেই। সুরক্ষা পেয়েছে নির্দিষ্ট জাতগুলো: চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্ষীরশাপাত (২০১৯), রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের যৌথ ফজলি (২০২৩), চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া ও আশ্বিনা (২০২৩) আর নওগাঁর নাক ফজলি (২০২৫)। এ অঞ্চলের বাইরে রংপুরের হাড়িভাঙ্গা আর মেহেরপুরের হিমসাগরেরও নিজস্ব জিআই আছে। তাই কোনো বিক্রেতা "জিআই রাজশাহীর আম" বললে জিজ্ঞেস করুন কোন জাত, কোন জেলা।

অপরিপক্ব আম বাজারে আসা ঠেকাতে রাজশাহী জেলা প্রশাসন আর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রতি বসন্তে আম পাড়ার সময়সূচি দেয়, যাকে লোকে ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার বলে। ২০২৫ ও ২০২৬ মৌসুমে রাজশাহীর তারিখ ছিল মোটামুটি এ রকম: স্থানীয় গুটি আম ১৫ মে, গোপালভোগ ২২ মে, রানিপসন্দ ও লক্ষ্মণভোগ ২৫ মে, হিমসাগর ও ক্ষীরশাপাত ৩০ মে, ল্যাংড়া ১০ জুন, আম্রপালি ও ফজলি ১৫ জুন, বারি আম-৪ ৫ জুলাই, আশ্বিনা ১০ জুলাই আর গৌড়মতি ১৫ জুলাই থেকে; কাটিমন সারা বছর পাড়া যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আর নওগাঁ কখনো নিজস্ব তারিখ দেয়, আবার কোনো কোনো বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জ নির্দিষ্ট তারিখ না দিয়ে প্রাকৃতিকভাবে পরিপক্ব হলে পাড়ার সুযোগ দিয়েছে। প্রতিবছর তারিখ নতুন করে ঠিক হয়, তাই চলতি বছরেরটা দেখে নিন।

আসল রাজশাহীর আম চিনবেন কীভাবে

শুরু করুন সময়সূচি দিয়ে: নির্দিষ্ট তারিখের অনেক আগে কোনো জাতের নামে আম বিক্রি হলে হয় সেটি কাঁচা পাড়া, নয়তো দাবি করা জাতই নয়। তারপর আমটি দেখুন। গাছপাকা আমের রং বোঁটার দিক থেকে ধীরে ধীরে বদলায়, বোঁটায় মিষ্টি গন্ধ থাকে আর সমানভাবে নরম হয়; ল্যাংড়া, ফজলি, হিমসাগরসহ কয়েকটি জাত পাকার পরও বেশির ভাগ সবুজ থাকে। নিষিদ্ধ ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়ে পাকানো আম প্রায়ই বাইরে সমান ঝকঝকে হলুদ দেখায়, অথচ আঁটির কাছে শাঁস শক্ত আর টক, গন্ধও ক্ষীণ। ফরমালিন নিয়ে তথ্য আশ্বস্ত করার মতো: বিসিএসআইআরের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, অভিযানে ব্যবহৃত যন্ত্র আসলে বাতাস মাপার জন্য তৈরি, ফলের জন্য নয়; আমের মতো কম আমিষের ফল ফরমালিনে সংরক্ষিত হয় না; আর বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় মৌসুমি ফলে ফরমালিন মেলেনি। ফলে প্রাকৃতিকভাবেই সামান্য ফরমালডিহাইড থাকে, তাই "ফরমালিনমুক্ত" লেবেল কিছুই প্রমাণ করে না। আসল ঝুঁকি আগাম পাড়া আর জোর করে পাকানো।

কেনার পরামর্শ

বিক্রেতার কাছে শুধু "রাজশাহী" নয়, জাত, উপজেলা আর পাড়ার তারিখ জানতে চান। মৌসুমের শুরুতে সাতক্ষীরা বা অন্য জেলার আম কখনো রাজশাহীর নামে বিক্রি হয়; তাতে ক্ষতি নেই, তবে উৎসের জন্য বাড়তি দাম দিলে ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ। দাম নির্ভর করে জাত, মৌসুমের সপ্তাহ, আকারের গ্রেড, বাছাই, ক্যারেট বা কার্টনের প্যাকিং আর কুরিয়ারের দূরত্বের ওপর।

মিডমার্ট বিক্রেতাদের তালিকা দেখায়, নিজে বিক্রেতা নয়। প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি চার্জ ঠিক করে, তাই এক বাগানের ল্যাংড়া আর আরেক বাগানের ফজলি মানে দুটি পার্সেল, দুবার চার্জ। মিডমার্ট টাকা নেয় না, পার্সেলও নেয় না: টাকা দেওয়া আর কুরিয়ার আপনি ও বিক্রেতা নিজেরা ঠিক করবেন। নিশ্চিত করার আগে জিজ্ঞেস করুন কীভাবে প্যাক হবে, পৌঁছাতে কত দিন লাগবে, আর আম থেঁতলে বা পচে পৌঁছালে কী হবে।

কীভাবে রাখবেন

বাক্স পৌঁছালেই খুলে নষ্ট আম আলাদা করুন, বাকিগুলো ঠান্ডা, বাতাসওয়ালা জায়গায় এক স্তরে ছড়িয়ে রাখুন, কখনো বন্ধ পলিথিনে নয়। বেশির ভাগ আম দুই থেকে পাঁচ দিনে পুরো পাকে; সুগন্ধ এলে খেয়ে ফেলুন বা ফ্রিজে রাখুন। পাতলা খোসার ল্যাংড়া সবচেয়ে আগে নষ্ট হয়, ফজলি আর আশ্বিনা বেশি দিন টেকে। বাড়তি শাঁস জমিয়ে রাখা যায়, আর একটু কম পাকা আমে আচার বা আমসত্ত্ব ভালো হয়।

মিডমার্টে রাজশাহীর আম খুঁজুন

মিডমার্টে “আম” খুঁজুন

যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান

নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

রাজশাহীর আম নিয়ে প্রশ্ন

একক নাম হিসেবে নয়। জিআই সনদ পেয়েছে নির্দিষ্ট জাত, যেমন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্ষীরশাপাত, ল্যাংড়া ও আশ্বিনা, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আর নওগাঁর নাক ফজলি।

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা