গল্পটা
প্যারা সন্দেশ এখন নানা জেলায় তৈরি হয়, তবে এর আদি ঠিকানা হিসেবে মানুষ নওগাঁর নামই বলেন। স্থানীয় প্রচলিত কথা অনুযায়ী, মহেন্দ্র দাস নামে এক ময়রা বিহারের এক নবাবের হেঁশেলে মিষ্টি বানাতেন; নবাবের পরাজয়ের পর তিনি নওগাঁ শহরের কালীতলায় এসে থিতু হন। তাঁর দোকানের হাল ধরেন ছেলে ধীরেন্দ্রনাথ দাস, পরে বিমল মহন্ত নামে এক কারিগর এই মিষ্টি বানিয়ে খুব নাম করেন। মিষ্টির জন্মকথা সাধারণত যেমন হয়, এটিও লিখিত ইতিহাস নয়, পারিবারিক স্মৃতি; শত বছর বা তারও বেশি যে বয়স বলা হয়, সেটাও আনুমানিক।
জায়গাটার গুরুত্ব আছে। কালীতলা গড়ে উঠেছে একটি কালীমন্দির ঘিরে, আর মন্দিরের ফটকের পাশের ছোট দোকানগুলোকে বলা হতো ভোগের দোকান, পূজার ভোগের মিষ্টি জোগানই ছিল তাদের কাজ। প্যারা সন্দেশের যাত্রা সেই ভোগ থেকেই; পরে সব ধর্মের মানুষের রোজকার মিষ্টি হয়ে ওঠে। সবচেয়ে পরিচিত দোকানটি, যাকে সবাই "মা নওগাঁ প্যারা সন্দেশ" নামে চেনেন, এখনো বুড়ি কালীমাতা মন্দিরের পাশেই, চালান প্রতিষ্ঠাতার উত্তরসূরিরা। বগুড়া, জয়পুরহাট, রাজশাহীর পাইকারেরাও কালীতলা থেকে মাল নেন।
নরম ছানার সন্দেশের সঙ্গে এর তফাত হলো, প্যারা তৈরি হয় ক্ষীর থেকে: গরুর টাটকা দুধ চিনি দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্বাল দিয়ে ঘন, আঠালো মণ্ড বানানো হয়। নওগাঁর প্রতিবেদন বলছে, এক কেজি প্যারার জন্য মোটামুটি ছয়-সাত লিটার দুধ লাগে। ক্ষীর গরম থাকতেই কারিগরেরা অল্প অল্প করে ছিঁড়ে দুই হাতের তালুতে গড়িয়ে প্রায় দুই ইঞ্চি লম্বা, আধা ইঞ্চি চওড়া আঙুলের মতো আকার দেন। আর কিছু মেশানো হয় না, সে কারণেই এটি এত দিন টেকে।
আসল নওগাঁর প্যারা সন্দেশ চিনবেন কীভাবে
নওগাঁর আসল প্যারা ছোট, খানিকটা অসমান, আঙুলের মতো লম্বাটে; চাকতি বা ছাঁচে ঢালা নকশা নয়। ওপরটা শুকনো, ম্যাট, হালকা বাদামি, হাতে গড়ানোর সূক্ষ্ম ফাটল থাকে। ভাঙলে ভেতরটা ঘন আর মিহি দানাদার, খেতে জ্বাল দেওয়া দুধের স্বাদ, সঙ্গে হালকা পোড়া-মিষ্টি আভাস; কাঁচা চিনির ঝাঁঝ নয়। তেলতেলে, রাবারের মতো বা গুঁড়া গুঁড়া লাগা উচিত নয়, রসে ডোবানো তো নয়ই। খুব ফ্যাকাশে, মসৃণ বা স্পঞ্জের মতো হলে সাধারণত রেসিপি আলাদা, চিনি বেশি, কিংবা টাটকা দুধের বদলে গুঁড়া দুধ বা মাড় ব্যবহার হয়েছে। নামটা দেশজুড়ে চলে, তাই বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করুন কোথায়, কারা বানিয়েছেন।
কেনার পরামর্শ
হাতে গোনা যে কয়টি দেশি মিষ্টি কুরিয়ারের ধকল সইতে পারে, প্যারা তার একটি; দূর থেকে কিনতে চাইলে তাই ভালো পছন্দ। তবু জেনে নিন কবে বানানো, নওগাঁতেই তৈরি কি না, আর কীভাবে প্যাক হবে: সাধারণত কাগজে মুড়ে বা কার্ডবোর্ডের বাক্সে কিংবা মুখবন্ধ প্লাস্টিকের কৌটায় দেওয়া হয়, উপহারের জন্য কখনো মাটির সানকিতে। দাম মূলত নির্ভর করে প্রতি কেজিতে কতটা দুধ গেল তার ওপর, তাই অস্বাভাবিক কম দাম দেখলে প্রশ্ন করুন। দুর্গাপূজাসহ উৎসবের সময় চাহিদা বাড়ে, ডেলিভারিতেও দেরি হতে পারে।
মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি চার্জ নিজেই ঠিক করে নেয়; এক দোকান থেকে প্যারা আর আরেক দোকান থেকে দই নিলে পার্সেল দুটি, চার্জও দুটি। মিডমার্ট টাকা নেয় না, কুরিয়ারও পাঠায় না; দাম, পরিশোধের উপায় আর ডেলিভারি অর্ডারের আগে বিক্রেতার সঙ্গে সরাসরি ঠিক করে নিন।
কীভাবে রাখবেন
বাতাস ঢুকতে পারে না এমন বাক্সে, গরম আর স্যাঁতসেঁতে জায়গা থেকে দূরে রাখলে ঘরের তাপমাত্রায় মোটামুটি দশ-পনেরো দিন ভালো থাকে, ফ্রিজে কয়েক সপ্তাহ। আর্দ্রতা টানলে নরম আর চটচটে হয়ে যায়; টক গন্ধ বা ছত্রাক দেখলে ফেলে দিন।
মিডমার্টে নওগাঁর প্যারা সন্দেশ খুঁজুন
মিডমার্টে “প্যারা সন্দেশ” খুঁজুন
যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান
নওগাঁ থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।
মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।
ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন
English
বাংলা