বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

বাংলাদেশের বিখ্যাত পণ্য

পোড়াবাড়ির চমচম

ধলেশ্বরীর তীরের গ্রাম থেকে টাঙ্গাইলের লালচে, মাওয়া ছড়ানো চমচম

পোড়াবাড়ির চমচম টাঙ্গাইল শহরের কাছের পোড়াবাড়ি গ্রামের লম্বাটে, লালচে-বাদামি ছানার মিষ্টি, রসে জ্বাল দিয়ে ওপরে মাওয়া ছিটানো। প্রায় দুই শ বছর ধরে স্থানীয় ঘোষ ও গৌর পরিবারের হাতে তৈরি এই মিষ্টি ২০২৪ সালের এপ্রিলে জিআই নিবন্ধন পায়।

যেখান থেকে
টাঙ্গাইল
মৌসুম
সারা বছর
GI
জিআই নিবন্ধন ২০২৪
স্টিলের থালায় সাজানো মাওয়া ছিটানো লম্বাটে পোড়াবাড়ির চমচম
টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচম ছবি: P.K.Niyogi · Public domain

গল্পটা

পোড়াবাড়ি টাঙ্গাইল শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার পশ্চিমে, ধলেশ্বরীর পাড়ের ছোট্ট একটি গ্রাম। একসময় এটি ছিল নদীবন্দর; স্টিমার আর মালবাহী নৌকা ভিড়ত, আর ব্যবসায়ীরা এখানকার দোকান থেকে চমচম কিনে নিয়ে যেতেন জেলার বাইরে বহু দূরে। স্থানীয় প্রচলিত কথা অনুযায়ী, ব্রিটিশ আমলে দশরথ গৌর নামে এক ব্যক্তি আসাম থেকে এসে পোড়াবাড়িতে বসতি গড়েন এবং স্থানীয় গরুর দুধ আর নদীর পানিতে চমচম বানানো শুরু করেন। পরে গৌর পরিবারের কারিগরেরা টাঙ্গাইলের বাইরেও নাম করেন। দুই শ বছরের যে হিসাব বলা হয়, তা প্রথাগত ধারণা, লিখিত দলিল নয়।

নদী সরে গিয়ে বন্দরের জৌলুস কমলে ব্যবসার বড় অংশ চলে যায় টাঙ্গাইল শহরে, বিশেষ করে পাঁচআনি বাজারের মিষ্টির দোকানগুলোতে। পোড়াবাড়িতে অল্প কয়েকটি পরিবার এখনো চমচম বানিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, হাতে গোনা কয়েকটি পরিবারই এ পেশায় টিকে আছে, আর কারিগরদের অভিযোগ, সস্তা দুধ বা বেশি ময়দা দিয়ে বানানো মিষ্টিতেও অবাধে এই নাম ব্যবহার হচ্ছে।

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের আবেদনের পর ২০২৪ সালের এপ্রিলে পোড়াবাড়ির চমচম ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হয়। কারিগরেরা অবশ্য বলছেন, নকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না থাকায় শুধু স্বীকৃতিতে পরিস্থিতি খুব একটা বদলায়নি।

আসল পোড়াবাড়ির চমচম চিনবেন কীভাবে

আসল পোড়াবাড়ির চমচম লম্বাটে, অনেকটা মোটা ছোট সিলিন্ডারের মতো। ঘন রসে ধীরে জ্বাল দেওয়ায় এর বাইরের আবরণ গাঢ় লালচে-বাদামি বা পোড়া ইটের রঙের হয়, ওপরে মিহি মাওয়া ছড়ানো থাকে। ভেঙে দেখুন: ভেতরটা বাইরের চেয়ে হালকা রঙের, ঠাসা দানাদার আর একটু রসাল; আকার ধরে রাখবে, কিন্তু রাবারের মতো শক্ত বা চকের মতো শুকনো হবে না। কারিগরেরা উপকরণের তালিকা খুব ছোট বলেন: দুধ, চিনি আর সামান্য ময়দা। পাতলা রসে ভাসা ফ্যাকাশে, স্পঞ্জের মতো মিষ্টি কিংবা মুখে ময়দার স্বাদ লাগলে সেটি অন্য ধরনের চমচম। সারা দেশের মিষ্টির বাক্সে "পোড়াবাড়ি" লেখা থাকে, তাই মিষ্টিটা আসলে কোথায় তৈরি, জিজ্ঞেস করুন।

কেনার পরামর্শ

চমচম রান্না করা, তুলনামূলক শুকনো মিষ্টি; তাই দই বা রসমালাইয়ের চেয়ে ভালোভাবে যাত্রা সহ্য করে। কোনো কোনো কারিগর বলেন, ফ্রিজ ছাড়াও কয়েক দিন ভালো থাকে, তবে গরমকালে দুই-তিন দিনের মিষ্টি ধরে নেওয়াই নিরাপদ। বিক্রেতার কাছে জানুন মিষ্টি পোড়াবাড়িতে নাকি টাঙ্গাইল শহরে তৈরি, কোন তারিখে বানানো, বাক্স কীভাবে মুখবন্ধ করা হবে (ভেতরে কাগজ বা পলিথিন দেওয়া কার্টন কিংবা টিন সাধারণ), আর আপনার জেলায় কুরিয়ারে কত দিন লাগবে। দাম নির্ভর করে দুধের মান, ছানা আর ময়দার অনুপাত এবং আকারের ওপর।

মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি চার্জ ঠিক করে; তাই এক বিক্রেতার চমচম আর আরেকজনের অন্য পণ্য মানে দুটি ডেলিভারি, দুটি চার্জ। মিডমার্ট টাকা নেয় না, কুরিয়ারও চালায় না; দুটোই বিক্রেতা আপনার সঙ্গে সরাসরি ঠিক করবেন। মিডমার্টের কোনো তালিকাই জিআই পণ্য হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না, তাই নিশ্চিত করার আগে ওপরের প্রশ্নগুলো করে নিন।

কীভাবে রাখবেন

বন্ধ বাক্সে ঠান্ডা জায়গায় রেখে দুই-তিন দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলুন, অথবা ফ্রিজে রাখলে মোটামুটি এক সপ্তাহ চলে। পরিবেশনের আগে ঘরের তাপমাত্রায় এনে নিন, তাতে নরম ভাব আর স্বাদ দুটোই ফিরে আসে।

মিডমার্টে পোড়াবাড়ির চমচম খুঁজুন

মিডমার্টে “চমচম” খুঁজুন

যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান

টাঙ্গাইল থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

পোড়াবাড়ির চমচম নিয়ে প্রশ্ন

টাঙ্গাইল জেলায়, টাঙ্গাইল শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার পশ্চিমে ধলেশ্বরী নদীর পাড়ের একটি গ্রাম।

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা