বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

চট্টগ্রাম বিভাগ · বাংলাদেশ

ফেনী

ঢাকা-চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার, খন্ডলের মিষ্টির দেশ

ত্রিপুরা ও বঙ্গোপসাগরের মাঝে ঢাকা-চট্টগ্রাম পথের ছোট কিন্তু ব্যস্ত জেলা ফেনী; মুহুরী সেচ প্রকল্প, পুরোনো দিঘি, খন্ডলের গরম রসগোল্লা, মহিষের দুধের ঘি আর প্রবাসীদের সঙ্গে গভীর যোগের জন্য পরিচিত।

আয়তন
৯২৮ বর্গকিমি
জনসংখ্যা (২০২২)
১,৬৪৮,৮৯৬
উপজেলা
৬
ইউনিয়ন
৪৩
জেলা গঠন
১৯৮৪
সাক্ষরতা
৮০.৮%
কচুরিপানায় ঢাকা ফেনী নদী ও মুহুরী প্রকল্পের দীর্ঘ স্লুইসগেট
মুহুরী প্রকল্প, সোনাগাজী ছবি: Bolideleoi · CC BY 4.0

ফেনী সম্পর্কে

ফেনী দেশের ছোট জেলাগুলোর একটি, তবু ঢাকা-চট্টগ্রামের প্রায় প্রত্যেক যাত্রী এর ভেতর দিয়ে যান, কারণ প্রধান মহাসড়ক ও রেলপথ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য আর সাগরের মাঝের এই সরু ভূখণ্ড দিয়েই গেছে। উত্তর ও পূর্বে ত্রিপুরা, দক্ষিণ-পূর্বে চট্টগ্রাম, পশ্চিমে নোয়াখালী, উত্তর-পশ্চিমে কুমিল্লা, আর দক্ষিণে ফেনী নদীর মোহনা ও বঙ্গোপসাগর। জেলায় ৬টি উপজেলা: ফেনী সদর, ছাগলনাইয়া, দাগনভূঞা, পরশুরাম, ফুলগাজী ও সোনাগাজী। ২০২২ সালে জনসংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ।

জমি সমতল ও নিচু, ত্রিপুরার পাহাড় থেকে পানি বয়ে আনা ফেনী, মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদী এর ভেতর দিয়ে গেছে। ফলে উত্তরের উপজেলাগুলোতে হঠাৎ পাহাড়ি ঢলের বন্যার ঝুঁকি থাকে: ২০২৪ সালের আগস্টে উজানের পানিতে পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও ফেনী সদর ভেসে গিয়ে স্মরণকালের ভয়াবহতম বন্যা হয়। দক্ষিণের সোনাগাজী উপজেলা ফেনী নদীর মোহনার কাছে উপকূলীয় চর ও কাদাচরে গিয়ে মিশেছে।

ইতিহাস

জেলার নাম এসেছে ফেনী নদী থেকে। স্থানীয় নানা গল্প শব্দটিকে সাপ অর্থে "ফণী"-র সঙ্গে যুক্ত করে, হয়তো নদীর আঁকাবাঁকা গতিপথের কারণে; ষোড়শ-সপ্তদশ শতকের বাংলা ও ফারসি লেখায় ফেনী নামে একটি খেয়াঘাটের উল্লেখ পাওয়া যায়। অঞ্চলটি বৃহত্তর নোয়াখালীর পুরোনো ভুলুয়া অঞ্চলের অংশ এবং বাংলা, ত্রিপুরা ও আরাকানের সীমান্ত ছিল। আঠারো শতকে স্থানীয় শাসক শমসের গাজী ছাগলনাইয়াকে কেন্দ্র করে এলাকার বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন, ১৭৬০-এর দশকে পরাজয় পর্যন্ত। ১৮৭৬ সালে ফেনী নোয়াখালীর মহকুমা এবং ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ জেলা হয়।

ফেনী দেশকে উপহার দিয়েছে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের শহীদ আবদুস সালামের জন্ম দাগনভূঞায়। লেখক শহীদুল্লা কায়সার ও তাঁর ভাই, "জীবন থেকে নেয়া"-র পরিচালক চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান এই জেলার সন্তান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বার্মা অভিযানের জন্য মিত্রবাহিনী এখানে বিমানঘাঁটি তৈরি করে, আর ১৯৭১ সালে প্রধান সরবরাহ পথে থাকায় ৬ ডিসেম্বর মুক্ত হওয়া পর্যন্ত ফেনীতে তীব্র লড়াই চলে।

অর্থনীতি ও জীবিকা

প্রবাসী আয় ফেনীকে যতটা প্রভাবিত করে, তা খুব কম জেলাতেই দেখা যায়: বিপুলসংখ্যক পরিবারের সদস্য মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ নানা দেশে কাজ করেন, আর তাঁদের পাঠানো টাকার ছাপ দেখা যায় নতুন বাড়ি, দোকান ও স্কুলে। কৃষিও গুরুত্বপূর্ণ, সমতলজুড়ে ধান, সবজি ও মাছের পুকুর; সোনাগাজীর মুহুরী সেচ প্রকল্প হাজার হাজার হেক্টর জমিতে পানি দেয়। ফেনী শহর আশপাশের এলাকার ব্যস্ত বাণিজ্যকেন্দ্র, আর সোনাগাজী উপকূলে বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের পরিকল্পনা রয়েছে।

খাবার, সংস্কৃতি ও উৎসব

স্থানীয় উপভাষা নোয়াখালীর কাছাকাছি, আর খাবার এখানে ভ্রমণের বড় আকর্ষণ। খন্ডলের মিষ্টি, ষাটের দশকের শেষ দিকে ছোট খন্ডল বাজারে প্রথম তৈরি এক ধরনের রসগোল্লা, যা ঠান্ডার পাশাপাশি গরমও খাওয়া হয়; প্রবাসীরা এটি মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ পর্যন্ত নিয়ে যান। উপকূলীয় চরের মহিষের দুধের ঘি, খিলি ও পানতুয়ার মতো পিঠা আর ঝাল শুঁটকি ভুনাও এখানকার প্রিয় খাবার।

বাংলাপিডিয়া জেলার লোকঐতিহ্যের তালিকায় যাত্রা, ভাটিয়ালি, রাখালি, মারফতি ও মুর্শিদি গানের পাশাপাশি ধাঁধা, ছড়া ও খনার বচনের কথা বলেছে। ১৯২২ সালে প্রতিষ্ঠিত ফেনী কলেজ দীর্ঘদিন ধরে শহরের বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক জীবনের কেন্দ্র।

ফেনী-এর দর্শনীয় স্থান

  1. মুহুরী প্রকল্প, সোনাগাজী

    সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ফেনী নদীর ওপর নির্মিত দীর্ঘ স্লুইসগেট ও ক্লোজার ড্যাম, পেছনে বিস্তীর্ণ জলাধার। পিকনিক ও নৌকাভ্রমণের প্রিয় জায়গা, শীতে অতিথি পাখিও আসে।

  2. রাজাঝির দিঘি

    ফেনী শহরের কেন্দ্রে বড় পুরোনো দিঘি, চারপাশে সরকারি দপ্তর আর হাঁটার পথ; বিকেলে বেড়ানোর জনপ্রিয় জায়গা।

  3. বিজয় সিংহ দিঘি

    ফেনী শহরের প্রান্তে ঐতিহাসিক দিঘি, প্রচলিত আছে এক স্থানীয় রাজা এটি খনন করান; স্বচ্ছ পানি আর ছায়াঘেরা পাড়।

  4. শমসের গাজীর স্মৃতিবিজড়িত এলাকা, ছাগলনাইয়া

    ছাগলনাইয়ার কাছে আঠারো শতকের শাসক শমসের গাজীর সঙ্গে যুক্ত ধ্বংসাবশেষ ও স্থান, জেলার সীমান্ত-ইতিহাসের অংশ।

  5. ভাষাশহীদ আবদুস সালামের গ্রাম, দাগনভূঞা

    ভাষাশহীদের জন্মগ্রাম, এখন যার নাম সালামনগর; তাঁর স্মরণে রয়েছে স্মৃতি গ্রন্থাগার ও জাদুঘর।

ফেনী যে জন্য বিখ্যাত

ফেনী কীভাবে যাবেন

ফেনী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর; ঢাকার সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী থেকে বাসে যানজটভেদে মোটামুটি সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা লাগে। ঢাকা-চট্টগ্রামের বেশির ভাগ আন্তঃনগর ট্রেন ফেনী স্টেশনে থামে, কমলাপুর থেকে প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা। চট্টগ্রাম থেকে সড়কপথে প্রায় দুই ঘণ্টা। কাছের বিমানবন্দর চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

হাট ও বাজার

ফেনী বড় বাজার
শহরের প্রধান বাজার, মুদি, মাছ, কাপড় ও গৃহস্থালি পণ্যের পাইকারি ও খুচরা দোকানে ঠাসা, পুরো জেলার চাহিদা মেটায়।
খন্ডল বাজার
জেলার উত্তরে, ফেনী শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের ছোট গ্রামীণ বাজার; এখানকার মিষ্টির দোকানগুলোর নামেই খন্ডলের রসগোল্লার পরিচিতি।

এক নজরে ফেনী

এক নজরে ফেনী

মিডমার্টে ফেনী-এর দোকান

ফেনী থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে বিক্রি করছে না।

ফেনী-এর দোকান থেকে কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

ফেনী নিয়ে প্রশ্ন

খন্ডলের মিষ্টি, মহিষের দুধের ঘি, মুহুরী সেচ প্রকল্প, ঢাকা-চট্টগ্রাম পথের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান এবং ভাষাশহীদ আবদুস সালামের জন্মভূমি হিসেবে।

ফেনী-এ কিছু বানান বা ফলান?

বিনামূল্যে দোকান খুলুন আর সারা বাংলাদেশের ক্রেতার কাছে বিক্রি করুন। কোনো কমিশন বা লিস্টিং ফি নেই — ক্রেতা সরাসরি আপনাকে টাকা দেন, কুরিয়ার বেছে নেন আপনি।

ফেনী থেকে অনলাইনে বিক্রি করুন

চট্টগ্রাম বিভাগের আরও জেলা

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা

সংখ্যাগুলো নিচের তথ্যসূত্র থেকে নেওয়া। আলাদা করে বলা না থাকলে জনসংখ্যার তথ্য ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা থেকে।