বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

চট্টগ্রাম বিভাগ · বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুর

মেঘনার মোহনায় সয়াবিনের খেত, নারকেল আর সুপারির বাগান

নিম্ন মেঘনার তীরের লক্ষ্মীপুর দেশের সয়াবিনের প্রধান ভান্ডার এবং নারকেল ও সুপারির বড় উৎস; রামগতি-কমলনগরের চরের মহিষের দই আর মজুচৌধুরীর হাটের ইলিশের জন্যও পরিচিত।

আয়তন
১,৪৪০ বর্গকিমি
জনসংখ্যা (২০২২)
১,৯৩৭,৯৪৮
উপজেলা
৫
ইউনিয়ন
৫৮
জেলা গঠন
১৯৮৪
সাক্ষরতা
৭৪.০%
রামগতিতে ঝড়ো মেঘের নিচে বিস্তীর্ণ মেঘনায় লাল পতাকাওয়ালা তিনটি মাছধরা নৌকা
রামগতিতে মেঘনা নদী ছবি: Asikul Islam Himel · CC BY-SA 4.0

লক্ষ্মীপুর সম্পর্কে

লক্ষ্মীপুর নিম্ন মেঘনার পূর্ব তীরে ছোট, মোটামুটি ত্রিভুজাকার জেলা, যেখানে নদী চওড়া হয়ে মোহনায় পরিণত হয়েছে। উত্তরে চাঁদপুর, পূর্ব ও দক্ষিণে নোয়াখালী, আর পশ্চিমে জলরাশির ওপারে বরিশাল ও ভোলা। জেলায় ৫টি উপজেলা: লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা প্রায় ১৯ লাখ ৪০ হাজার।

জেলার বড় অংশই নতুন ভূমি। শতাব্দীর পর শতাব্দী মেঘনা এখানে পলি জমিয়েছে, আজকের অনেক খেতই একসময় চর ছিল যা ধীরে ধীরে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে মিশেছে; দক্ষিণ-পশ্চিমে রামগতি ও কমলনগরে এখনো নতুন চর জাগে, আবার নদী অন্য চর গিলে খায়, তাই ভাঙন নিত্য দুশ্চিন্তা। সমতল ভূমিজুড়ে পুকুরঘেরা বসতভিটায় নারকেল ও সুপারির ঘন বাগান, গ্রামগুলোকে দেয় বিশেষ সবুজ, ছায়াঘেরা চেহারা।

ইতিহাস

লক্ষ্মীপুর প্রাচীন সমতট অঞ্চলের অংশ ছিল, পরে ভুলুয়া রাজ্যের, যা সপ্তদশ শতকের শুরুতে মোগলদের দখলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত বাংলার সুলতান, ত্রিপুরা ও আরাকানের টানাপোড়েনে ছিল। স্থানীয় ঐতিহ্য চৌদ্দ শতকে আসা সুফি সাধক শাহ মিরানকে স্মরণ করে। ব্রিটিশ আমলে এলাকাটি নোয়াখালী জেলার অংশ ছিল; ১৯৭৯ সালে লক্ষ্মীপুর মহকুমা এবং ১৯৮৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জেলা হয়।

১৯৪৬ সালে রামগঞ্জের শ্যামপুর থেকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়ে বৃহত্তর নোয়াখালীতে ছড়িয়ে পড়ে; মহাত্মা গান্ধী শান্তি মিশনে কয়েক মাস ধরে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোতে হেঁটে বেড়ান। ভাষা আন্দোলনের কর্মী মোহাম্মদ তোয়াহা ও আ স ম আবদুর রবসহ অনেক পরিচিত মানুষ এই জেলার, আর এভারেস্টজয়ী প্রথম বাংলাদেশি নারী নিশাত মজুমদারের শিকড়ও এখানে।

চিনামাটির কারুকাজ করা স্তম্ভ ও খিলানসহ লক্ষ্মীপুরের তিতা খাঁ জামে মসজিদের সম্মুখভাগ
তিতা খাঁ জামে মসজিদ, লক্ষ্মীপুর ছবি: Mahmuddulbd · CC BY-SA 4.0

অর্থনীতি ও জীবিকা

অর্থনীতির চালিকাশক্তি কৃষি, আর লক্ষ্মীপুরের পরিচয়পত্র সয়াবিন: দেশের সবচেয়ে বড় উৎপাদনকারী জেলা, শীতের ধানের পর মূলত রামগতি, কমলনগর, রায়পুর ও সদরে এর চাষ হয়; কৃষি কর্মকর্তাদের হিসাবে জাতীয় উৎপাদনের চার ভাগের তিন ভাগ বা তারও বেশি আসে এখান থেকে। নারকেল ও সুপারি অন্য বড় অর্থকরী ফসল, ট্রাকভর্তি হয়ে যায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলে। মেঘনায় জেলেরা ইলিশসহ নদীর মাছ ধরেন, আর উপকূলের চরে চরে মহিষের পাল চরে। প্রবাসী আয়ও বহু পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

খাবার, সংস্কৃতি ও উৎসব

স্থানীয় উপভাষা নোয়াখালী ঘরানার, আর খাবারে নারকেল ও মাছের প্রাধান্য। লক্ষ্মীপুরের সবচেয়ে পরিচিত বিশেষত্ব মহিষের দই: রামগতি ও কমলনগরের চরে মহিষের কাঁচা দুধে তৈরি ঘন, টক দই, বিয়ে ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে অতিথি আপ্যায়নে যার কদর সবচেয়ে বেশি। নারকেলের পিঠা আর ইলিশের পদও প্রিয়।

বাংলাপিডিয়া জেলার ঐতিহ্যের তালিকায় পালাগান, মুর্শিদি ও সারিগান, লোককাহিনি, ছড়া ও প্রবাদের কথা উল্লেখ করেছে। রামগঞ্জের শ্যামপুরের দায়রা শরিফ সুফি সাধনার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, বার্ষিক মাহফিলে বহু মানুষ আসেন।

লক্ষ্মীপুর-এর দর্শনীয় স্থান

  1. তিতা খাঁ জামে মসজিদ

    লক্ষ্মীপুর শহরের পুরোনো মসজিদ, স্তম্ভ ও দেয়ালে রঙিন চিনামাটির টুকরোর কারুকাজ; সংরক্ষিত পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত।

  2. রামগতিতে মেঘনার মোহনা

    রামগতি ও আলেকজান্ডারের নদীতীর, যেখানে মেঘনা এত চওড়া যে সাগর বলে মনে হয়। মাছধরা নৌকা, চরের দ্বীপ আর বর্ষার নাটকীয় আকাশ দেখতে যাওয়ার মতো।

  3. দালাল বাজার জমিদারবাড়ি ও খোয়া সাগর

    জেলা শহরের কাছে দালাল বাজারে জমিদার প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ, পাশেই বড় পুরোনো দিঘি খোয়া সাগর।

  4. মজুচৌধুরীর হাট

    শহরের পশ্চিমে মেঘনার পাড়ের ঘাট, ভোলাগামী লঞ্চ ও ফেরির পারাপারের জায়গা; ইলিশের নৌকা ভেড়া দেখার জমজমাট স্থান।

  5. দায়রা শরিফ, শ্যামপুর

    রামগঞ্জ উপজেলার সুফি দরগাহ ও ধর্মীয় কমপ্লেক্স, বৃহত্তর নোয়াখালীর সবচেয়ে পরিচিত আধ্যাত্মিক কেন্দ্রগুলোর একটি।

লক্ষ্মীপুর যে জন্য বিখ্যাত

লক্ষ্মীপুর কীভাবে যাবেন

ঢাকার সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী থেকে লক্ষ্মীপুর শহরে বাস চলে, চাঁদপুর হয়ে অথবা কুমিল্লা-নোয়াখালী হয়ে; পথ ও যানজটভেদে মোটামুটি পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা লাগে। লক্ষ্মীপুরে রেলস্টেশন নেই; কাছের স্টেশন চাঁদপুর ও নোয়াখালী (মাইজদী)। বরিশাল ও ভোলা থেকে লঞ্চ ও ফেরি মেঘনা পেরিয়ে মজুচৌধুরীর হাটে আসে।

হাট ও বাজার

মজুচৌধুরীর হাট মৎস্যঘাট
মেঘনার মাছধরা নৌকা এখানে ইলিশ, পাঙাশসহ নদীর মাছ নামায়, আর ব্যবসায়ীরা ভেতরের বাজারগুলোর জন্য কেনেন; ইলিশ মৌসুমে সবচেয়ে ব্যস্ত।
লক্ষ্মীপুর শহরের বাজার
জেলা শহরের প্রধান বাজার, নারকেল ও সুপারির পাইকারি ব্যবসার কেন্দ্র; মুদি, কাপড় ও তাজা পণ্যও মেলে।
রায়পুর বাজার
জেলার উত্তরের ব্যস্ত বাজারশহর, সুপারি, নারকেল ও মৌসুমি ফসলের বেচাকেনার জন্য পরিচিত।

এক নজরে লক্ষ্মীপুর

এক নজরে লক্ষ্মীপুর

মিডমার্টে লক্ষ্মীপুর-এর দোকান

লক্ষ্মীপুর থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে বিক্রি করছে না।

লক্ষ্মীপুর-এর দোকান থেকে কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

লক্ষ্মীপুর নিয়ে প্রশ্ন

সয়াবিন (দেশের সবচেয়ে বড় উৎপাদনকারী জেলা), নারকেল ও সুপারি, রামগতি ও কমলনগরের মহিষের দই এবং মেঘনার ইলিশের জন্য।

লক্ষ্মীপুর-এ কিছু বানান বা ফলান?

বিনামূল্যে দোকান খুলুন আর সারা বাংলাদেশের ক্রেতার কাছে বিক্রি করুন। কোনো কমিশন বা লিস্টিং ফি নেই — ক্রেতা সরাসরি আপনাকে টাকা দেন, কুরিয়ার বেছে নেন আপনি।

লক্ষ্মীপুর থেকে অনলাইনে বিক্রি করুন

চট্টগ্রাম বিভাগের আরও জেলা

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা

সংখ্যাগুলো নিচের তথ্যসূত্র থেকে নেওয়া। আলাদা করে বলা না থাকলে জনসংখ্যার তথ্য ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা থেকে।