বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

ঢাকা বিভাগ · বাংলাদেশ

টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইল শাড়ি, পোড়াবাড়ির চমচম আর মধুপুরের শালবন

ঢাকা বিভাগের সবচেয়ে বড় জেলা টাঙ্গাইল তাঁতের টাঙ্গাইল শাড়ি, পোড়াবাড়ির চমচম, মধুপুরের আনারস ও শালবন, আতিয়া মসজিদ আর যমুনা সেতুর জন্য পরিচিত।

আয়তন
৩,৪১৪ বর্গকিমি
জনসংখ্যা (২০২২)
৪,০৩৭,৩১৬
উপজেলা
১২
ইউনিয়ন
১০৯
জেলা গঠন
১৯৬৯
সাক্ষরতা
৬৯.৮%
দেলদুয়ারে ১৬০৯ সালের আতিয়া মসজিদের টেরাকোটা অলংকৃত সম্মুখভাগ ও গম্বুজ
আতিয়া মসজিদ, দেলদুয়ার ছবি: Ilham hossain · CC BY-SA 4.0

টাঙ্গাইল সম্পর্কে

টাঙ্গাইল ঢাকার উত্তর-পশ্চিমে, পশ্চিমে যমুনা থেকে পূর্বে মধুপুর গড় পর্যন্ত বিস্তৃত। আয়তনে এটি ঢাকা বিভাগের সবচেয়ে বড় জেলা, আর ২০২২ সালের জনশুমারিতে প্রায় ৪০ লাখ ৩৭ হাজার মানুষ নিয়ে দেশের অন্যতম জনবহুল জেলা। এর ১২টি উপজেলা: টাঙ্গাইল সদর, বাসাইল, ভূঞাপুর, দেলদুয়ার, ধনবাড়ী, ঘাটাইল, গোপালপুর, কালিহাতী, মধুপুর, মির্জাপুর, নাগরপুর ও সখীপুর।

পশ্চিমাংশ যমুনা, ধলেশ্বরী আর টাঙ্গাইল শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া লৌহজং নদীর গড়া নিচু জমি; বর্ষায় চর আর প্লাবনভূমি পানিতে ভরে যায়। পূর্বে জমি উঠে গেছে লাল মাটির মধুপুর গড়ে, যেখানে মধুপুর জাতীয় উদ্যানের অবশিষ্ট শালবনে গারো ও কোচদের গ্রাম, আর টিলাজুড়ে আনারস ও কলার বাগান।

ভূঞাপুরে প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যমুনা সেতু টাঙ্গাইলকে সিরাজগঞ্জ ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করেছে, ফলে জেলাটি ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের মাঝে বড় সংযোগস্থল।

ইতিহাস

বাংলার সুলতান ও মোগল আমলে এলাকাটি আটিয়া পরগনার অংশ ছিল, আর সেই যুগের নিদর্শন ১৬০৯ সালের আতিয়া মসজিদ আজও টিকে আছে। জেলার পরবর্তী ইতিহাস গড়েছেন জমিদারেরা, যেমন করটিয়ার পন্নী পরিবার, ধনবাড়ীর নবাব আর মহেড়ার জমিদারেরা, যাঁদের প্রাসাদ এখনো দাঁড়িয়ে আছে। ১৮৭০ সাল থেকে টাঙ্গাইল ছিল ময়মনসিংহের একটি মহকুমা, আর ১৯৬৯ সালের ১ ডিসেম্বর এটি আলাদা জেলা হয়।

জেলাটি অনেক প্রভাবশালী মানুষের জন্ম দিয়েছে বা আশ্রয় দিয়েছে: কৃষকনেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, যিনি সন্তোষে থাকতেন এবং সেখানেই সমাহিত; সা'দত কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ওয়াজেদ আলী খান পন্নী; আর মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতাল ও ভারতেশ্বরী হোমসের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহা। ১৯৭১ সালে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের বড় বাহিনী কাদেরিয়া বাহিনী টাঙ্গাইলজুড়ে যুদ্ধ করে।

ফুলের বাগানসহ মহেড়া জমিদারবাড়ির সংস্কার করা ভবনের সাদা স্তম্ভশোভিত সম্মুখভাগ
মহেড়া জমিদারবাড়ি, মির্জাপুর ছবি: Ilham hossain · CC BY-SA 4.0

অর্থনীতি ও জীবিকা

তাঁতশিল্প টাঙ্গাইলের সবচেয়ে বিখ্যাত শিল্প; পাথরাইল, দেলদুয়ার, কালিহাতী ও নাগরপুরের তাঁতিরা সূক্ষ্ম পাড়ের হালকা সুতি ও সিল্কের টাঙ্গাইল শাড়ি বোনেন। কৃষি অন্য স্তম্ভ: মধুপুর ও ঘাটাইলে আনারস, কলা, কাঁঠাল, আদা ও হলুদ হয়, আর পশ্চিমের প্লাবনভূমিতে ধান, পাট, সরিষা ও সবজি। পোড়াবাড়ি ও টাঙ্গাইল শহর মিষ্টির জন্য পরিচিত; এ ছাড়া জেলায় চালকল, মির্জাপুর ও কালিহাতীর কাছে বাড়তে থাকা কারখানা আর প্রবাসী আয়ে চলা বহু পরিবার আছে।

খাবার, সংস্কৃতি ও উৎসব

ধলেশ্বরীর তীরের পোড়াবাড়ি গ্রামের ঘন, রসালো চমচম বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত মিষ্টিগুলোর একটি। মধুপুরের গারো সম্প্রদায় গান আর নাচে তাঁদের ফসল তোলার উৎসব ওয়ানগালা উদযাপন করেন। মেলায় জারি, সারি, ভাটিয়ালি, বাউল আর কবিগান হয়, আর বর্ষার পরে নদীতে নৌকাবাইচ।

টাঙ্গাইলের তাঁতিপাড়ার আছে নিজস্ব ছন্দ: ভোর থেকে মাকুর শব্দ, আর সাপ্তাহিক শাড়ির হাট, যেখানে সারা দেশের ব্যবসায়ীরা আসেন।

টাঙ্গাইল-এর দর্শনীয় স্থান

  1. আতিয়া মসজিদ

    দেলদুয়ারের আতিয়ায় ১৬০৯ সালে নির্মিত চার গম্বুজের ইটের মসজিদ, সূক্ষ্ম টেরাকোটা প্যানেলে সাজানো। একসময় দশ টাকার নোটে এর ছবি ছিল, আর এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর মোগল আমলের মসজিদগুলোর একটি।

  2. মহেড়া জমিদারবাড়ি

    মির্জাপুরের মহেড়ায় সংস্কার করা কয়েকটি বিশাল জমিদারভবন, পুকুর আর বাগানসহ। চত্বরটিতে এখন পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, তবে দর্শনার্থীদের জন্য খোলা।

  3. মধুপুর জাতীয় উদ্যান

    মধুপুর গড়ের শালবন, হাঁটার পথ, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, বানর আর পাখিসহ; গারো ও কোচ সম্প্রদায়ের বাস। দেশের অবশিষ্ট বড় শালবনগুলোর একটি।

  4. যমুনা সেতু ও ভূঞাপুর

    যমুনার ওপর দীর্ঘ সেতু; ভূঞাপুর ও কালিহাতীর নদীতীর থেকে নৌকা আর বিশাল বিনুনি-নদী দেখা যায়।

  5. সন্তোষে ভাসানীর মাজার

    টাঙ্গাইল শহরের কাছে সন্তোষে মওলানা ভাসানীর সমাধি, যেখানে প্রতি নভেম্বরে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে বড় সমাবেশ হয়।

টাঙ্গাইল যে জন্য বিখ্যাত

টাঙ্গাইল কীভাবে যাবেন

টাঙ্গাইল শহর ঢাকা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার। মহাখালী ও গাবতলী থেকে বাসে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে চন্দ্রা ও গাজীপুরের যানজট বুঝে মোটামুটি আড়াই থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা লাগে। ঢাকা ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে চলা ট্রেন টাঙ্গাইল স্টেশনে থামে, আর উত্তরবঙ্গগামী অনেক বাস যমুনা সেতুর পথে টাঙ্গাইল হয়ে যায়।

হাট ও বাজার

করটিয়া হাট
টাঙ্গাইল শহরের কাছে করটিয়ার বিশাল সাপ্তাহিক কাপড়ের হাট, যেখানে ব্যবসায়ীরা তাঁতিদের কাছ থেকে পাইকারি দরে শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা আর কাপড় কেনেন।
বাজিতপুর শাড়ির হাট
টাঙ্গাইল শহরের কাছে ভোরের শাড়ির হাট, যেখানে তাঁতিরা সদ্য বোনা টাঙ্গাইল শাড়ি সরাসরি ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন।
জলছত্র বাজার, মধুপুর
মধুপুর সড়কের পাশের বাজার, মৌসুমে আনারসের কেনাবেচার জন্য পরিচিত; তখন ট্রাক বোঝাই করে সারা দেশে আনারস যায়।

এক নজরে টাঙ্গাইল

এক নজরে টাঙ্গাইল

মিডমার্টে টাঙ্গাইল-এর দোকান

টাঙ্গাইল থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে বিক্রি করছে না।

টাঙ্গাইল-এর দোকান থেকে কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

টাঙ্গাইল নিয়ে প্রশ্ন

তাঁতের টাঙ্গাইল শাড়ি, পোড়াবাড়ির চমচম, মধুপুরের আনারস ও শালবন, আতিয়া মসজিদ আর যমুনা সেতুর জন্য।

টাঙ্গাইল-এ কিছু বানান বা ফলান?

বিনামূল্যে দোকান খুলুন আর সারা বাংলাদেশের ক্রেতার কাছে বিক্রি করুন। কোনো কমিশন বা লিস্টিং ফি নেই — ক্রেতা সরাসরি আপনাকে টাকা দেন, কুরিয়ার বেছে নেন আপনি।

টাঙ্গাইল থেকে অনলাইনে বিক্রি করুন

ঢাকা বিভাগের আরও জেলা

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা

সংখ্যাগুলো নিচের তথ্যসূত্র থেকে নেওয়া। আলাদা করে বলা না থাকলে জনসংখ্যার তথ্য ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা থেকে।