শরীয়তপুর সম্পর্কে
শরীয়তপুর পদ্মার দক্ষিণ তীরে, ওপারে মুন্সিগঞ্জ; পূর্বে মেঘনা ও চাঁদপুর, দক্ষিণে বরিশাল আর পশ্চিমে মাদারীপুর। জেলার ৬টি উপজেলা: শরীয়তপুর সদর (পালং), জাজিরা, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট। ২০২২ সালের জনশুমারিতে প্রায় ১২ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ গণনা করা হয়েছে।
জেলাটি চলমান পদ্মার গড়া নিচু, নবীন ভূমি; পালং, জয়ন্তী ও কীর্তিনাশা নদী এর ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে, আর পদ্মা-মেঘনার মোহনার কাছে অনেক চর। নদীভাঙন এখানে নিত্যসঙ্গী, বিশেষ করে নড়িয়া ও জাজিরায়, যেখানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুরো গ্রাম আর বাজার নদীতে হারিয়ে গেছে।
২০২২ সালে জাজিরায় দক্ষিণ প্রান্ত রেখে পদ্মা বহুমুখী সেতু চালু হওয়ার পর শরীয়তপুর দ্রুত বদলে গেছে। যে যাত্রায় একসময় দীর্ঘ ফেরি পারাপার লাগত, এখন ঢাকা থেকে সড়কপথে তা মাত্র ঘণ্টা দুয়েকের ব্যাপার।
ইতিহাস
জেলার নাম রাখা হয়েছে ফরায়েজি সংস্কার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তুল্লাহর (১৭৮১-১৮৪০) নামে, যিনি এই অঞ্চলে সক্রিয় ছিলেন। ঐতিহাসিকভাবে এলাকাটি প্রাচীন বঙ্গ ও সমতটের মাঝামাঝি ছিল, পরে চাঁদ রায় ও কেদার রায়ের মতো বারো ভূঁইয়া প্রধানদের অধীনে আসে। আঠারো শতকে বাংলার নবাবদের প্রভাবশালী কর্মকর্তা রাজা রাজবল্লভ রাজনগরে মন্দির ও প্রাসাদসহ তাঁর রাজধানী গড়েন; যে নদী পরে সেগুলো ভাসিয়ে নিয়ে যায়, তাকে মানুষ মনে রেখেছে কীর্তিনাশা নামে।
ব্রিটিশ আমলে এলাকাটি ফরিদপুর জেলার অংশ ছিল, আর ১৯৮৪ সালে মাদারীপুর মহকুমার পূর্বাঞ্চলের থানাগুলো নিয়ে নতুন শরীয়তপুর জেলা গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা ও গোসাইরহাটে মুক্তিযোদ্ধারা একাধিক লড়াই করেন।
অর্থনীতি ও জীবিকা
বেশির ভাগ পরিবারের জীবিকা কৃষি ও মাছ ধরা: নদীর মাটিতে ধান, পাট, গম, পেঁয়াজ, আদা, টমেটো আর মিষ্টি আলু হয়, আর পাট, পেঁয়াজ, আদা ও টমেটো জেলার বাইরেও ভালো বিক্রি হয়। পদ্মা ও মেঘনা থেকে আসে ইলিশ, আর মৌসুমে জাজিরা, নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জের মাছবাজার জমজমাট থাকে। ইতালিতে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় সম্প্রদায়গুলোর একটি শরীয়তপুরের, আর ইতালি, মধ্যপ্রাচ্যসহ নানা দেশ থেকে আসা প্রবাসী আয় স্থানীয় অর্থনীতির বড় অংশ। বাঁশ ও বেতের কাজ ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্প।
খাবার, সংস্কৃতি ও উৎসব
শরীয়তপুরের সবচেয়ে পরিচিত খাবার বিবিখানা পিঠা, অতিথি আপ্যায়ন, বিয়ে আর উৎসবে বানানো চালের গুঁড়ার সমৃদ্ধ পিঠা; সঙ্গে পায়েস আর মৌসুমে আমের আচার। পালং বাজারের মিষ্টির দোকানগুলো রসগোল্লার জন্য বিখ্যাত। লোকসংস্কৃতির মধ্যে আছে জারি ও কবিগান, বিয়ের গান, যাত্রা আর নৌকাবাইচ; একসময় পৌষ ও চৈত্রসংক্রান্তিতে ষাঁড়ের লড়াইও হতো।
ধর্মীয় স্থানের মধ্যে নড়িয়ার সুরেশ্বর দরবার শরীফে বহু ভক্ত আসেন, আর গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে আছে পুরোনো মন্দির ও মঠ।
শরীয়তপুর-এর দর্শনীয় স্থান
-
জাজিরায় পদ্মা সেতু
৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা বহুমুখী সেতুর দক্ষিণ প্রান্ত নেমেছে জাজিরা উপজেলায়। সংযোগ সড়কের কাছের নদীতীর থেকে, বিশেষ করে সূর্যাস্তে, সেতু ও নদীর বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়।
-
রুদ্রকর মঠ
শরীয়তপুর সদরের রুদ্রকর ইউনিয়নে উঁচু পুরোনো হিন্দু মঠ, স্থানীয় ফলক অনুযায়ী ১৮৯৮ সালে পুনর্নির্মিত, এখন আংশিক গাছপালায় ঢাকা। গ্রামের দৃশ্যপটে এটি নজর কাড়ে।
-
ধানুকা মনসা বাড়ি
শরীয়তপুর সদরের ধানুকায় দেবী মনসার পুরোনো মন্দির চত্বর, পুকুর, একাধিক মন্দির আর মেলার মাঠসহ, স্থানীয় হিন্দুদের কাছে পবিত্র স্থান।
-
ফতেহজংপুর দুর্গ
নড়িয়া উপজেলায় একটি দুর্গের ধ্বংসাবশেষ, বাংলাপিডিয়ায় জেলার প্রধান প্রত্নস্থল হিসেবে উল্লিখিত, যা এ অঞ্চলের মধ্যযুগীয় প্রতিরক্ষার সঙ্গে যুক্ত।
শরীয়তপুর যে জন্য বিখ্যাত
শরীয়তপুর কীভাবে যাবেন
ঢাকার যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান থেকে বাস পদ্মা সেতু পার হয়ে মোটামুটি দুই থেকে আড়াই ঘণ্টায় শরীয়তপুর শহরে পৌঁছায়। পদ্মা সেতুর রেলপথের ট্রেন ভাঙ্গা যাওয়ার পথে জেলার কাছ দিয়ে যায়। সদরঘাট থেকে লঞ্চ এখনো নড়িয়া, সুরেশ্বর ও গোসাইরহাটের মতো নদীতীরের শহরে যায়, যা নদীপথে উপভোগ্য দিন বা রাতের যাত্রা।
হাট ও বাজার
- পালং বাজার
- শরীয়তপুর শহরের কেন্দ্রীয় বাজার, পুরোনো মিষ্টির দোকানের জন্য পরিচিত, সঙ্গে মাছ, সবজি আর গৃহস্থালি জিনিস।
- নড়িয়া বাজার
- নড়িয়া উপজেলার বড় নদীতীরের বাজার, মাছ, পাট আর কৃষিপণ্যের কেনাবেচা হয়, যদিও এলাকার কিছু অংশ পদ্মার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত।
- জাজিরার মাছবাজার
- জাজিরার নদীতীরের মাছবাজার, যেখানে মৌসুমে পদ্মার তাজা ইলিশ বিক্রি হয়।
এক নজরে শরীয়তপুর
মিডমার্টে শরীয়তপুর-এর দোকান
শরীয়তপুর থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে বিক্রি করছে না।
শরীয়তপুর-এর দোকান থেকে কেনাকাটা
মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।
ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুনশরীয়তপুর নিয়ে প্রশ্ন
শরীয়তপুর-এ কিছু বানান বা ফলান?
বিনামূল্যে দোকান খুলুন আর সারা বাংলাদেশের ক্রেতার কাছে বিক্রি করুন। কোনো কমিশন বা লিস্টিং ফি নেই — ক্রেতা সরাসরি আপনাকে টাকা দেন, কুরিয়ার বেছে নেন আপনি।
শরীয়তপুর থেকে অনলাইনে বিক্রি করুনঢাকা বিভাগের আরও জেলা
- ঢাকা বুড়িগঙ্গার তীরের রাজধানী: মোগল দুর্গ, মসলিনের স্মৃতি আর কখনো না থামা এক শহর
- ফরিদপুর পদ্মাপাড়ের সোনালি আঁশের দেশ, পল্লীকবির জন্মভূমি
- গাজীপুর ঢাকার উত্তরে শালবন, কাঁঠালবাগান আর কারখানার জেলা
- গোপালগঞ্জ মধুমতী তীরের বিলের দেশ: ভাসমান বাগান আর টুঙ্গিপাড়া
- কিশোরগঞ্জ হাওরের প্রবেশদ্বার, শোলাকিয়া আর কবি চন্দ্রাবতীর জেলা
- মাদারীপুর আড়িয়াল খাঁ তীরের শহর: খেজুরের গুড়, শাহ মাদার আর শকুনি লেক
- মানিকগঞ্জ যেখানে যমুনা মেশে পদ্মায়: জমিদারবাড়ি আর হাজারী গুড়
- মুন্সিগঞ্জ প্রাচীন বিক্রমপুর: আলু, পাতক্ষীর আর পদ্মা সেতুর উত্তর প্রান্ত
- নারায়ণগঞ্জ প্রাচীন সোনারগাঁও, জামদানির তাঁত আর শীতলক্ষ্যার নিটওয়্যার বন্দর
- নরসিংদী মাধবদীর তাঁত, লটকনের বাগান আর প্রাচীন উয়ারী-বটেশ্বর
- রাজবাড়ী গোয়ালন্দ আর দৌলতদিয়া: পেঁয়াজ-পাটের দেশে পদ্মার প্রবেশদ্বার
- টাঙ্গাইল টাঙ্গাইল শাড়ি, পোড়াবাড়ির চমচম আর মধুপুরের শালবন
তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা
সংখ্যাগুলো নিচের তথ্যসূত্র থেকে নেওয়া। আলাদা করে বলা না থাকলে জনসংখ্যার তথ্য ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা থেকে।
- Banglapedia — Shariatpur District
- BBS Population and Housing Census 2022, National Report Vol. 1 (final enumerated figures, Nov 2023)
- Wikipedia — Shariatpur District
- Shariatpur district portal — tourist spots
- জাজিরায় নামা পদ্মা সেতু — ছবি: Jubair Bin Iqbal · CC BY-SA 4.0 (উৎস, CC BY-SA 4.0)
English
বাংলা