গল্পটা
আগাম জাতের ক্ষীরশাপাত আর ল্যাংড়া যখন শেষের দিকে, তখন রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আর নওগাঁর হাট ভরে ওঠে ফজলিতে। এত বড় আম যে একটিতেই গোটা পরিবারের খাওয়া হয়ে যায়। এটি নাবি জাত, জুনের মাঝামাঝি থেকে পাড়া শুরু হয়ে জুলাই পেরিয়ে আগস্ট পর্যন্ত বিক্রি চলে, তাই নরম আগাম আমগুলো ফুরিয়ে গেলে মৌসুমকে টেনে নিয়ে যায় ফজলিই। শক্ত শাঁসের কারণে আমসত্ত্ব, আচার আর চাটনির জন্যও এটি সবার পছন্দ।
ফজলি কার, তা নিয়ে প্রকাশ্যেই বিতর্ক হয়েছিল। রাজশাহীর ফল গবেষণা কেন্দ্র ২০১৭ সালে জিআইয়ের আবেদন করে, আর ২০২১ সালে "রাজশাহীর ফজলি" নামে জার্নালে প্রকাশিত হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা আপত্তি তোলেন। তাঁরা পুরোনো মালদহের আমের ঐতিহ্য আর গৌড়ের কাছে ফজলি বিবি নামের এক নারীর নাম থেকে আমের নাম আসার লোককাহিনির কথা বলেন; রাজশাহীর পক্ষ দেখায় বাঘা মসজিদের পোড়ামাটির অলংকরণে খোদাই করা আমের ছবি। ২০২২ সালে পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর রায় দেয়, ব্রিটিশ আমলের আগে থেকেই দুই জেলায় এ আম হয়, তাই নাম হবে "রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি"। দেশে প্রথমবার দুই জেলা মিলে একটি জিআই পায়, আর সনদ দেওয়া হয় ২০২৩ সালে।
নওগাঁয়, বিশেষ করে বদলগাছী উপজেলায়, ফলে নাক ফজলি নামের একটি ধরন; আমের নিচের দিকে নাকের মতো ছোট একটি ঠোঁট থাকে বলে এমন নাম। ২০২৫ সালের মে মাসে এটি আলাদা জিআই সনদ পেয়েছে, তাই বিক্রেতা নাক ফজলি বললে সাধারণ ফজলির চেয়ে নির্দিষ্ট কিছু বোঝাচ্ছেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহেরও ফজলির জন্য জিআই আছে।
আসল ফজলি আম চিনবেন কীভাবে
ফজলি চেনা সহজ আকার দেখে: সাধারণত লম্বা, চওড়া আর খানিকটা চ্যাপ্টা, বড়গুলো প্রায় এক কেজি ছুঁয়ে যায়। খোসা পুরু, পাকার পরও বেশির ভাগ সবুজ বা সবুজাভ হলুদ থাকে, সঙ্গে হালকা হলুদ আভা আর ফিকে ফুটকি, তাই রং দেখে পাকা বোঝা কঠিন। পাকা শাঁস হালকা থেকে মাঝারি হলুদ, দৃঢ়, রসাল আর মৃদু মিষ্টি, আঁশ সামান্য; আকারের তুলনায় আঁটি পাতলা আর চ্যাপ্টা। নাক ফজলির নিচের দিকের "নাক" বেশি স্পষ্ট। পুরো আম পাথরের মতো শক্ত হলে এখনো তৈরি নয়; পাকা ফজলি বোঁটার কাছে বুড়ো আঙুলের চাপে সামান্য দেবে যায় আর সেখানে মিষ্টি গন্ধ পাওয়া যায়। মে মাসে ফজলি নামে যা বিক্রি হয়, তা মৌসুমের বাইরে।
কেনার পরামর্শ
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজশাহীর সময়সূচিতে ১৫ জুনের দিকে ফজলি পাড়ার অনুমতি মিলেছে, নওগাঁ নাক ফজলির জন্য নিজস্ব তারিখ দেয়; তাই সেরা আম পাবেন জুনের শেষ থেকে জুলাইজুড়ে। একেকটি ফজলি ভারী বলে বিক্রেতারা সাধারণত কেজি বা ২০ কেজির ক্যারেট ধরে দাম ঠিক করেন; দাম ওঠানামা করে আকারের গ্রেড, মৌসুমের সপ্তাহ, প্যাকিং আর কুরিয়ারের দূরত্বের ওপর। আচার আর আমসত্ত্বের জন্য একটু শক্ত আম ভালো, সরাসরি খেতে চাইলে পুরোপুরি পরিপক্ব আম চান।
মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি চার্জ ঠিক করে, আর ভারী ফজলির ক্যারেট পাঠাতে হালকা ফলের চেয়ে বেশি খরচ পড়তে পারে, তাই নিশ্চিত করার আগে চার্জ জেনে নিন। সঙ্গে ল্যাংড়া বা আশ্বিনাও চাইলে একই বিক্রেতার কাছ থেকে নিলে কয়েকটির বদলে একটি পার্সেল হবে। মিডমার্ট টাকা নেয় না, কিছু পাঠায়ও না; টাকা দেওয়া আর কুরিয়ারের বিষয় বিক্রেতা আপনার সঙ্গে সরাসরি ঠিক করেন। বাগান কোন জেলা ও উপজেলায়, কবে পাড়া, আম মুড়িয়ে ক্যারেটে দেওয়া হবে কি না আর আপনার এলাকায় কুরিয়ারে কত দিন লাগে, জিজ্ঞেস করুন।
কীভাবে রাখবেন
হাতে পেয়েই ক্যারেট থেকে ফজলি বের করে ঠান্ডা, ছায়াময় ঘরে এক স্তরে, একটির সঙ্গে আরেকটি না ছুঁইয়ে রাখুন। পুরু খোসা আর দৃঢ় শাঁসের কারণে ফজলি ক্ষীরশাপাত বা ল্যাংড়ার চেয়ে বেশি দিন টেকে, পাকতে পাকতে প্রায় এক সপ্তাহ ভালো থাকে। মিষ্টি গন্ধ এলে আর হালকা নরম হলে খেয়ে ফেলুন বা ফ্রিজে তুলুন। কাটা আম ঢেকে রেখে এক দিনের মধ্যে শেষ করুন। একটু কম পাকা ফজলি আচারের জন্য আদর্শ, আর বেশি পাকা আমের শাঁস জমিয়ে রাখা যায়।
মিডমার্টে ফজলি আম খুঁজুন
যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান
নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।
মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।
ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুনফজলি আম নিয়ে প্রশ্ন
আরও বিখ্যাত পণ্য
তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা
- The Daily Star: Tussle over Fazli mango's origin
- The Financial Express: Rajshahi, Chapainawabganj both get GI certificate for Fazli mango
- BSS: Naogaon's 'Nak Fazli' mango gets GI recognition
- Wikipedia: Geographical indications in Bangladesh
- ঢাকার বাজার থেকে কেনা একটি ফজলি; পাকার সময়ও খোসা বেশির ভাগ সবুজ থাকে — ছবি: Salim Khandoker · CC BY-SA 3.0 (উৎস, CC BY-SA 3.0)
English
বাংলা