বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

বাংলাদেশের বিখ্যাত পণ্য

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া আম

পাকার পরও সবুজ, সুবাসে অতুলনীয়; ২০২৩ সাল থেকে জিআই পণ্য

ল্যাংড়া তীব্র সুবাস আর পাতলা খোসার আম, অনেকের কাছে সব আমের সেরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া ২০২৩ সালের জুনে জিআই সনদ পায়। ক্ষীরশাপাতের পরে, মোটামুটি ১০ জুন থেকে জুলাইয়ের শুরু পর্যন্ত পাকে, আর পাকার পরও সবুজ থাকে।

মৌসুম
জুন – জুলাই
GI
জিআই নিবন্ধন ২০২৩
কমলা বাটিতে সবুজ-হলুদ ফুটকিওয়ালা খোসার একটি পাকা ল্যাংড়া আম
পাকা ল্যাংড়া: খাওয়ার উপযোগী হলেও খোসা বেশির ভাগ সবুজ থাকে ছবি: Salil Kumar Mukherjee · CC BY-SA 4.0

গল্পটা

রাজশাহীর কোনো আমপ্রেমীকে জিজ্ঞেস করুন কোন আমের অপেক্ষায় থাকেন, উত্তর প্রায়ই হবে ল্যাংড়া। ক্ষীরশাপাত আর হিমসাগরের এক-দুই সপ্তাহ পরে, জুনের প্রচণ্ড গরমে এটি বাজারে আসে, আর কাটার আগেই এর গন্ধে ঘর ভরে যায়। রাজশাহী অঞ্চলজুড়ে, নাটোর আর নওগাঁতেও ল্যাংড়া হয়, তবে শিবগঞ্জ আর কানসাটের পুরোনো বাগানঘেরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়াকেই সেরা ধরা হয়।

ল্যাংড়া মানে খোঁড়া। সীমান্তের দুই পাশেই প্রচলিত গল্প হলো, প্রথম গাছটি জন্মেছিল বারাণসীতে এক খোঁড়া মানুষের বাড়ির পাশে; ভারতে তাই একে বেনারসি ল্যাংড়াও বলে। আদি ঠিকানা যেখানেই হোক, মালদহ আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যে এ আম বহু প্রজন্ম ধরে আছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিদের পক্ষে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট জিআইয়ের আবেদন করে, আর ২০২৩ সালের ২৫ জুন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর সনদ দেয়; একই দিনে সনদ পায় আশ্বিনা আম, বগুড়ার দই আর শেরপুরের তুলসীমালা চাল।

ল্যাংড়া নাজুক আম। খোসা পাতলা, সহজে থেঁতলে যায়, বেশি দিন টেকে না। এ কারণেই এটি বেশির ভাগ দেশের ভেতরেই খাওয়া হয়, বড় পরিসরে রপ্তানি কম, আর ফজলি বা আশ্বিনার চেয়ে ল্যাংড়া কেনায় একটু বেশি সাবধান হতে হয়।

আসল চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া আম চিনবেন কীভাবে

সবচেয়ে নিশ্চিত চিহ্ন হলো পাকা ল্যাংড়া সবুজই থাকে। খোসায় কোথাও কোথাও হালকা হলদেটে ভাব আসতে পারে, তাই পুরো হলুদ ঝকঝকে আমকে ল্যাংড়া বলে বিক্রি করলে সন্দেহ করুন। আকার মাঝারি, মোটামুটি ডিম্বাকার, খোসা মসৃণ আর খুব পাতলা, নিচের দিকে প্রায়ই ছোট একটি ঠোঁট বা "নাক" দেখা যায়। রং যেহেতু কিছু বলে না, তাই নাক আর আঙুল কাজে লাগান: পাকা ল্যাংড়ার বোঁটার দিকে জোরালো, খানিকটা ঝাঁঝালো সুগন্ধ থাকে আর আলতো চাপে সামান্য দেবে যায়। ভেতরের শাঁস হালকা হলুদ থেকে ফিকে কমলা, রসাল আর মিষ্টি, শেষে হালকা টক ভাব। আঁশ কম, তবে ক্ষীরশাপাতের মতো পুরো মসৃণ নয়। আঁটি পাতলা ও চ্যাপ্টা।

কেনার পরামর্শ

রাজশাহীর সাম্প্রতিক সময়সূচিতে ১০ জুনের দিকে ল্যাংড়া পাড়ার অনুমতি মিলেছে, আশপাশের জেলায় কয়েক দিন আগে-পরে; জুনের আগে ল্যাংড়া নাম শুনলে প্রশ্ন করুন। খোসা পাতলা বলে দামের মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্যাকিং। জিজ্ঞেস করুন আম কাগজে মুড়ে বাতাস চলাচলের ফাঁকওয়ালা প্লাস্টিকের ক্যারেটে দেওয়া হবে কি না, বন্ধ বাক্সে নয়; আর এমন বিক্রেতা বেছে নিন যাঁর কাছ থেকে কুরিয়ারে এক-দুই দিনে পৌঁছায়। দাম নির্ভর করে আমের আকার, বাছাইয়ের যত্ন, প্যাকিং আর দূরত্বের ওপর।

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি চার্জ ঠিক করে; এক দোকান থেকে ল্যাংড়া আর আরেক দোকান থেকে ক্ষীরশাপাত নিলে দুবার ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে। মিডমার্ট নিজে টাকা বা পার্সেল কোনোটাই সামলায় না; কীভাবে টাকা দেবেন আর কোন কুরিয়ারে যাবে, তা বিক্রেতা আর আপনি ঠিক করবেন। বাগানের ঠিকানা, কবে পাড়া হয়েছে আর পথে কত দিন থাকবে জেনে নিন, আর আম থেঁতলে পৌঁছালে বিক্রেতা কী করেন তা-ও জিজ্ঞেস করুন। কয়েক দিনের মধ্যে খেতে বা ভাগ করে দিতে না পারলে বেশি পরিমাণে ল্যাংড়া কিনবেন না।

কীভাবে রাখবেন

ক্যারেট আসামাত্র খুলে থেঁতলানো বা ফাটা আম আলাদা করুন, সেগুলো আগে খান। বাকিগুলো রোদ থেকে দূরে ঠান্ডা, বাতাসওয়ালা জায়গায় এক স্তরে ছড়িয়ে রাখুন। ল্যাংড়া দ্রুত পাকে, ঘরের তাপমাত্রায় মোটামুটি তিন থেকে পাঁচ দিন টেকে, তাই প্রতিটি আম গন্ধ আর নরম ভাব দেখে বিচার করুন এবং পাকাগুলো ফ্রিজে তুলুন। গাদা করে রাখবেন না, পলিথিনেও না; তাতে গরম আটকে পাতলা খোসার আম দ্রুত পচে।

মিডমার্টে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া আম খুঁজুন

মিডমার্টে “ল্যাংড়া আম” খুঁজুন

যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান

চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া আম নিয়ে প্রশ্ন

এটাই স্বাভাবিক। পুরো পাকার পরও ল্যাংড়ার খোসা সবুজ থাকে। রং নয়, বোঁটার দিকের জোরালো মিষ্টি গন্ধ আর হালকা নরম ভাব দেখে পাকা বুঝুন।

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা