বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

বাংলাদেশের বিখ্যাত পণ্য

গাইবান্ধার রসমঞ্জরী

ঘন লালচে ক্ষীরে ডোবানো ছোট ছোট ছানার গুটি, গাইবান্ধার পরিচয়ের মিষ্টি

রসমঞ্জরী গাইবান্ধার সবচেয়ে পরিচিত মিষ্টি: চিনির রসে ফোটানো ছোট ছোট ছানার গুটি, পরে ঘন, হালকা লালচে ক্ষীরে ডোবানো। কথিত আছে, ১৯৪৮ সালে শহরের রমেশ চন্দ্র ঘোষ প্রথম এই মিষ্টি তৈরি করেন।

যেখান থেকে
গাইবান্ধা
মৌসুম
সারা বছর

গল্পটা

উত্তরবঙ্গে কাউকে জিজ্ঞেস করুন গাইবান্ধা থেকে কী নিয়ে আসা উচিত, উত্তর প্রায় নিশ্চিতভাবেই হবে রসমঞ্জরী, অনেকে লেখেন রসমঞ্জুরী। স্থানীয় বিবরণ অনুযায়ী এর শুরু ১৯৪৮ সালে, গাইবান্ধা শহরের সার্কুলার রোডে রমেশ সুইটসের মালিক রমেশ চন্দ্র ঘোষের হাতে। বলা হয়, তিনি ভারতের উড়িষ্যা থেকে কারিগর এনে মিষ্টিটি বানাতে শুরু করেন, আর এক দশকের মধ্যেই এর নাম জেলার সীমা ছাড়িয়ে যায়। রমেশ ঘোষ মারা গেছেন বহু আগে, দোকান এখন চালান তাঁর স্বজনেরা। শহরের গাইবান্ধা মিষ্টান্ন ভান্ডার, নাড়ু মিষ্টান্ন ভান্ডারসহ আরও কয়েকটি দোকানও এখন রসমঞ্জরীর জন্য সমান পরিচিত।

দেখতে রসমঞ্জরীকে রসমালাইয়ের ছোট ভাই মনে হতে পারে, কেউ কেউ একে গাইবান্ধার রসমালাই বলেও ডাকেন। পার্থক্যটা তৈরির পদ্ধতিতে। টাটকা ছানার সঙ্গে সামান্য আটা (কোনো কোনো কারিগর একটু সুজিও দেন) মেখে মার্বেলের মতো ছোট গুটি বানানো হয়, তারপর ফুটন্ত চিনির রসে মোটামুটি দশ-বারো মিনিট সেদ্ধ করা হয়। একটু ঠান্ডা হলে গুটিগুলো রস থেকে তুলে ছাড়া হয় ক্ষীরে, অর্থাৎ ধীর আঁচে জ্বাল দিয়ে ঘন, মোলায়েম আর হালকা লালচে করে তোলা দুধে। গুটিগুলো ক্ষীর শুষে নেয়, ফলে প্রতি কামড়ে ছানার নরম টান আর জ্বাল দেওয়া দুধের গাঢ় স্বাদ একসঙ্গে মেলে।

জেলা প্রশাসন রসমঞ্জরীকে গাইবান্ধার ব্র্যান্ডিং পণ্য ঘোষণা করেছে, আর ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মানুষ একে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের দাবি জানিয়ে আসছেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী এটি এখনো পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের জিআই তালিকায় ওঠেনি, তাই কোনো বিজ্ঞাপনে "জিআই" লেখা দেখলে সতর্ক থাকুন।

আসল গাইবান্ধার রসমঞ্জরী চিনবেন কীভাবে

ভালো রসমঞ্জরীতে থাকে অনেকগুলো ছোট, গোল, সমান আকারের গুটি, সাধারণ রসমালাইয়ের চাকতির চেয়ে অনেক ছোট, আর সেগুলো ডুবে থাকে প্রচুর ঘন ক্ষীরে, পাতলা মিষ্টি দুধে নয়। ক্ষীর হবে মোলায়েম, হালকা বাদামি বা লালচে, তাতে থাকবে ধীরে জ্বাল দেওয়া দুধের ঘ্রাণ। গুটি নরম অথচ একটু স্থিতিস্থাপক হবে, ভেতরে শক্ত দলা বা ময়দা-চকের মতো স্বাদ থাকবে না। দুধ যদি পাতলা আর সাদা হয়, গুঁড়া দুধের স্বাদ লাগে, কিংবা গুটি বড় আর চ্যাপ্টা হয়, তবে সম্ভবত সেটা ধার করা নামে সাধারণ রসমালাই। গরমে রসমঞ্জরী কয়েক ঘণ্টাতেই নষ্ট হয়, তাই ঘরের তাপমাত্রায় লম্বা মেয়াদের প্রতিশ্রুতি দিলে সেটাই সন্দেহের কারণ।

কেনার পরামর্শ

কুরিয়ারে পাঠানোর জন্য রসমঞ্জরী বেশ নাজুক মিষ্টি। কারিগরদের হিসাবে গরমে এটি মাত্র আট থেকে দশ ঘণ্টা ভালো থাকে, ঠান্ডা আবহাওয়ায় বড়জোর আধা দিন, তাই যেদিন হাতে পাবেন সেদিনই খেয়ে ফেলা উচিত। অর্ডারের আগে বিক্রেতার কাছে জানুন কোন দোকানের তৈরি, কখন বানানো হয়েছে আর কীভাবে প্যাক হবে। ক্ষীর সহজেই উপচে পড়ে, তাই বাক্সের ভেতরে মুখবন্ধ, লিক-প্রুফ প্লাস্টিকের পাত্র ন্যূনতম শর্ত। আপনার এলাকায় পৌঁছাতে সাধারণত কত ঘণ্টা লাগে, সেটাও জিজ্ঞেস করুন। গ্রীষ্মে গাইবান্ধা থেকে দূরের জেলায় অর্ডার দেওয়া রীতিমতো ঝুঁকি, যদি না বিক্রেতা দ্রুত ও ঠান্ডা পরিবহনের ব্যবস্থা করতে পারেন। দাম ওঠানামা করে দুধের দাম আর প্রতি কেজিতে কতটা ক্ষীর দেওয়া হলো তার ওপর।

মিডমার্টে প্রতিটি দোকান আলাদা ডেলিভারি চার্জ নেয়, তাই দুই-তিনটি দোকান থেকে মিষ্টি নিলে দুই-তিনটি পার্সেলের চার্জ দিতে হবে। মিডমার্ট আপনার টাকা নেয় না, কিছু পাঠায়ও না; দাম পরিশোধ আর ডেলিভারি আপনি ও বিক্রেতা মিলে ঠিক করবেন। কোনো তালিকাভুক্ত মিষ্টি গাইবান্ধার আসল রসমঞ্জরী কি না, মিডমার্ট তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না, তাই ওপরের প্রশ্নগুলো করুন আর পরিষ্কার উত্তর পেলেই কিনুন।

কীভাবে রাখবেন

হাতে পেয়েই ক্ষীরসহ ঢাকনাওয়ালা পাত্রে ফ্রিজে রাখুন, এক দিনের মধ্যে খেয়ে নিন। ঠান্ডা বা হালকা ঠান্ডা অবস্থায় খেতেই ভালো। ফ্রিজারে রাখবেন না, ছানা রাবারের মতো শক্ত হয়ে যায়। ক্ষীরে টক গন্ধ এলে বা দুধ ছানা কেটে গেলে ফেলে দিন।

মিডমার্টে গাইবান্ধার রসমঞ্জরী খুঁজুন

মিডমার্টে “রসমঞ্জরী” খুঁজুন

যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান

গাইবান্ধা থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

গাইবান্ধার রসমঞ্জরী নিয়ে প্রশ্ন

কাছাকাছি, তবে রসমঞ্জরীর গুটি অনেক ছোট আর গোল, ক্ষীর আরও ঘন ও লালচে, আর গুটিগুলো ক্ষীরে দেওয়ার আগে চিনির রসে সেদ্ধ করা হয়।

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা