বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

রংপুর বিভাগ · বাংলাদেশ

গাইবান্ধা

ব্রহ্মপুত্রের চরের দেশ, রসমঞ্জরী আর শীতের পোশাকের জেলা

উত্তরবঙ্গের যেখানে তিস্তা এসে ব্রহ্মপুত্র–যমুনায় মিশেছে, সেখানেই গাইবান্ধা। ভাঙা-গড়ার চর, মহিমাগঞ্জের চিনিকল, রমেশ ঘোষের রসমঞ্জরী আর কোচাশহরের সোয়েটার গ্রামের জন্য এ জেলা পরিচিত।

আয়তন
২,১১৫ বর্গকিমি
জনসংখ্যা (২০২২)
২,৫৬২,২৩৩
উপজেলা
৭
ইউনিয়ন
৮২
জেলা গঠন
১৯৮৪
গাইবান্ধায় তিস্তার অগভীর জলে গোল করে জাল বিছাচ্ছেন জেলেরা
তিস্তায় মাছ ধরা, গাইবান্ধা ছবি: Ahamed Rafid · CC BY-SA 4.0

গাইবান্ধা সম্পর্কে

গাইবান্ধা রংপুর বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে, রংপুর শহর আর বগুড়ার প্রায় মাঝামাঝি। এর পূর্ব সীমানা মানচিত্রের কোনো রেখা নয়, বিশাল ব্রহ্মপুত্র–যমুনা নদ, যার ওপারে জামালপুর। উত্তরে কুড়িগ্রাম ও রংপুর, দক্ষিণে বগুড়া, পশ্চিমে দিনাজপুর ও জয়পুরহাট। ২০২২ সালের জনশুমারিতে ৭টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে ২৫ লাখ মানুষ গণনা করা হয়েছে, যাদের পাঁচ ভাগের চার ভাগের বেশি গ্রামে থাকেন।

এখানে জীবন চলে নদীর হিসাবে। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা তিস্তা জেলার ভেতরেই ব্রহ্মপুত্রে মিশেছে, আর ঘাঘট, করতোয়া ও বাঙালীর মতো ছোট নদী ফসলের মাঠের ভেতর দিয়ে এঁকেবেঁকে গেছে। ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অসংখ্য চর, বালু আর পলিতে তৈরি দ্বীপ, যা বন্যার সঙ্গে জাগে আবার হারিয়ে যায়। চরের পরিবারগুলো ভুট্টা, মরিচ, চিনাবাদাম ও পাট চাষ করে, চলাফেরা করে নৌকা কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে। পশ্চিমের গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী তুলনামূলক উঁচু, শুকনো আর ঘন চাষাবাদের এলাকা।

ইতিহাস

নামের পেছনে প্রচলিত গল্পটি মহাভারতের সময়ের। মৎস্য রাজ্যের রাজা বিরাট নাকি এখানে হাজার হাজার গাভী রাখতেন, আর যেখানে গাভী বাঁধা হতো সেই জায়গার নাম হয় গাইবান্ধা। গোবিন্দগঞ্জের কয়েকটি ঢিবিকে আজও বিরাট রাজার প্রাসাদ বলা হয়। ব্রিটিশ আমলে এলাকাটি ছিল রংপুরের অধীনে। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর ১৮৫৮ সালে ব্রহ্মপুত্রের তীরে ভবানীগঞ্জে মহকুমা খোলা হয়। ১৮৭৫ সালে নদীভাঙনে ভবানীগঞ্জ বিলীন হলে সদর দপ্তর গাইবান্ধা শহরে সরে আসে, যা ১৯২৩ সালে পৌরসভা হয়।

১৯৮৪ সালে গাইবান্ধা জেলা হয়। এর পরের ইতিহাস গড়ে উঠেছে বন্যা আর মঙ্গা নামের মৌসুমি অভাবের সঙ্গে লড়াই করে। উন্নয়ন সংস্থাগুলো এখনো জেলায় কাজ করছে, আর সময়ের সঙ্গে হোসিয়ারি গ্রাম ও উন্নত সড়ক সেই কষ্ট অনেকটা কমিয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে তিস্তার ওপর মওলানা ভাসানী সেতু চালু হয়, যা সুন্দরগঞ্জকে কুড়িগ্রামের চিলমারীর সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং চরের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ ঘুরপথ কমিয়েছে।

গাইবান্ধার ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারের ইটের দেয়াল ও জলাধার
ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার, গাইবান্ধা ছবি: Afifa Afrin · CC BY-SA 4.0

অর্থনীতি ও জীবিকা

বেশির ভাগ মানুষের জীবিকা কৃষি। মূল ভূখণ্ডে ধান, পাট, ভুট্টা, আলু, আখ ও সবজি, আর চরে মরিচ, চিনাবাদাম ও ডাল। গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত রংপুর চিনিকল বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে আখ কেনে। সবচেয়ে ব্যতিক্রমী শিল্প হলো গোবিন্দগঞ্জের কোচাশহর ও আশপাশের ইউনিয়নের হোসিয়ারি পল্লি। ষাটের দশকে মোজা দিয়ে এর শুরু, আর আজ গ্রামের কারখানাগুলোতে তৈরি সোয়েটার, কার্ডিগান, টুপি ও মাফলার কিনতে সারা দেশ থেকে পাইকার আসেন। তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রে মাছ ধরা আর ঢাকায় মৌসুমি কাজও পরিবারের আয়ে যোগ হয়।

খাবার, সংস্কৃতি ও উৎসব

গাইবান্ধা থেকে কী নিয়ে যাবেন, জিজ্ঞেস করলে সবাই বলবে রসমঞ্জরী। ঘন মিষ্টি দুধে ডোবানো ছোট ছোট ছানার বল, আর এর কৃতিত্ব দেওয়া হয় শহরের রমেশ ঘোষের মিষ্টির দোকানকে। মানুষ রংপুরি ধাঁচের বাংলায় কথা বলেন, আর চরে সন্ধ্যার আড্ডায় এখনো ভাওয়াইয়া ও নৌকার গান শোনা যায়। গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল ও ওরাওঁ পরিবারের বাস, আর ফসল ও ধর্মীয় পঞ্জিকা মেনে গ্রামে গ্রামে মেলা বসে।

গাইবান্ধা-এর দর্শনীয় স্থান

  1. ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার

    শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে কাঞ্চিপাড়ায় ইটের তৈরি একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র। বন্যার কথা মাথায় রেখে এর একাংশ মাটির নিচের স্তরে নকশা করা হয়েছে, আর ২০১৬ সালে এটি আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার পায়। এটি চালু প্রতিষ্ঠান, তাই যাওয়ার আগে অনুমতি নিয়ে নিন।

  2. বালাসীঘাট

    ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্রের ঘাট, কাঞ্চিপাড়া থেকে অটোরিকশায় মিনিট দশেকের পথ। এখান থেকে চর আর নদীর ওপারে নৌকা যায়। শুকনো মৌসুমে বালুচর জেগে উঠলে নদীর বুকে সূর্যাস্ত দেখতে অনেকে আসেন।

  3. রংপুর চিনিকল, মহিমাগঞ্জ

    উত্তরাঞ্চলের পুরোনো সরকারি চিনিকলগুলোর একটি, ১৯৫৭ সালে গোবিন্দগঞ্জের বড় খামার এলাকায় প্রতিষ্ঠিত। আখমাড়াই মৌসুমে, মোটামুটি শীত থেকে বসন্ত পর্যন্ত, ফটকের সামনে আখের গাড়ির সারি লেগে থাকে।

  4. বিরাট রাজার প্রাসাদ ঢিবি

    গোবিন্দগঞ্জে মাটির ঢিবি আর পুরোনো ইটের ধ্বংসাবশেষ, যা লোকবিশ্বাসে মহাভারতের রাজা বিরাটের সঙ্গে যুক্ত। প্রত্নতত্ত্ববিদেরা স্থানটিকে প্রাক-মধ্যযুগের বলে মনে করেন।

  5. নলডাঙ্গা ও বামনডাঙ্গা জমিদারবাড়ি

    সাদুল্লাপুর ও সুন্দরগঞ্জের দুটি জীর্ণ জমিদারবাড়ি। ব্রিটিশ আমলে যে জমিদার পরিবারগুলো এ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করত, এগুলো তাদের স্মৃতি বহন করে।

গাইবান্ধা যে জন্য বিখ্যাত

গাইবান্ধা কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে গাইবান্ধা মোটামুটি ৩০০ কিলোমিটার। গাবতলী, কল্যাণপুর ও মহাখালী থেকে বাস যমুনা সেতু ও বগুড়া হয়ে প্রায় ৬–৭ ঘণ্টায় শহরে পৌঁছায়। রংপুরগামী অনেক বাস মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ বা পলাশবাড়ীতে যাত্রী নামায়। রংপুর এক্সপ্রেস ও লালমনি এক্সপ্রেসের মতো আন্তনগর ট্রেন উত্তরে যাওয়ার পথে গাইবান্ধা বা বোনারপাড়ায় থামে। সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর সৈয়দপুর, সড়কপথে মোটামুটি দুই থেকে তিন ঘণ্টা।

হাট ও বাজার

নয়ারহাট সোয়েটার বাজার, কোচাশহর
গোবিন্দগঞ্জের হোসিয়ারি পল্লির পাইকারি কেন্দ্র। গ্রীষ্মের শেষ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আশপাশের গ্রামের কারখানায় তৈরি সোয়েটার, মোজা, টুপি ও মাফলার কিনতে সারা দেশের ক্রেতারা ভিড় করেন।
কোচাশহর হাট
একই ইউনিয়নের সাপ্তাহিক হাট। এখানে সাধারণ কৃষিপণ্যের পাশাপাশি সুতা, বুননযন্ত্র আর তৈরি শীতের পোশাক কেনাবেচা হয়।
গাইবান্ধা শহরের মিষ্টির দোকান
শহরের কেন্দ্রে রমেশ ঘোষের দোকানসহ মিষ্টির দোকানগুলো। এখানে প্রতিদিন তাজা রসমঞ্জরী তৈরি হয় এবং ভ্রমণকারীদের জন্য মাটির বা প্লাস্টিকের পাত্রে প্যাক করা হয়।

এক নজরে গাইবান্ধা

এক নজরে গাইবান্ধা

মিডমার্টে গাইবান্ধা-এর দোকান

গাইবান্ধা থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে বিক্রি করছে না।

গাইবান্ধা-এর দোকান থেকে কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

গাইবান্ধা নিয়ে প্রশ্ন

গাইবান্ধা বিখ্যাত রসমঞ্জরী মিষ্টি, গোবিন্দগঞ্জের কোচাশহরের হোসিয়ারি পল্লি, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার চর আর পুরস্কারজয়ী ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার ভবনের জন্য।

গাইবান্ধা-এ কিছু বানান বা ফলান?

বিনামূল্যে দোকান খুলুন আর সারা বাংলাদেশের ক্রেতার কাছে বিক্রি করুন। কোনো কমিশন বা লিস্টিং ফি নেই — ক্রেতা সরাসরি আপনাকে টাকা দেন, কুরিয়ার বেছে নেন আপনি।

গাইবান্ধা থেকে অনলাইনে বিক্রি করুন

রংপুর বিভাগের আরও জেলা

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা

সংখ্যাগুলো নিচের তথ্যসূত্র থেকে নেওয়া। আলাদা করে বলা না থাকলে জনসংখ্যার তথ্য ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা থেকে।