বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

রংপুর বিভাগ · বাংলাদেশ

কুড়িগ্রাম

ব্রহ্মপুত্র যেখানে বাংলাদেশে ঢোকে, নদী, চর আর ভাওয়াইয়ার দেশ

দেশের উত্তর প্রান্তের জেলা কুড়িগ্রাম দিয়েই ব্রহ্মপুত্র বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। শত শত চর, পুরোনো চিলমারী বন্দর, মহিষের দুধের মিষ্টি আর উত্তরবঙ্গের ভাওয়াইয়া গানের জন্য এ জেলা পরিচিত।

আয়তন
২,২৪৫ বর্গকিমি
জনসংখ্যা (২০২২)
২,৩২৯,১৬০
উপজেলা
৯
ইউনিয়ন
৭২
জেলা গঠন
১৯৮৪
সাক্ষরতা
৬৫.১%
কুড়িগ্রাম শহরের কাছে ধরলা সড়কসেতুর পেছনে সূর্যাস্ত
ধরলা সেতু, কুড়িগ্রাম ছবি: Nasif05 · CC BY 4.0

কুড়িগ্রাম সম্পর্কে

কুড়িগ্রাম বাংলাদেশের একেবারে উত্তর প্রান্তে। তিন দিক ঘিরে রেখেছে ভারত: উত্তরে পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে আসাম ও মেঘালয়। পশ্চিমে লালমনিরহাট ও রংপুর, দক্ষিণে গাইবান্ধা ও জামালপুর। জেলার আয়তন প্রায় ২,২৪৫ বর্গকিলোমিটার, উপজেলা ৯টি। ২০২২ সালের জনশুমারিতে প্রায় ২৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ গণনা করা হয়েছে, যাদের পাঁচ ভাগের এক ভাগের কিছু বেশি শহরে থাকেন।

এত পানি খুব কম জেলাতেই আছে। আসাম থেকে ব্রহ্মপুত্র এখানেই বাংলাদেশে ঢুকে চিলমারী ও রৌমারীর পাশ দিয়ে দক্ষিণে নেমে গেছে। তিস্তা, ধরলা আর দুধকুমার জেলার ভেতরেই এর সঙ্গে মিশেছে, সঙ্গে আছে ফুলকুমার ও জিঞ্জিরামের মতো ছোট নদী। এসব নদীর ধারার মাঝে শত শত চর, বালু আর পলির দ্বীপ। সেখানে মানুষ চাষ করেন, মহিষ পালেন, আর ভাঙনে বাধ্য হলে ঘর সরিয়ে নেন। উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও চর রাজিবপুর মূলত চরের উপজেলা, আর উত্তরের ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উঁচু ভূমিতে।

ইতিহাস

নামের উৎস নিশ্চিত নয়। সবচেয়ে প্রচলিত গল্প বলে, কোচবিহারের এক রাজা এখানে কুড়িটি পরিবারকে বসতি দিয়েছিলেন, আর সেই কুড়ি পরিবারের গ্রাম থেকে নাম হয় কুড়িগ্রাম। শতাব্দীর পর শতাব্দী এ অঞ্চল কামরূপ, কোচবিহার, বাংলার সুলতান ও মোগলদের হাতবদল হয়েছে। ব্রিটিশরা ১৮৭০-এর দশকে একে রংপুরের মহকুমা করে, আর ১৯৮৪ সালে এটি জেলা হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ব্রহ্মপুত্রের ওপারের রৌমারী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, আর ডিসেম্বরের শুরুতে কুড়িগ্রাম শহর মুক্ত হয়।

একসময় আমন কাটার আগের অভাবের মাস, অর্থাৎ মঙ্গায় কুড়িগ্রামের মানুষ কষ্ট পেতেন, আর এখনো এটি দেশের সবচেয়ে দরিদ্র জেলাগুলোর একটি। নতুন সেতুগুলো সেই চিত্র বদলাচ্ছে। ধরলা সেতু উত্তরের উপজেলাগুলোকে জেলার বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে, আর ২০২৫ সালে তিস্তার ওপর চালু হওয়া মওলানা ভাসানী সেতু চিলমারীকে গাইবান্ধার সঙ্গে জুড়েছে। ২০১৫ সালের ছিটমহল বিনিময়ে ফুলবাড়ীর দাসিয়ারছড়ার মতো সাবেক ছিটমহলও বাংলাদেশের অংশ হয়েছে।

ব্রহ্মপুত্রের তীরে চিলমারী নদীবন্দরের রমনা ঘাটের পন্টুনে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা
চিলমারী নদীবন্দর ছবি: Tanvir Rahat · CC BY-SA 4.0

অর্থনীতি ও জীবিকা

আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। মূল ভূখণ্ডে ধান, পাট, গম, আলু ও তামাক, আর চরে ভুট্টা, চিনাবাদাম, মরিচ, সরিষা, ডাল আর কাউন। চরের তৃণভূমিতে মহিষের পাল চরে, আর তাদের দুধে তৈরি হয় দই ও মিষ্টি। নদীতে মাছ ধরা বড় একটি মৌসুমি পেশা। ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চলে, আর চিলমারী নদীবন্দর জলপথে রৌমারী, রাজিবপুর ও দক্ষিণের সঙ্গে জেলাকে যুক্ত রেখেছে। অনেক তরুণ কারখানা ও নির্মাণকাজের জন্য ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে যান।

খাবার, সংস্কৃতি ও উৎসব

কুড়িগ্রাম ভাওয়াইয়ার অন্যতম আঁতুড়ঘর। এটি উত্তরবঙ্গের ধীর লয়ের লোকগান, যা গাইতেন গরুর গাড়ির গাড়িয়াল আর মাঝিরা। সবচেয়ে বিখ্যাত ভাওয়াইয়া গানে গাড়িয়ালকে চিলমারীর বন্দরে গাড়ি হাঁকাতে বলা হয়, তাই এই জায়গার নাম গোটা বাংলার গানপ্রেমীদের চেনা। এখানকার মানুষ জোরালো রংপুরি উপভাষায় কথা বলেন। চরে নৌকাবাইচ, নদীর তীরে গঙ্গাপূজা আর ফসলের মেলা দিয়ে বছর গোনা হয়। জেলার সবচেয়ে পরিচিত মিষ্টি ব্রহ্মপুত্রের চরে মহিষের দুধের ছানায় তৈরি চমচম, যাকে স্থানীয়রা আদর করে চরচম ডাকেন।

কুড়িগ্রাম-এর দর্শনীয় স্থান

  1. চিলমারী নদীবন্দর

    ব্রহ্মপুত্রের তীরে পুরোনো বাণিজ্যবন্দর, যার উল্লেখ আছে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বিখ্যাত ভাওয়াইয়া গানে। এখান থেকে এখনো রৌমারী ও চরগুলোতে নৌকা আর ফেরি যায়, আর তীর থেকে ব্রহ্মপুত্রের বিশাল বিস্তার দেখা যায়।

  2. ধরলা সেতু ও নদীতীর

    কুড়িগ্রাম শহরের কাছে ধরলার ওপর লম্বা সড়কসেতুটি সন্ধ্যায় বেড়ানোর জনপ্রিয় জায়গা। শীতে নদী শুকিয়ে বালুচরে পরিণত হয়, আর জেলেরা ছোট নৌকা নিয়ে অগভীর খালে মাছ ধরেন।

  3. চান্দামারী মসজিদ

    রাজারহাট উপজেলার মোগল আমলের ছোট তিন গম্বুজ মসজিদ। কুড়িগ্রাম ও রংপুরের মধ্যে যাতায়াতের পথে এর পলেস্তারা ও ইটের অলংকরণ দেখে যাওয়া যায়।

  4. চাকিরপাশার বিল

    রাজারহাটের বড় জলাভূমি। শীতে এখানে পরিযায়ী পাখি জড়ো হয়, আর বর্ষার পরে পদ্ম ও শাপলায় ঢেকে যায়।

  5. সোনাহাট সেতু ও স্থলবন্দর

    আসাম সীমান্তের কাছে দুধকুমার নদীর তীরে ভূরুঙ্গামারীর সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্র। এখানকার রেলযুগের পুরোনো সেতুটি স্থানীয়ভাবে পরিচিত নিদর্শন।

কুড়িগ্রাম যে জন্য বিখ্যাত

কুড়িগ্রাম কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম মোটামুটি ৩৫০ কিলোমিটার উত্তরে। গাবতলী, কল্যাণপুর ও মহাখালী থেকে বাস যমুনা সেতু ও রংপুর হয়ে প্রায় ৮–৯ ঘণ্টায় পৌঁছায়। কমলাপুর থেকে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেন প্রায় ১০ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম স্টেশনে যায়। সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর সৈয়দপুর, সেখান থেকে রংপুর হয়ে গাড়িতে আড়াই ঘণ্টার মতো লাগে। জেলার ভেতরে অনেক চরে নৌকা ছাড়া যাওয়ার উপায় নেই, আর চিলমারী–রৌমারী নৌপথ ব্রহ্মপুত্রের দুই পাড়কে যুক্ত করেছে।

হাট ও বাজার

যাত্রাপুর হাট
কুড়িগ্রাম সদরে ধরলা আর ব্রহ্মপুত্রের মিলনস্থলের কাছে বড় সাপ্তাহিক হাট। চরের পরিবারগুলো নৌকায় করে ভুট্টা, চিনাবাদাম, মরিচ, পাট আর গবাদিপশু বিক্রি করতে আসেন।
চিলমারী বন্দর বাজার
নদীবন্দর ঘিরে গড়ে ওঠা বাজার, যেখানে চাল, শুঁটকি, চরের ফসল আর রৌমারী থেকে নৌকায় আসা-যাওয়া করা পণ্যের ব্যস্ত কেনাবেচা চলে।
কুড়িগ্রাম শহরের বাজার
শহরের প্রধান কেনাকাটার এলাকা। এখানকার মিষ্টির দোকানে চর থেকে আসা মহিষের দুধের চমচম ও দই পাওয়া যায়।

এক নজরে কুড়িগ্রাম

এক নজরে কুড়িগ্রাম

মিডমার্টে কুড়িগ্রাম-এর দোকান

কুড়িগ্রাম থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে বিক্রি করছে না।

কুড়িগ্রাম-এর দোকান থেকে কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

কুড়িগ্রাম নিয়ে প্রশ্ন

ব্রহ্মপুত্র যে জেলা দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে, কুড়িগ্রাম সেই হিসেবে বিখ্যাত। এ ছাড়া শত শত নদীচর, চিলমারী বন্দর আর ভাওয়াইয়া গান এবং চরের মহিষের দুধের চমচমের জন্যও এ জেলা পরিচিত।

কুড়িগ্রাম-এ কিছু বানান বা ফলান?

বিনামূল্যে দোকান খুলুন আর সারা বাংলাদেশের ক্রেতার কাছে বিক্রি করুন। কোনো কমিশন বা লিস্টিং ফি নেই — ক্রেতা সরাসরি আপনাকে টাকা দেন, কুরিয়ার বেছে নেন আপনি।

কুড়িগ্রাম থেকে অনলাইনে বিক্রি করুন

রংপুর বিভাগের আরও জেলা

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা

সংখ্যাগুলো নিচের তথ্যসূত্র থেকে নেওয়া। আলাদা করে বলা না থাকলে জনসংখ্যার তথ্য ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা থেকে।