বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

রংপুর বিভাগ · বাংলাদেশ

রংপুর

উত্তরের রাজধানী, শতরঞ্জি, হাড়িভাঙ্গা আম আর বেগম রোকেয়ার জন্মভূমি

রংপুর উত্তরবঙ্গের বিভাগীয় শহর। তাজহাট জমিদারবাড়ি, কারমাইকেল কলেজ, নিসবেতগঞ্জের হাতে বোনা শতরঞ্জি, মিঠাপুকুরের হাড়িভাঙ্গা আম আর বেগম রোকেয়ার জন্মভূমি হিসেবে এ জেলা পরিচিত।

আয়তন
২,৪০১ বর্গকিমি
জনসংখ্যা (২০২২)
৩,১৬৯,৬১৪
উপজেলা
৮
ইউনিয়ন
৭৬
জেলা গঠন
১৭৬৯
সাক্ষরতা
৭০.৭%
রংপুরের তাজহাট জমিদারবাড়ির সাদা সম্মুখভাগ ও প্রশস্ত সিঁড়ি
তাজহাট জমিদারবাড়ি, রংপুর ছবি: Cerium4B · CC BY 4.0

রংপুর সম্পর্কে

রংপুর জেলা উত্তরবঙ্গের মাঝখানে; উত্তরে নীলফামারী ও লালমনিরহাট, পূর্বে কুড়িগ্রাম, দক্ষিণে গাইবান্ধা আর পশ্চিমে দিনাজপুর। উত্তর সীমানার একাংশ জুড়ে তিস্তা, আর ঘাঘট, যমুনেশ্বরী, করতোয়া ও আখিরার মতো ছোট নদী সমতল কৃষিজমির ভেতর দিয়ে এঁকেবেঁকে গেছে। ৮টি উপজেলা নিয়ে আয়তন প্রায় ২,৪০০ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারিতে প্রায় ৩১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ গণনা করা হয়েছে, যাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শহরে, সবচেয়ে বেশি রংপুর নগরে থাকেন।

২০১০ সাল থেকে এই শহর রংপুর বিভাগের সদর দপ্তর, আর ২০১২ সাল থেকে এর নিজস্ব সিটি করপোরেশন। বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, সেনানিবাস আর বিভাগের প্রধান আদালত ও দপ্তরগুলো এখানে, তাই উত্তরের আট জেলার মানুষ পড়াশোনা, চিকিৎসা আর ব্যবসার জন্য রংপুরে আসেন। শহরের বাইরে জেলাটি খোলা, উর্বর কৃষিভূমি, যা আলু, ধান, তামাক ও আম উৎপাদনে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাস

রংপুর একসময় প্রাচীন কামরূপ রাজ্যের অংশ ছিল, পরে কোচবিহারের। এক কিংবদন্তি বলে, কামরূপরাজ ভগদত্তের প্রমোদনগরী রঙ্গপুর থেকে এ নাম। আরেক মতে নামটি এসেছে ব্রিটিশ আমলে এখানে চাষ হওয়া নীলের রং থেকে। ষোলো শতকের শেষ দিকে মোগল বাহিনী এ অঞ্চলে পৌঁছালেও ১৬৮০-এর দশকে এসে এটি পুরোপুরি সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়, আর মোগলহাটের মতো জায়গার নাম আজও সেই সময়ের কথা মনে করায়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬৯ সালে রংপুরকে জেলা হিসেবে সংগঠিত করে। ১৭৮৩ সালে কৃষকনেতা নূরলদীন অত্যাচারী ইজারাদার দেবী সিংহের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন, আর পীরগাছায় কিংবদন্তির দেবী চৌধুরানীর স্মৃতি রয়ে গেছে।

জেলার সবচেয়ে পরিচিত কন্যা বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, যিনি ১৮৮০ সালে মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পথিকৃৎ লেখক এবং মেয়েদের শিক্ষার আন্দোলনের অগ্রদূত, আর রংপুর শহরের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টি তাঁর নামে। বিশ শতকে পুরোনো বৃহত্তর রংপুর জেলা কয়েক দফায় ভাগ হয়, আর ১৯৮৪ সালে বর্তমান রংপুর জেলা আজকের রূপ পায়।

টাইলসের মেঝেতে বিছানো জ্যামিতিক নকশার রঙিন হাতে বোনা শতরঞ্জি
শতরঞ্জি, রংপুরের বোনা গালিচা ছবি: Salim Khandoker · CC BY-SA 4.0

অর্থনীতি ও জীবিকা

কৃষিই প্রথম। রংপুরে বিপুল পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়, যা জেলাজুড়ে হিমাগারে রাখা হয়, সঙ্গে ধান, ভুট্টা, পাট, সবজি আর তামাক। এই তামাক যায় হারাগাছের বিড়ি কারখানায়। মিঠাপুকুর ও আশপাশের এলাকা হাড়িভাঙ্গা আমের আদি নিবাস, দেরিতে পাকা আঁশহীন এই আম এখন দেশের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া আমগুলোর একটি। বিসিক শিল্পনগরী ও আশপাশের শিল্প এলাকায় ঢালাই কারখানা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, দুগ্ধ কারখানা আর বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, আর বদরগঞ্জে শ্যামপুর চিনিকল। তবে রংপুরের নাম সবচেয়ে দূরে নিয়ে গেছে বয়নশিল্প। শহরের প্রান্তে নিসবেতগঞ্জে কারিগরেরা মাটিতে বসানো সাধারণ তাঁতে রঙিন সুতির শতরঞ্জি বোনেন।

খাবার, সংস্কৃতি ও উৎসব

এ অঞ্চলের মানুষ রংপুরি ভাষায় কথা বলেন, যা বাংলার একটি স্বতন্ত্র উত্তরাঞ্চলীয় রূপ। এর আন্তরিক সম্বোধন বাহে এতটাই পরিচিত যে রংপুরকে প্রায়ই বাহের দেশ বলা হয়। উত্তরবঙ্গের ধীর লয়ের বিরহী লোকগান ভাওয়াইয়া রংপুরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত, আর টাউন হল ও শিল্পকলা একাডেমিতে নিয়মিত এর আসর বসে। খাবার সাদামাটা কিন্তু পেট ভরানো: নদীর মাছ দিয়ে ভাত, শুঁটকির পদ আর মৌসুমি পিঠা। জুনে আম এলে হাড়িভাঙ্গার মৌসুম গোটা জেলার উৎসবে পরিণত হয়।

রংপুর-এর দর্শনীয় স্থান

  1. তাজহাট জমিদারবাড়ি

    রংপুর শহরের প্রান্তে বিশ শতকের শুরুতে তাজহাটের জমিদার পরিবারের তৈরি সাদা প্রাসাদ, যার মার্বেলের সিঁড়ি বিখ্যাত। আশির দশকে এখানে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বসত। এখন এটি জাদুঘর, যেখানে পুরোনো পাণ্ডুলিপি, টেরাকোটা ও মুদ্রা সাজানো বাগানঘেরা পরিবেশে প্রদর্শিত হয়।

  2. কারমাইকেল কলেজ

    ১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত, উত্তরাঞ্চলের প্রাচীনতম কলেজগুলোর একটি। গম্বুজ আর খিলানওয়ালা লম্বা মূল ভবনটি বিশাল সবুজ ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে, যেখানে বিকেলে হাঁটতে ভালো লাগে।

  3. বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র, পায়রাবন্দ

    শহর থেকে গাড়িতে আধা ঘণ্টার পথে মিঠাপুকুরে বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান। একটি স্মৃতি কমপ্লেক্স আর পারিবারিক বাড়ির কিছু অবশেষ এই লেখক ও শিক্ষাব্রতীর স্মৃতি ধরে রেখেছে।

  4. মিঠাপুকুর তিন গম্বুজ মসজিদ

    মিঠাপুকুরে শেষ মোগল আমলের তিন গম্বুজের মসজিদ, যার পলেস্তারার অলংকরণ সূক্ষ্ম। পীরগঞ্জের দিকের মহাসড়কে যাওয়ার পথে সহজেই থামা যায়।

  5. ভিন্নজগৎ

    গঙ্গাচড়ায় বাগান, রাইড আর বিখ্যাত স্থাপনার প্রতিরূপ নিয়ে বড় একটি বেসরকারি বিনোদন পার্ক ও রিসোর্ট। সপ্তাহান্ত আর ছুটির দিনে পরিবারগুলোর কাছে জনপ্রিয়।

রংপুর যে জন্য বিখ্যাত

রংপুর কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে রংপুর মোটামুটি ৩০০ কিলোমিটার। সড়কপথে গাবতলী, কল্যাণপুর ও মহাখালী থেকে বাস যমুনা সেতু পার হয়ে যানজটভেদে প্রায় ৬–৮ ঘণ্টায় পৌঁছায়। কমলাপুর থেকে রংপুর এক্সপ্রেস প্রায় ৮–৯ ঘণ্টায় রংপুর স্টেশনে যায়। সবচেয়ে দ্রুত উপায় হলো ঢাকা থেকে প্রায় এক ঘণ্টায় বিমানে সৈয়দপুর গিয়ে সেখান থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার, অর্থাৎ ঘণ্টাখানেকের পথ গাড়িতে শহরে আসা। কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও দিনাজপুরগামী বাসের প্রধান সড়ক-কেন্দ্রও রংপুর।

হাট ও বাজার

নিসবেতগঞ্জ শতরঞ্জি পল্লি
শহরের প্রান্তে বয়নপল্লি, যেখানে হাতে শতরঞ্জি বোনা হয়। কারখানা আর শোরুম থেকে সরাসরি মেঝের শতরঞ্জি, দেয়ালসজ্জা, ব্যাগ আর টেবিল রানার কেনা যায়।
পদাগঞ্জ হাট, মিঠাপুকুর
জুন-জুলাইয়ে এই হাট হাড়িভাঙ্গা আম কেনাবেচার কেন্দ্রে পরিণত হয়। চাষিরা ভ্যান আর সাইকেলে আম নিয়ে আসেন, আর পাইকাররা ঢাকাসহ নানা শহরের জন্য ট্রাক বোঝাই করেন।
জাহাজ কোম্পানি মোড় ও স্টেশন রোড
রংপুর শহরের কেন্দ্রীয় কেনাকাটার এলাকা, যেখানে কাপড়, ইলেকট্রনিকস, মিষ্টির দোকান আর আশপাশে ব্যস্ত দৈনিক বাজার রয়েছে।

এক নজরে রংপুর

এক নজরে রংপুর

মিডমার্টে রংপুর-এর দোকান

রংপুর থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে বিক্রি করছে না।

রংপুর-এর দোকান থেকে কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

রংপুর নিয়ে প্রশ্ন

রংপুর বিখ্যাত নিসবেতগঞ্জের শতরঞ্জি, হাড়িভাঙ্গা আম, আলু, তাজহাট জমিদারবাড়ি, কারমাইকেল কলেজ আর ভাওয়াইয়া গানের জন্য। বেগম রোকেয়ার জন্মভূমি হিসেবেও এ জেলা পরিচিত।

রংপুর-এ কিছু বানান বা ফলান?

বিনামূল্যে দোকান খুলুন আর সারা বাংলাদেশের ক্রেতার কাছে বিক্রি করুন। কোনো কমিশন বা লিস্টিং ফি নেই — ক্রেতা সরাসরি আপনাকে টাকা দেন, কুরিয়ার বেছে নেন আপনি।

রংপুর থেকে অনলাইনে বিক্রি করুন

রংপুর বিভাগের আরও জেলা

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা

সংখ্যাগুলো নিচের তথ্যসূত্র থেকে নেওয়া। আলাদা করে বলা না থাকলে জনসংখ্যার তথ্য ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা থেকে।