বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

রংপুর বিভাগ · বাংলাদেশ

ঠাকুরগাঁও

দেশের গমের ভান্ডার, সূর্যপুরী আম আর প্রাচীন বিশাল আমগাছের জেলা

উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের শান্ত সীমান্ত জেলা ঠাকুরগাঁও। দেশের সবচেয়ে বেশি গম উৎপাদন হয় এখানে। সূর্যপুরী আম, বালিয়াডাঙ্গীর শত বছরের পুরোনো বিশাল আমগাছ, সমতলের নতুন চা-বাগান আর হরিপুর ও রাণীশংকৈলের রাজবাড়ি এ জেলার পরিচয়।

আয়তন
১,৭৮২ বর্গকিমি
জনসংখ্যা (২০২২)
১,৫৩৩,৮৯৫
উপজেলা
৭
জেলা গঠন
১৯৮৪
সাক্ষরতা
৭৪.৪%
বালিয়াডাঙ্গীর সমতলের চা-বাগানে ছায়াগাছের ফাঁক দিয়ে সকালের রোদ
চা-বাগান, বালিয়াডাঙ্গী ছবি: ArafatAtik · CC BY 4.0

ঠাকুরগাঁও সম্পর্কে

ঠাকুরগাঁও বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম কোণে। পশ্চিম ও দক্ষিণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে পঞ্চগড়, পূর্বে দিনাজপুর ও পঞ্চগড়। আয়তন মোটামুটি ১,৮০০ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারিতে ১৫ লাখের কিছু বেশি মানুষ গণনা করা হয়েছে, যাদের পাঁচ ভাগের চার ভাগের বেশি গ্রামে থাকেন। ২০২৬ সালের মে মাসে সরকার রুহিয়া ও ভুল্লীকে নতুন উপজেলা হিসেবে অনুমোদন দেওয়ায় জেলায় এখন ৭টি উপজেলা।

জমি উঁচু, সমতল আর পানি দ্রুত নেমে যায়। টাঙ্গন, কুলিক, নাগর ও তীরনইয়ের মতো ছোট নদী দক্ষিণে দিনাজপুরের দিকে বয়ে গেছে। দোআঁশ, খানিকটা বালুময় মাটি গমের জন্য আদর্শ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতীয় গম উৎপাদনে ঠাকুরগাঁও শীর্ষে, তাই একে দেশের রুটির ঝুড়ি বলা হয়। বাকি গ্রামাঞ্চল জুড়ে আমবাগান, আখখেত আর হালে চা-বাগান। শীত এখানে ঠান্ডা ও কুয়াশাঢাকা, আর বসন্তে প্রবল শিলাবৃষ্টি হয়।

ইতিহাস

এক গল্প বলে, টাঙ্গনের তীরে একটি ব্রাহ্মণ ঠাকুর পরিবার বসতি গড়েছিল, আর তাঁদের নামেই গ্রামের নাম হয় ঠাকুরগাঁও। পুরোনো মানচিত্র ইঙ্গিত দেয়, শহরটি একসময়ের নিশ্চিন্তপুর নামের জনপদ থেকে গড়ে উঠেছে। ১৭৯০-এর দশকে এখানে থানা স্থাপিত হয়, আর ১৮৬০ সালে ব্রিটিশরা ঠাকুরগাঁওকে দিনাজপুরের মহকুমা করে। দেশভাগের পর জলপাইগুড়ি থেকে আসা কয়েকটি থানা, যার মধ্যে আজকের পঞ্চগড়ও ছিল, এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ১৯৮০ সালে পঞ্চগড় আলাদা হয়, আর ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলা হয়।

দেশভাগের আগে হরিপুর, রাণীশংকৈল ও জামালপুরের জমিদারেরা এ অঞ্চল শাসন করতেন, আর তাঁদের প্রাসাদ, মসজিদ ও মন্দির নানা অবস্থায় আজও টিকে আছে। রাণীশংকৈল রাজা টংকনাথের সঙ্গে জড়িত, মালদুয়ারে তাঁর রাজবাড়ি এখনো দাঁড়িয়ে আছে। ১৯৭১ সালের পর আরডিআরএসের মতো ত্রাণ সংস্থা এখানে নানা প্রকল্প শুরু করে, যার মধ্যে একটি রেশম কারখানাও ছিল, যা পরে সরকারি রেশম বোর্ডের হাতে যায়।

খিলানওয়ালা জানালাসহ গাছপালায় ঢাকা হরিপুর রাজবাড়ির সম্মুখভাগ
হরিপুর রাজবাড়ি ছবি: Anup Sadi · CC BY-SA 4.0

অর্থনীতি ও জীবিকা

এখানকার প্রধান ফসল গম, আর সাম্প্রতিক কৃষি পরিসংখ্যানে ঠাকুরগাঁও অন্য সব জেলার চেয়ে বেশি গম উৎপাদন করেছে। এরপর ধান, ভুট্টা, আলু, আখ ও পাট, আর ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও চিনিকল স্থানীয় আখ মাড়াই করে। আম বড় একটি অর্থকরী ফসল, বিশেষ করে বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুরের সূর্যপুরী, যা দেরিতে পাকে এবং যার শাঁস মিষ্টি ও সুগন্ধি। পাশের পঞ্চগড় থেকে বালিয়াডাঙ্গীতেও ছড়িয়েছে সমতলের চা। শহরের বিসিক শিল্পনগরীতে আটার মিল, বিস্কুট ও সাবানের কারখানা আছে, আর আশপাশের ইউনিয়নে পশুখাদ্যের কারখানা চলে।

খাবার, সংস্কৃতি ও উৎসব

এখানকার মানুষ রংপুরির কাছাকাছি একটি উত্তরাঞ্চলীয় উপভাষায় কথা বলেন, যাতে জেলায় বসবাসকারী সাঁওতাল, ওরাওঁ, মুন্ডা ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের প্রভাব আছে। রাণীশংকৈলে পীর নেকমরদের মাজার ঘিরে বসা নেকমরদ মেলা উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে পুরোনো ও বড় গ্রামীণ মেলাগুলোর একটি, যেখানে পুরো অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীরা আসেন। শীতে পিঠা, খেজুরের রস আর গ্রামের মেলা, আর জুন মাসে আমের মৌসুম।

ঠাকুরগাঁও-এর দর্শনীয় স্থান

  1. হরিণমারীর বিশাল আমগাছ, বালিয়াডাঙ্গী

    প্রায় ২০০ বছর পুরোনো বলে কথিত একটি সূর্যপুরী আমগাছ। এর ডালপালা মাটিতে নেমে শিকড় গেড়েছে, আর এখন একটি ছোট মাঠের সমান জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে আছে। স্থানীয়রা একে এশিয়ার সবচেয়ে বড় আমগাছ বলেন, আর দর্শনার্থীরা এর ছায়ার নিচে হাঁটতে আসেন।

  2. হরিপুর রাজবাড়ি

    নাগর নদীর কাছে হরিপুরের জমিদারদের জীর্ণ দোতলা প্রাসাদ, খিলানওয়ালা বারান্দা আর অলংকৃত পলেস্তারায় সাজানো। সীমান্ত অঞ্চল শাসন করা জমিদারির স্মৃতি এখানে গভীরভাবে অনুভব করা যায়।

  3. জামালপুর জমিদারবাড়ি মসজিদ

    ঠাকুরগাঁও সদরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত সমৃদ্ধ অলংকরণের পুরোনো মসজিদ। এর গম্বুজ আর পলেস্তারার কাজ জেলার সেরাগুলোর মধ্যে পড়ে।

  4. রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি ও রামরাই দিঘি, রাণীশংকৈল

    মালদুয়ারের রাজার প্রাসাদ আর কাছের বিশাল দিঘি। নেকমরদের মাজারের সঙ্গে মিলিয়ে শহর থেকে আধা দিনের ভালো ভ্রমণ।

  5. বালিয়াডাঙ্গীর চা-বাগান

    উঁচু গাছের ছায়ায় সমতলের নতুন চা-বাগান, পঞ্চগড় থেকে জেলায় ছড়িয়ে পড়া উত্তরের চা-অঞ্চলের অংশ। ভোরের আলোয় এগুলো সবচেয়ে সুন্দর দেখায়।

ঠাকুরগাঁও যে জন্য বিখ্যাত

ঠাকুরগাঁও কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও মোটামুটি ৪৫০ কিলোমিটার। গাবতলী, কল্যাণপুর ও মহাখালী থেকে বাস যমুনা সেতু, রংপুর ও দিনাজপুর হয়ে প্রায় ৯–১১ ঘণ্টায় পৌঁছায়। একতা এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের মতো পঞ্চগড়গামী আন্তনগর ট্রেন প্রায় ১০ ঘণ্টায় ঠাকুরগাঁও রোড স্টেশনে থামে। বিমানে সৈয়দপুর যেতে প্রায় এক ঘণ্টা, সেখান থেকে সড়কপথে ঠাকুরগাঁও প্রায় দুই ঘণ্টা।

হাট ও বাজার

নেকমরদ হাট
রাণীশংকৈলে পীর নেকমরদের মাজারের পাশে বহু পুরোনো হাট। এখানে গবাদিপশু, কৃষিপণ্য আর গৃহস্থালি জিনিস কেনাবেচা হয়, আর এখানেই বসে বিখ্যাত নেকমরদ মেলা।
রুহিয়া রামনাথ হাট
নতুন রুহিয়া উপজেলার বড় সাপ্তাহিক হাট, আশপাশের ইউনিয়নের ধান, গম, আলু আর গবাদিপশুতে জমজমাট।
কালীবাড়ী বাজার, ঠাকুরগাঁও শহর
জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাজার, যেখানে মুদি ও কাপড়ের দোকান আর মৌসুমে আম ও লিচুর দোকান বসে।

এক নজরে ঠাকুরগাঁও

এক নজরে ঠাকুরগাঁও

মিডমার্টে ঠাকুরগাঁও-এর দোকান

Easy Shopping Zone নতুন ঠাকুরগাঁও
এখনো কোনো রিভিউ নেই 1 টি পণ্য

ঠাকুরগাঁও-এর সব দোকান দেখুন

ঠাকুরগাঁও-এর দোকান থেকে কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

ঠাকুরগাঁও নিয়ে প্রশ্ন

দেশের শীর্ষ গম উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে ঠাকুরগাঁও বিখ্যাত। এ ছাড়া সূর্যপুরী আম, বালিয়াডাঙ্গীর হরিণমারীর প্রাচীন বিশাল আমগাছ, সমতলের চা-বাগান, হরিপুর ও রাণীশংকৈলের রাজবাড়ি আর নেকমরদ মেলার জন্যও এ জেলা পরিচিত।

ঠাকুরগাঁও-এ কিছু বানান বা ফলান?

বিনামূল্যে দোকান খুলুন আর সারা বাংলাদেশের ক্রেতার কাছে বিক্রি করুন। কোনো কমিশন বা লিস্টিং ফি নেই — ক্রেতা সরাসরি আপনাকে টাকা দেন, কুরিয়ার বেছে নেন আপনি।

ঠাকুরগাঁও থেকে অনলাইনে বিক্রি করুন

রংপুর বিভাগের আরও জেলা

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা

সংখ্যাগুলো নিচের তথ্যসূত্র থেকে নেওয়া। আলাদা করে বলা না থাকলে জনসংখ্যার তথ্য ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা থেকে।