বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

রংপুর বিভাগ · বাংলাদেশ

পঞ্চগড়

দেশের উত্তর প্রান্ত, সমতলের চা-বাগান আর দিগন্তে কাঞ্চনজঙ্ঘা

পঞ্চগড় বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা। শরতের পরিষ্কার সকালে তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। এখানে আছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চা-অঞ্চল, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আর বাংলার অন্যতম বড় প্রাচীন দুর্গনগরী ভিতরগড়ের ধ্বংসাবশেষ।

আয়তন
১,৪০৫ বর্গকিমি
জনসংখ্যা (২০২২)
১,১৭৯,৮৪৩
উপজেলা
৫
ইউনিয়ন
৪৩
জেলা গঠন
১৯৮৪
সাক্ষরতা
৭৩.৭%
তেঁতুলিয়ার কাছে চা-বাগানের ওপরে সূর্যোদয়ের আলোয় রাঙা কাঞ্চনজঙ্ঘা
তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা ছবি: Sajjad hossain photography · CC BY-SA 4.0

পঞ্চগড় সম্পর্কে

পঞ্চগড় মানচিত্রের একেবারে মাথায়, প্রায় চারদিক থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ঘেরা এক টুকরো ভূমি। দক্ষিণে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর, পূর্বে নীলফামারী। ৫টি উপজেলা নিয়ে আয়তন প্রায় ১,৪০৫ বর্গকিলোমিটার, আর ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার, তাই এটি দেশের সবচেয়ে কম ঘনবসতির জেলাগুলোর একটি। সীমান্ত প্রায় ২৯০ কিলোমিটার লম্বা, যা বেশির ভাগ জেলার চেয়ে দীর্ঘ।

এখানকার প্রকৃতি দেশের অন্য অঞ্চল থেকে আলাদা। হিমালয়ের পাদদেশ থেকে ধুয়ে আসা মাটি বালুময় ও পাথুরে, আর মহানন্দা, করতোয়া, ডাহুক ও তালমা নদীর তলদেশ নুড়ি আর পাথরে ভরা। শীত এখানে দেশের সবচেয়ে কড়া, জানুয়ারিতে কয়েক দিন ধরে কুয়াশা জমে থাকতে পারে। অক্টোবরের শেষ থেকে ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত পরিষ্কার সকালে তেঁতুলিয়া থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরের কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফচূড়া দিগন্তে ভেসে ওঠে। গত পঁচিশ বছরে যে মাঠে শুধু ধান-গম হতো, সেখানে ছড়িয়ে পড়েছে চায়ের ঝোপ।

ইতিহাস

সাধারণত বলা হয়, ভিতরগড়, মিরগড়, রাজনগড়, হোসেনগড় ও দেবনগড় নামের পাঁচটি পুরোনো গড় থেকে পঞ্চগড় নাম এসেছে। আরেক মতে নামটি প্রাচীন পঞ্চনগরী থেকে। শহরের উত্তরে ভিতরগড় মাটির কয়েক স্তরের প্রাচীর ও পরিখাঘেরা বিশাল এক স্থান, যা লোকবিশ্বাসে পৃথু রাজার সঙ্গে যুক্ত। ২০০০-এর দশকের শেষ থেকে চলা খননে ইটের স্থাপনা পাওয়া গেছে, যা প্রাক-মধ্যযুগের এক বড় জনবসতির ইঙ্গিত দেয়।

ব্রিটিশ আমলে বর্তমান পঞ্চগড়ের বেশির ভাগ ছিল জলপাইগুড়ি জেলার অংশ। ১৯৪৭ সালে র‍্যাডক্লিফ রেখা অনুযায়ী এটি পূর্ববঙ্গে আসে এবং দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহকুমার অংশ হয়। ১৯৮০ সালে এটি মহকুমা এবং ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জেলা হয়। ২০১৫ সালের ভারত–বাংলাদেশ স্থলসীমান্ত চুক্তিতে এর সীমান্তের ছিটমহলগুলো বিনিময় হয়।

দূরে কাঞ্চনজঙ্ঘা, তেঁতুলিয়ায় মহানন্দার বালুচরে পাথর সংগ্রহকারীরা
মহানন্দা নদী, তেঁতুলিয়া ছবি: Nasif05 · CC BY-SA 4.0

অর্থনীতি ও জীবিকা

অর্থনীতির ভিত্তি কৃষি: ধান, গম, ভুট্টা, আলু আর আখ, যা ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত পঞ্চগড় চিনিকলে যায়। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এনেছে চা। ২০০০ সালের দিকে সমতলে বাণিজ্যিক চা চাষ শুরু হয়, আর এখন দেশের মোট চায়ের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ আসে পঞ্চগড় থেকে। বড় বাগান আর হাজারো ক্ষুদ্র চাষি স্থানীয় কারখানায় কাঁচা পাতা বিক্রি করেন, আর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জেলা শহরে দেশের তৃতীয় চা নিলামকেন্দ্র চালু হয়েছে। নদীর তলদেশ থেকে পাথর ও বালু তুলেও অনেক পরিবার জীবিকা চালায়, আর বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য হয়।

খাবার, সংস্কৃতি ও উৎসব

উত্তরের রংপুরি উপভাষা আর ভাওয়াইয়া গান পঞ্চগড়েরও। বড় রাজবংশী হিন্দু সম্প্রদায়, সাঁওতাল গ্রাম আর আটোয়ারীর ছোট খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠী নিজেদের উৎসব যোগ করেছে। শীতই এখানে মেলা, নতুন চালের পিঠা আর পাহাড় দেখতে আসা পর্যটকের মৌসুম। শহরের সরকারি মহিলা কলেজের রকস মিউজিয়ামে এ অঞ্চলের পাথর, জীবাশ্ম কাঠ আর লোকজ জিনিসপত্র রাখা আছে। এটিকে দেশে এ ধরনের প্রথম জাদুঘর বলা হয়।

পঞ্চগড়-এর দর্শনীয় স্থান

  1. তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো ও মহানন্দার তীর

    মহানন্দার ওপরের উঁচু পাড়ে পুরোনো বিশ্রামাগার, নদীর ঠিক ওপারেই ভারত। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত পরিষ্কার সকালে কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়ায় রোদ পড়া দেখার জন্য এটিই বাংলাদেশের সেরা জায়গা।

  2. বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট

    বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের বিন্দু, যেখানে দেশকে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যুক্ত করা স্থলবন্দর রয়েছে। সীমান্তের মাইলফলক, পতাকা নামানোর অনুষ্ঠান আর চা-বাগানের ভেতর দিয়ে যাত্রার টানে দর্শনার্থীরা আসেন।

  3. ভিতরগড়

    পঞ্চগড় শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তরে বিশাল এক প্রাচীন দুর্গনগরীর ধ্বংসাবশেষ, যেখানে প্রাচীর, পরিখা আর বিশাল মহারাজার দিঘি রয়েছে। কোথাও কোথাও খননে বের হওয়া দেয়াল ও ফটক দেখা যায়।

  4. মির্জাপুর শাহী মসজিদ, আটোয়ারী

    সতেরো শতকের শেষ দিকের মোগল আমলের তিন গম্বুজ মসজিদ, যার সামনের দেয়ালে সূক্ষ্ম টেরাকোটা ও পলেস্তারার কাজ রয়েছে।

  5. তেঁতুলিয়ার সমতলের চা-বাগান

    পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়ার পথে গাছের ছায়ায় সারি সারি চায়ের ঝোপ। বসন্ত থেকে শরৎ পর্যন্ত পাতা তোলার মৌসুমে কিছু বাগানে দর্শনার্থীরা হেঁটে ঘুরতে পারেন।

পঞ্চগড় যে জন্য বিখ্যাত

পঞ্চগড় কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে পঞ্চগড় প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার, দেশের দীর্ঘতম যাত্রাগুলোর একটি। গাবতলী, কল্যাণপুর ও মহাখালী থেকে বাস যমুনা সেতু, রংপুর ও ঠাকুরগাঁও হয়ে মোটামুটি ১০–১২ ঘণ্টায় পৌঁছায়। কমলাপুর থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস ও একতা এক্সপ্রেস প্রায় ১০–১২ ঘণ্টায় পঞ্চগড় স্টেশনে যায়। বিমানে সৈয়দপুর যেতে প্রায় এক ঘণ্টা, সেখান থেকে সড়কপথে পঞ্চগড় শহর আড়াই ঘণ্টার মতো। তেঁতুলিয়া আরও প্রায় চল্লিশ মিনিট উত্তরে।

হাট ও বাজার

পঞ্চগড় চা নিলামকেন্দ্র
চট্টগ্রাম ও শ্রীমঙ্গলের পর ২০২৩ সালে চালু হওয়া দেশের তৃতীয় চা নিলামকেন্দ্র। উত্তরের কারখানায় তৈরি চায়ের জন্য ব্রোকাররা অনলাইনে দর হাঁকেন, ফলে চাষিদের আর সব চা চট্টগ্রামে পাঠাতে হয় না।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর বাজার
সীমান্ত পারাপার ঘিরে ট্রাক, গুদাম আর রাস্তার পাশের দোকান। নেপাল ও ভুটান থেকে পাথর, ফল ও নানা পণ্য এখান দিয়ে আসে।
তেঁতুলিয়া বাজার
মহানন্দার কাছে উপজেলার ছোট বাজার। ডাকবাংলোয় যাওয়ার আগে দর্শনার্থীরা এখান থেকে স্থানীয় চা, শীতের চাদর আর নাশতা কেনেন।

এক নজরে পঞ্চগড়

এক নজরে পঞ্চগড়

মিডমার্টে পঞ্চগড়-এর দোকান

পঞ্চগড় থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে বিক্রি করছে না।

পঞ্চগড়-এর দোকান থেকে কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

পঞ্চগড় নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা হিসেবে পঞ্চগড় বিখ্যাত। এ ছাড়া তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা, সমতলের চা-বাগান, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট আর প্রাচীন দুর্গনগরী ভিতরগড়ের জন্যও এ জেলা পরিচিত।

পঞ্চগড়-এ কিছু বানান বা ফলান?

বিনামূল্যে দোকান খুলুন আর সারা বাংলাদেশের ক্রেতার কাছে বিক্রি করুন। কোনো কমিশন বা লিস্টিং ফি নেই — ক্রেতা সরাসরি আপনাকে টাকা দেন, কুরিয়ার বেছে নেন আপনি।

পঞ্চগড় থেকে অনলাইনে বিক্রি করুন

রংপুর বিভাগের আরও জেলা

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা

সংখ্যাগুলো নিচের তথ্যসূত্র থেকে নেওয়া। আলাদা করে বলা না থাকলে জনসংখ্যার তথ্য ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা থেকে।