গল্পটা
সীমান্তঘেঁষা মেহেরপুরের দুটি মিষ্টির খোঁজ জেলার বাইরের মানুষ নাম ধরেই করেন: সাবিত্রী আর তার সঙ্গী রসকদম। দুটির স্রষ্টাই বাসুদেব সাহা। জানা যায়, ১৮৬১ সালে মেহেরপুর শহরের বড়বাজার এলাকায়, জমিদারবাড়ির কাছে নিজের বাড়িতে তিনি সাবিত্রী তৈরি শুরু করেন, আর বিশিষ্ট অতিথিদের আপ্যায়নে এই মিষ্টি পরিবেশন করা হতো। পুরাণের পতিব্রতা সতী সাবিত্রীর নামে তিনি এর নাম রাখেন।
বাংলার বেশির ভাগ মিষ্টির মতো সাবিত্রী রসে ডোবানো থাকে না। নির্দিষ্ট তাপে দীর্ঘ সময় দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন চাঁছি তৈরি করা হয়, তারপর চিনি দিয়ে পাক করে আকার দেওয়া হয়। দেখতে কিছুটা চমচমের মতো, তবে আরও লম্বা ও চ্যাপটা; ভেতরে আর্দ্রতা থাকলেও রস নেই। তরল প্রায় নেই বলে ছানার মিষ্টির চেয়ে এটি অনেক বেশি দিন ভালো থাকে, আর সেই কারণেই আত্মীয়বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার উপহার হিসেবে এর কদর। পরিবারটি জানায়, এখনো প্রতিদিন সকালে টাটকা দুধ সংগ্রহ করে কাঠের চুলায় জ্বাল দেওয়া হয়, পরদিন তৈরি হয় মিষ্টি; দুধ ফ্রিজে রাখা হয় না।
বাসুদেব গ্র্যান্ড সন্স নামের দোকানটি এখন চালাচ্ছেন বাসুদেবের নাতি। পরিবারের বাইরের কোনো কারিগর রাখা হয় না, আর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী দুধ ও লোকবলের সীমাবদ্ধতায় দিনে মাত্র কয়েক ডজন কেজি মিষ্টি তৈরি হয়। মেহেরপুর জেলা প্রশাসন ২০২৪ সালে জিআইয়ের আবেদন করে, আর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর থেকে সাবিত্রী জিআই সনদ পায়।
আসল মেহেরপুরের সাবিত্রী মিষ্টি চিনবেন কীভাবে
আসল সাবিত্রী শক্ত কিন্তু কঠিন নয়, কামড়ে ঘন ও সামান্য দানাদার, আর মুখে লাগে দীর্ঘক্ষণ জ্বাল দেওয়া দুধের ভরাট স্বাদ। হাতে নিলে শুকনো লাগবে, বাক্সে কোনো রস থাকবে না। টুকরাগুলো গোল নয়, লম্বাটে ও কিছুটা চ্যাপটা। রাবারের মতো গড়ন, ময়দা বা মাড়ের স্বাদ, গুঁড়া দুধের গন্ধ কিংবা তেলতেলে উপরিভাগ দেখলে বুঝবেন প্রথাগত পদ্ধতিতে বানানো হয়নি। আদি পারিবারিক দোকানের উৎপাদন সীমিত, তাই হঠাৎ বিপুল পরিমাণ সরবরাহের প্রস্তাবে সতর্ক থাকুন, আর মিষ্টি কোথা থেকে, কোন তারিখে কেনা তা বিক্রেতাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন।
কেনার পরামর্শ
রস নেই বলে কুরিয়ারে পাঠানোর জন্য সাবিত্রী তুলনামূলক সহজ মিষ্টি, তবু কবে তৈরি আর মুখবন্ধ বাক্সে আসবে কি না তা জেনে নিন। একই দোকানের রসকদম সাবিত্রীর স্বাভাবিক সঙ্গী; দুটো একই বিক্রেতার কাছ থেকে নিলে বাড়তি ডেলিভারি চার্জ বাঁচে, কারণ মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি চার্জ ঠিক করে ও নেয়। মিডমার্ট নিজে কখনো টাকা নেয় না বা ডেলিভারির ব্যবস্থা করে না; দুটোই বিক্রেতা আপনার সঙ্গে সরাসরি ঠিক করেন।
কীভাবে রাখবেন
সাবিত্রী ঢাকনাওয়ালা পাত্রে ঠান্ডা, শুকনো জায়গায় রাখুন। স্থানীয়দের মতে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় প্রায় এক সপ্তাহ, ফ্রিজে আরও অনেক দিন এর স্বাদ ঠিক থাকে; তবে এটিকে মোটামুটি হিসাব ধরে খাওয়ার আগে গন্ধ ও গড়ন দেখে নিন। ফ্রিজের মিষ্টি পরিবেশনের আগে ঘরের তাপমাত্রায় এনে নিন।
মিডমার্টে মেহেরপুরের সাবিত্রী মিষ্টি খুঁজুন
মিডমার্টে “সাবিত্রী মিষ্টি” খুঁজুন
যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান
মেহেরপুর থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।
মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।
ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন
English
বাংলা