বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

বাংলাদেশের বিখ্যাত পণ্য

মুক্তাগাছার মণ্ডা

জমিদারদের শহর মুক্তাগাছার নরম, হালকা মিষ্টি দুধের মণ্ডা

মণ্ডা ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার নরম, গোলাকার, মাঝখানে একটু উঁচু দুধের মিষ্টি। প্রায় দুই শ বছর ধরে এটি জড়িয়ে আছে গোপাল পালের পরিবার আর শহরের পুরোনো জমিদারদের নামের সঙ্গে। ২০২৪ সালে মণ্ডা জিআই স্বীকৃতি পায়।

যেখান থেকে
ময়মনসিংহ
মৌসুম
সারা বছর
GI
জিআই নিবন্ধন ২০২৪
মোড়কের ওপর রাখা একটি হালকা ক্রিম রঙের মুক্তাগাছার মণ্ডা
মুক্তাগাছার মণ্ডা: নরম, গোল, হালকা মিষ্টি ছবি: Anup Sadi · CC BY-SA 4.0

গল্পটা

ময়মনসিংহের পশ্চিমে ছোট্ট শহর মুক্তাগাছা ছিল এক প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের কেন্দ্র, যাঁদের রাজবাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে। মণ্ডার গল্প বলেন গোপাল পালের (রাম গোপাল পাল নামেও পরিচিত) বংশধরেরা। পরিবারের ভাষ্য, তিনি মুর্শিদাবাদ থেকে এসে মুক্তাগাছায় থিতু হন; এক সাধু স্বপ্নে দেখা দিয়ে তাঁকে মণ্ডা বানানোর কৌশল শিখিয়ে দেন, আর ১৮২৪ সালের দিকে তিনি প্রথম মণ্ডা তৈরি করেন। এসব তথ্য পারিবারিক ঐতিহ্য থেকে আসা, সংবাদমাধ্যমেও বারবার এসেছে, তবে স্বাধীন কোনো নথিতে যাচাই করা যায় না।

মণ্ডার প্রথম পৃষ্ঠপোষক ছিল জমিদারবাড়ি। বিবরণে নাম আসে মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরীর; বলা হয়, মণ্ডার স্বাদে মুগ্ধ হয়ে তিনি অতিথিদের তা দিয়ে আপ্যায়ন করতেন এবং ব্যবসা বড় করতে সাহায্য করেন। বহু বছর ধরে নামকরা অনেক অতিথি এর প্রশংসা করেছেন বলে শোনা যায়। আদি দোকানটি মুক্তাগাছা জমিদারবাড়ির ফটকের কাছে, এখন চালাচ্ছে পাল পরিবারের পঞ্চম প্রজন্ম। তাঁরা জানান, দেশের আর কোথাও তাঁদের কোনো শাখা, এজেন্ট বা বিক্রয়কেন্দ্র নেই।

পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর ২০২৪ সালের শুরুতে মুক্তাগাছার মণ্ডাকে জিআই নিবন্ধনের জন্য জার্নালে প্রকাশ করে, আর ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ হস্তান্তর হয়। এই জিআই প্রথাগত পদ্ধতিতে মুক্তাগাছায় তৈরি মণ্ডার নামকে সুরক্ষা দেয়।

আসল মুক্তাগাছার মণ্ডা চিনবেন কীভাবে

মুক্তাগাছার মণ্ডা গোলাকার, সামান্য চাপা, মাঝখানটা একটু উঁচু ও পুরু; রং হালকা ক্রিম থেকে হাতির দাঁতের মতো সাদাটে। গড়ন নরম আর হালকা দানাদার, অনেকটা শক্ত সন্দেশের মতো; মিষ্টি কম, টাটকা দুধের স্বাদটাই আগে টের পাওয়া যায়। পরিবারটি রেসিপি গোপন রাখে, শুধু দুধের ছানা আর চিনির কথা বলে; তাই মণ্ডা রসাল, চটচটে, কড়া সুগন্ধি বা উজ্জ্বল রঙের হওয়ার কথা নয়। ময়মনসিংহ, ঢাকাসহ নানা জায়গায় বহু দোকান "মুক্তাগাছার মণ্ডা" বিক্রি করে, কেউ কেউ বাক্সে প্রায় একই রকম লেখা ব্যবহার করে। আদি পরিবারটি যেহেতু বলে তাদের কোনো শাখা নেই, দূরে বিক্রি হওয়া কোনো বাক্স তাদের বলে দাবি করলে প্রশ্ন করাই উচিত।

কেনার পরামর্শ

বেশির ভাগ ছানার মিষ্টির চেয়ে মণ্ডা শুকনো, আর পাল পরিবার বলে, ফ্রিজ ছাড়াই কয়েক দিন ভালো থাকে, গরমের চেয়ে শীতে বেশি। তাই দই বা রসমালাইয়ের চেয়ে পাঠানো সহজ, তবু এটি টাটকা দুধের মিষ্টিই। বিক্রেতার কাছে জানুন মণ্ডা কোথায় তৈরি, কোন দিন বানানো, কীভাবে প্যাক হবে (সাধারণত ভেতরে কাগজ দেওয়া পিচবোর্ডের বাক্স), আর কুরিয়ারে কত দিন লাগবে। দাম নির্ভর করে দুধের মান, কারিগর আর বাক্সের মাপের ওপর।

মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি নিজে চালায়, চার্জও নিজে ঠিক করে; তাই দুই দোকানের পণ্য মানে দুটি পার্সেল, দুটি ডেলিভারি ফি। মিডমার্ট কোনো টাকা নেয় না, ডেলিভারিও করে না; দুটোই বিক্রেতার সঙ্গে সরাসরি ঠিক করবেন। মিডমার্ট কোনো তালিকাকে জিআই মণ্ডা বলে সনদ দেয় না, তাই বিক্রেতার মণ্ডা কোথা থেকে আসছে, পরিষ্কার করে জেনে নিন।

কীভাবে রাখবেন

বাক্সসহ ঠান্ডা, শুকনো জায়গায় রেখে কয়েক দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলুন; গরম আর ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ঢাকনাওয়ালা পাত্রে ফ্রিজে রাখুন। পরিবেশনের আগে ঘরের তাপমাত্রায় আনলে নরম ভাবটা ফিরে আসে।

মিডমার্টে মুক্তাগাছার মণ্ডা খুঁজুন

মিডমার্টে “মণ্ডা” খুঁজুন

যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান

Catch IT ভেরিফায়েড বিক্রেতা ময়মনসিংহ
এখনো কোনো রিভিউ নেই

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

মুক্তাগাছার মণ্ডা নিয়ে প্রশ্ন

পারিবারিক ঐতিহ্য অনুযায়ী গোপাল পাল, যিনি উনিশ শতকের শুরুর দিকে মুক্তাগাছায় থিতু হন। তাঁর বংশধরেরা এখনো দোকানটি চালান।

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা