গল্পটা
পাখা বা এসি আসার অনেক আগে থেকেই বাংলার ঘরে ঘরে গরমের রাত কাটত শীতলপাটিতে। এটি বোনা হয় মুর্তা নামের সরু সবুজ বেতজাতীয় গাছ থেকে, যা পুকুর, খাল আর হাওরের আশপাশের ভেজা নিচু জমিতে জন্মায়। পাটির মসৃণ চকচকে বেতি শরীরের তাপ ধরে রাখে না, তাই বর্ষার গুমোট রাতেও এটি আরামদায়ক ঠান্ডা থাকে। উপহার হিসেবেও এর কদর ছিল: নকশা করা নকশিপাটি একসময় মেয়ের বিয়ের উপহারের সাধারণ অংশ ছিল।
এই শিল্পের প্রাণকেন্দ্র বৃহত্তর সিলেট। বালাগঞ্জ, মৌলভীবাজারের রাজনগরসহ নানা এলাকা আর সুনামগঞ্জের গ্রামে গ্রামে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাটি বোনা হচ্ছে। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো সিলেটের শীতলপাটি বুননের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে মানবতার অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত করে। দেশের অন্য জায়গাতেও পাটিকর আছেন, তার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত দক্ষিণের ঝালকাঠির কাঠালিয়া এলাকা। ২০২৩ সালে বিসিকের আবেদনে বাংলাদেশের শীতলপাটি নামে এটি ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হয়।
কাজটা চলে পরিবারের সবাই মিলে। নারী-পুরুষ মিলে মুর্তা কেটে প্রস্তুত করেন, কাণ্ড লম্বালম্বি চিরে সরু বেতি বানানো হয়, তারপর সাধারণত ভিজিয়ে ও সেদ্ধ করে নরম করা হয়। কিছু বেতি রং করা হয়, যাতে পাটির গায়ে পাখি, মাছ, নৌকা বা পাড়ের নকশা ফুটিয়ে তোলা যায়। বুননের বেশির ভাগ করেন নারীরা, পুরোটাই হাতে, আর বড় একটি নকশি পাটি বুনতে অনেক দিন লেগে যায়।
আসল শীতলপাটি চিনবেন কীভাবে
আসল মুর্তার প্রতিটি বেতির বাইরের দিকে প্রাকৃতিক কাচের মতো চকচকে ভাব থাকে, ভেতরের দিক একটু ম্লান। হাত বুলিয়ে দেখুন: খাঁটি পাটি মসৃণ, ঠান্ডা আর সামান্য স্থিতিস্থাপক, আর প্রতিটি বেতিতে আঁশের প্রাকৃতিক রেখা দেখা যায়। রং হালকা খড়ের মতো থেকে সবুজাভ সোনালি পর্যন্ত হয়, নকশা থাকে লাল, বাদামি বা কালো রঙে। বাজারে প্রধান বিকল্প প্লাস্টিকের পাটি; সেগুলো সমানভাবে চকচকে, প্রতিটি ফালি একদম এক মাপের, শরীরের নিচে কয়েক মিনিটেই গরম হয়ে যায় আর প্রায়ই প্লাস্টিকের গন্ধ থাকে। মিহি শীতলপাটিতে বেতি সরু আর ঘন করে বোনা, সাধারণ ব্যবহারের পাটিতে বেতি চওড়া। দুটোই খাঁটি, মিহিটার দাম শুধু বেশি।
কেনার পরামর্শ
দাম নির্ভর করে মাপ, বেতি কতটা সরু, বুনন কতটা ঘন আর কতটা নকশার কাজ আছে তার ওপর। বিক্রেতার কাছে সঠিক মাপ, পাটির গা আর কিনারার বাঁধাইয়ের কাছ থেকে তোলা ছবি, আর কোথায় বোনা হয়েছে তা জেনে নিন। বিজ্ঞাপনে জিআই লেখা থাকলেই তা প্রমাণ নয়, তাই কোন গ্রামে বোনা জিজ্ঞেস করুন। উপহার বা বিশেষ কিছুর জন্য নকশা করা নকশিপাটি বাড়তি দামের যোগ্য।
মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি চার্জ ঠিক করে, তাই আলাদা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনা পাটি আলাদা পার্সেলে আসে, চার্জও আলাদা। মিডমার্ট কখনো টাকা নেয় না বা ডেলিভারির ব্যবস্থা করে না; বিক্রেতা আপনার সঙ্গে সরাসরি দুটোই ঠিক করেন। পাটি কীভাবে প্যাক করা হবে জিজ্ঞেস করুন। পাঠানোর সময় পাটি ভাঁজ নয়, গুটিয়ে আর শুকনো অবস্থায় রাখা উচিত।
কীভাবে রাখবেন
শীতলপাটি আলগা করে গুটিয়ে শুকনো, বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখুন। এর প্রধান শত্রু স্যাঁতসেঁতে ভাব: বর্ষায় গুটানো পাটি ভেজা বাতাসে পড়ে থাকলে ছত্রাক ধরতে পারে, তাই মাঝে মাঝে খুলে ছায়ায় বাতাস খাওয়ান। ধোয়ার বদলে নরম, সামান্য ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিন, আর গুটানোর আগে পুরোপুরি শুকিয়ে নিন। কড়া রোদে বেশিক্ষণ ফেলে রাখবেন না বা ওপরে ভারী আসবাব রাখবেন না, এতে বেতি ফেটে যেতে পারে।
মিডমার্টে শীতলপাটি খুঁজুন
যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান
ঝালকাঠি, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, সিলেট থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।
মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।
ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুনশীতলপাটি নিয়ে প্রশ্ন
আরও বিখ্যাত পণ্য
তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা
- UNESCO: Traditional art of Shital Pati weaving of Sylhet (decision 12.COM 11.B.4)
- New Age: BSCIC gets GI certificate of Shital pati
- Wikipedia: Shital Pati
- The Daily Star: Cultural Heritage: Shital Pati on Unesco list
- সুনামগঞ্জ এলাকায় তৈরি নকশা করা শীতলপাটি — ছবি: Faizul Latif Chowdhury · CC BY-SA 4.0 (উৎস, CC BY-SA 4.0)
English
বাংলা