বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

চট্টগ্রাম বিভাগ · বাংলাদেশ

বান্দরবান

মেঘে ঢাকা পাহাড়, সাঙ্গু নদী আর দেশের সবচেয়ে উঁচু চূড়াগুলোর জেলা

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার মধ্যে বান্দরবান সবচেয়ে দুর্গম ও পাহাড়ি। বনঘেরা পর্বতশ্রেণি, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী, বগা লেক, কেওক্রাডং আর নিজস্ব ভাষা-উৎসব-বাজার নিয়ে বহু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসতি এই জেলায়।

আয়তন
৪,৪৭৯ বর্গকিমি
জনসংখ্যা (২০২২)
৪৮১,১০৬
উপজেলা
৭
ইউনিয়ন
৩০
জেলা গঠন
১৯৮১
সাক্ষরতা
৬৩.৭%
নীলগিরি থেকে দেখা বান্দরবানের বনঘেরা পাহাড়সারি
নীলগিরি, বান্দরবান ছবি: Tanvir Rahat · CC BY-SA 4.0

বান্দরবান সম্পর্কে

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে বান্দরবান পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে দক্ষিণের জেলা। উত্তরে রাঙ্গামাটি, পশ্চিমে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার, আর দক্ষিণ ও পূর্ব দিক ঘিরে মিয়ানমার। আয়তন প্রায় ৪,৪৭৯ বর্গকিলোমিটার, দেশের বড় জেলাগুলোর একটি; অথচ ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা মাত্র প্রায় ৪ লাখ ৮১ হাজার, ফলে এটি সবচেয়ে কম ঘনবসতির জেলাগুলোরও একটি। জেলায় ৭টি উপজেলা: বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি।

বেশির ভাগ পর্যটক আসেন এখানকার প্রকৃতির টানে। উত্তর-দক্ষিণে টানা খাড়া পাহাড়ের সারি, তার ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী। দেশের সর্বোচ্চ চূড়ার দাবিদার কেওক্রাডং ও থানচি অঞ্চলের পাহাড়গুলো বান্দরবানেই। শীতের ভোরে উপত্যকা মেঘে ভরে যায়, আর জেলা শহর থেকে থানচির রাস্তা পাহাড়ের শিরদাঁড়া ধরে এমনভাবে উঠে যায় যে মনে হয় সমতল বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে চলে এসেছেন।

সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যেও বান্দরবান দেশের শীর্ষে। জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের কিছু কম বাঙালি; বাকিরা মারমা, ম্রো, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, চাকমা, খুমি, চাক ও খিয়াংসহ বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষ। প্রত্যেকের আলাদা ভাষা, পোশাক ও উৎসব রয়েছে, আর ভেতরের দিকের বেশির ভাগ গ্রাম কোনো একটি জনগোষ্ঠীর। বৌদ্ধ কেয়াং, গির্জা আর মসজিদ প্রায়ই কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকে।

ইতিহাস

নামের পেছনে একটি প্রচলিত লোককাহিনি আছে: একদল বানর নাকি একে অপরকে ধরে শিকলের মতো হয়ে বর্তমান শহরের কাছের একটি ছড়া পার হতো, যেন বানরের তৈরি বাঁধ, আর সেখান থেকেই বান্দরবান নাম। ঐতিহাসিকভাবে এলাকাটি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি ঐতিহ্যবাহী সার্কেলের একটি, বোমাং সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত। মারমা জনগোষ্ঠীর বোমাং রাজার আসন আজও বান্দরবান শহরে। প্রতি বছরের রাজপুণ্যাহ উৎসবে হেডম্যান ও কারবারিরা রাজাকে খাজনা দেন, আর তা দেখতে পাহাড়ের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ আসে।

ব্রিটিশরা ১৮৬০ সালে চট্টগ্রাম থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা করে সীমান্ত জেলা হিসেবে পরিচালনা শুরু করে। বিশ শতকের মাঝামাঝি বান্দরবান মহকুমা হয় এবং ১৯৮১ সালের ১ অক্টোবর পূর্ণাঙ্গ জেলার মর্যাদা পায়। পরবর্তী কয়েক দশকের সংঘাতের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তিতে; এর মাধ্যমে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হয়, যারা আজও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ভাগ করে নেয়।

বান্দরবানে সবুজ পাহাড়ের নিচে সাঙ্গু নদীর পাড়ে কাঠের নৌকা
সাঙ্গু নদী, বান্দরবান ছবি: Ferdous · CC BY-SA 3.0

অর্থনীতি ও জীবিকা

কৃষিই প্রধান জীবিকা। অনেক আদিবাসী পরিবার জুম চাষ করেন: একই পাহাড়ি ঢালে ধান, ভুট্টা, তিল, মরিচ, আদা, হলুদ, মিষ্টিকুমড়া ও তুলা একসঙ্গে ফলে। উপত্যকা ও নিচু পাহাড়ে এখন কলা, আনারস, পেঁপে, আম ও লেবুজাতীয় ফলের বড় বড় বাগান; হাটের দিনে জেলা শহর থেকে ট্রাকভর্তি কলা চট্টগ্রামে যায়। লামা ও আলীকদমে কাঠ, বাঁশ ও তামাক আয়ের বড় উৎস। পর্যটনও এখন সদর, রুমা ও থানচির গাড়িচালক, গাইড, কটেজ মালিক আর খাবারের দোকানের জন্য বাস্তব আয়ের পথ।

খাবার, সংস্কৃতি ও উৎসব

এখানে উৎসব চলে একাধিক পঞ্জিকা ধরে। এপ্রিলের মাঝামাঝি মারমারা পানি খেলার মধ্য দিয়ে সাংগ্রাই উদযাপন করেন, ত্রিপুরাদের বৈসু এবং অন্যান্য জনগোষ্ঠীর নববর্ষের আচারও হয় একই সময়ে, আর বাঙালির পহেলা বৈশাখও সেই সপ্তাহেই। শরতে বৌদ্ধদের প্রবারণা পূর্ণিমায় শহরের আকাশ ভরে যায় ফানুসে, আর বম গ্রামগুলোতে বড়দিন পালিত হয় পাহাড়ি আবহে। বাংলাপিডিয়া মারমাদের থালা নৃত্য ও বাঁশ নৃত্যের কথাও উল্লেখ করেছে।

খাবারেও সমতলের সঙ্গে বড় পার্থক্য। বাঁশ কোড়ল, শামুক, শুঁটকির নাপ্পি আর বুনো শাক এখানকার রোজকার উপকরণ; অনেক পদ কাঁচা বাঁশের চোঙার ভেতরে আগুনে রান্না হয়। তাঁত বোনা নারীদের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প: মারমা, বম ও ত্রিপুরা তাঁতিরা কোমর তাঁতে থামি, চাদর ও ব্যাগ বোনেন, প্রতিটি জনগোষ্ঠীর রং ও নকশা আলাদা।

বান্দরবান-এর দর্শনীয় স্থান

  1. বুদ্ধ ধাতু জাদি (স্বর্ণমন্দির)

    জেলা শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে বালাঘাটার পাহাড়চূড়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত থেরবাদী বৌদ্ধ মন্দির, যেখানে রয়েছে বড় একটি সোনালি বুদ্ধমূর্তি। এটি সক্রিয় উপাসনালয়, তাই শালীন পোশাক পরুন এবং নির্দেশিত জায়গায় জুতা খুলুন।

  2. নীলগিরি ও চিম্বুক

    বান্দরবান শহর থেকে থানচির পথে দুটি বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান। নীলগিরি উঁচু পাহাড়ের চূড়ায়, সকালে নিচের উপত্যকা মেঘে ভরে যাওয়ার দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত; শহরের কাছের চিম্বুক থেকে দেখা যায় বম ও ম্রো জনপদ।

  3. বগা লেক

    রুমার কাছে পাহাড়চূড়ায় গভীর প্রাকৃতিক হ্রদ, চারপাশে বম গ্রাম; কেওক্রাডং অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে অনেকে এখানে থাকেন। যাওয়া নির্ভর করে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর, পথে নিবন্ধন করতে হয়।

  4. নাফাখুম

    থানচি পেরিয়ে রেমাক্রি খালের চওড়া জলপ্রপাত; সাঙ্গু নদীতে নৌকায়, তারপর হেঁটে যেতে হয়। বর্ষার ঠিক পরে, মোটামুটি সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরে পানির প্রবাহ সবচেয়ে বেশি থাকে।

  5. নীলাচল ও মেঘলা

    জেলা শহরের কাছেই সহজে ঘোরার জায়গা। নীলাচল পাহাড়চূড়া থেকে শহর ও সাঙ্গু উপত্যকা দেখা যায়, আর মেঘলা ঝুলন্ত সেতুর জন্য পরিচিত হ্রদের পাড়ের পার্ক।

বান্দরবান যে জন্য বিখ্যাত

বান্দরবান কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে বান্দরবান শহরে সরাসরি বাস চলে, বেশির ভাগই রাতের; ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজটভেদে সময় লাগে মোটামুটি আট থেকে নয় ঘণ্টা। চট্টগ্রাম শহরের বহদ্দারহাট টার্মিনাল থেকে বাসে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা, কক্সবাজার থেকেও প্রায় একই সময়। জেলায় বিমানবন্দর বা রেলপথ নেই; কাছের বিমানবন্দর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে। জেলার ভেতরে নীলগিরি, রুমা ও থানচি যেতে সাধারণত চাঁদের গাড়ি নামে পরিচিত জিপ ভাড়া করতে হয়। রুমা, থানচিসহ দুর্গম এলাকায় যেতে নিবন্ধিত স্থানীয় গাইড নেওয়া এবং পুলিশ বা সেনা চেকপোস্টে নিজেদের তথ্য লিপিবদ্ধ করার নিয়ম চালু রয়েছে, আর বিদেশি নাগরিকদের জেলা প্রশাসনের অনুমতি লাগে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ম বদলায়, তাই যাওয়ার আগে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে হালনাগাদ তথ্য জেনে নিন।

হাট ও বাজার

মারমা বাজার, বান্দরবান শহর
জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী বাজার, যেখানে বিক্রেতাদের বেশির ভাগ মারমা নারী। পাহাড় থেকে সরাসরি আনা কলা, পেঁপে, বাঁশ কোড়ল, মরিচ, আদা, শামুক ও বুনো শাক মেলে; এখান থেকেই কলার ছড়া ট্রাকে করে চট্টগ্রামে যায়।
থানচি ও রুমা বাজার
দুর্গম অঞ্চলে ঢোকার আগের শেষ বড় বাজার। হাটের দিনে আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ নৌকায় বা পায়ে হেঁটে এসে জুমের ধান, সবজি, মসলা আর হাতে বোনা কাপড় কেনাবেচা করেন।
লামা বাজার
মাতামুহুরী নদীর তীরে পশ্চিমের উপজেলাগুলোর বাণিজ্যকেন্দ্র; আশপাশের পাহাড়ের ফল, তামাক, কাঠ ও বাঁশ এখান থেকে বাইরে যায়।

এক নজরে বান্দরবান

এক নজরে বান্দরবান

মিডমার্টে বান্দরবান-এর দোকান

বান্দরবান থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে বিক্রি করছে না।

বান্দরবান-এর দোকান থেকে কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

বান্দরবান নিয়ে প্রশ্ন

নীলগিরি, বগা লেক, কেওক্রাডং, নাফাখুম ও সাঙ্গু নদীর মতো পাহাড়-নদীর সৌন্দর্য এবং মারমা, ম্রো, বম, ত্রিপুরাসহ নানা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসভূমি হিসেবে। শহরের কাছের বুদ্ধ ধাতু জাদি স্বর্ণমন্দিরও বিখ্যাত।

বান্দরবান-এ কিছু বানান বা ফলান?

বিনামূল্যে দোকান খুলুন আর সারা বাংলাদেশের ক্রেতার কাছে বিক্রি করুন। কোনো কমিশন বা লিস্টিং ফি নেই — ক্রেতা সরাসরি আপনাকে টাকা দেন, কুরিয়ার বেছে নেন আপনি।

বান্দরবান থেকে অনলাইনে বিক্রি করুন

চট্টগ্রাম বিভাগের আরও জেলা

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা

সংখ্যাগুলো নিচের তথ্যসূত্র থেকে নেওয়া। আলাদা করে বলা না থাকলে জনসংখ্যার তথ্য ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা থেকে।