বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

চট্টগ্রাম বিভাগ · বাংলাদেশ

চাঁদপুর

পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়ার মিলনস্থলে ইলিশের বাড়ি

পদ্মা ও মেঘনার মিলনস্থলে, ডাকাতিয়ার মোহনায় চাঁদপুর, যার পরিচয় "ইলিশের বাড়ি"। মাছঘাট, লঞ্চঘাট আর নদীতীরের মোলহেড মিলিয়ে ইলিশের ব্যবসা কাছ থেকে দেখার সেরা জায়গা এটি।

আয়তন
১,৭০৪ বর্গকিমি
জনসংখ্যা (২০২২)
২,৬৩৫,৭৪৮
উপজেলা
৮
ইউনিয়ন
৮৭
জেলা গঠন
১৯৮৪
সাক্ষরতা
৭৮.২%
চাঁদপুরের নদীতীরে স্তম্ভের ওপর রঙিন ইলিশ মাছের ভাস্কর্য
ইলিশ চত্বর, চাঁদপুর ছবি: TahidGP · CC BY-SA 4.0

চাঁদপুর সম্পর্কে

চাঁদপুর মেঘনার পূর্ব তীরে, পদ্মা যেখানে মেঘনায় এসে মিশেছে তার একটু ভাটিতে; জেলা শহর গড়ে উঠেছে ছোট নদী ডাকাতিয়ার মুখে। উত্তরে মুন্সিগঞ্জ ও কুমিল্লা, পূর্বে কুমিল্লা, দক্ষিণে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর, আর বিস্তীর্ণ জলরাশির ওপারে পশ্চিমে শরীয়তপুর ও বরিশাল। জেলায় ৮টি উপজেলা: চাঁদপুর সদর, ফরিদগঞ্জ, হাইমচর, হাজীগঞ্জ, কচুয়া, মতলব দক্ষিণ, মতলব উত্তর ও শাহরাস্তি। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা প্রায় ২৬ লাখ।

মেঘনার পলিতে গড়া নিচু, সমতল ব-দ্বীপ, খালে খালে ভরা; বেশির ভাগ জমিতে ধান, পাট আর সবজি। পশ্চিম দিকের জীবন নদীনির্ভর: শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভাঙনে গ্রাম আর পুরোনো শহরের জায়গা তলিয়ে গেছে, এখন বড় বাঁধ প্রকল্প শহরকে রক্ষা করছে। তবে চাঁদপুরের আসল পরিচয় ইলিশ। জেলার ব্র্যান্ড "ইলিশের বাড়ি", আর নদীর পাড়ের মোলহেডে, যেখানে তিন নদী ঘোলা পানির ঘূর্ণিতে মিশেছে, দাঁড়িয়ে আছে ইলিশের ভাস্কর্য।

ইতিহাস

নামের উৎস নিয়ে দুটি মত আছে। একটি মতে বারো ভূঁইয়াদের আমলের বিক্রমপুরের জমিদার চাঁদ রায়ের নামে; অন্য মতে শহরের পুরিন্দপুর এলাকার সাধক চাঁদ ফকিরের নামে। ১৭৭৯ সালে জেমস রেনেলের জরিপ মানচিত্রেই চাঁদপুর নামে ছোট একটি জায়গা দেখা যায়, তখন প্রধান আদালত ছিল নরসিংহপুরে, যা পরে মেঘনায় বিলীন হয়েছে। ব্রিটিশরা ১৮৭৮ সালে ত্রিপুরা জেলার অধীনে চাঁদপুর মহকুমা গঠন করে, ১৮৯৬ সালে শহরটি পৌরসভা হয়, আর ১৯৮৪ সালে চাঁদপুর পূর্ণাঙ্গ জেলা হয়।

নদী ও রেলবন্দর হিসেবেই চাঁদপুরের বিকাশ: স্টিমার একে নারায়ণগঞ্জ, গোয়ালন্দ ও বরিশালের সঙ্গে যুক্ত করত, আর শাখা রেলপথ যুক্ত করত লাকসাম ও চট্টগ্রামের সঙ্গে; ফলে পুরান বাজার হয়ে ওঠে পাট ব্যবসার জমজমাট কেন্দ্র। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের সময় শাহরাস্তি থেকে ফরিদগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চল ১৯৭১ সালের বেশির ভাগ সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। শহরের "অঙ্গীকার" ভাস্কর্য শহীদদের স্মরণ করে। জেলার উত্তরের মতলব ষাটের দশকের পর আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হয়, কারণ এখানে আইসিডিডিআর,বি কয়েক দশক ধরে হাজার হাজার পরিবারের জন্ম, মৃত্যু ও স্বাস্থ্যের তথ্য সংগ্রহ করছে।

চাঁদপুরের মোলহেড থেকে দেখা বিস্তীর্ণ মেঘনা নদী ও দূরে একটি লঞ্চ
মোলহেডে মেঘনা, চাঁদপুর ছবি: Radman Siddiki · CC BY 4.0

অর্থনীতি ও জীবিকা

মাছ ধরা ও মাছের ব্যবসা অর্থনীতির সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো অংশ। মেঘনা থেকে নৌকা ইলিশ এনে নামায় চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন এলাকায়, যেখানে পাইকাররা বরফ দিয়ে প্যাক করে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে পাঠান; বসন্তে জাটকা আর অক্টোবরে ডিমওয়ালা ইলিশ রক্ষায় মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা থাকে। ভেতরের দিকে প্রধান ফসল ধান, সঙ্গে আলু, সবজি ও পাট; হাজীগঞ্জ ও কচুয়া ব্যস্ত বাণিজ্যকেন্দ্র। বিদেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরতদের পাঠানো রেমিট্যান্স বহু পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

খাবার, সংস্কৃতি ও উৎসব

এখানকার খাবারের কেন্দ্রে ইলিশ: ভাজা ইলিশ আর তার তেল দিয়ে গরম ভাত, সর্ষে ইলিশ, কলাপাতায় মোড়া পাতুরি, কিংবা মৌসুমের প্রথম কাঁচা কাঁঠাল দিয়ে ইলিশের তরকারি। ঘাটের কাছের ছোট হোটেলে তাজা ভাজা ইলিশ খাওয়া পর্যটকদের প্রিয় অভিজ্ঞতা। লোকসংস্কৃতি বৃহত্তর কুমিল্লার অংশ: কবিগান, যাত্রা, পালাগান; একসময় হা-ডু-ডুর মতো গ্রামীণ খেলাও খুব প্রচলিত ছিল।

আহমদ আলী পাটওয়ারীর প্রতিষ্ঠিত হাজীগঞ্জ বড় মসজিদ অঞ্চলের সবচেয়ে পরিচিত মসজিদগুলোর একটি; শুক্রবার ও রমজানে এখানে বিপুল মানুষের সমাগম হয়। শহরের পুরোনো মন্দিরগুলোতে হিন্দু উৎসব পালিত হয়, বাংলাপিডিয়া যার মধ্যে শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের উল্লেখ করেছে।

চাঁদপুর-এর দর্শনীয় স্থান

  1. মোলহেড (বড় স্টেশন)

    চাঁদপুর শহরের নদীতীরের সেই জায়গা যেখানে পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া মিলেছে। সূর্যাস্তে হাঁটা, লঞ্চ ও মাছধরা নৌকা দেখা আর ইলিশ ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়ানোর জন্য শহরের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা।

  2. হাজীগঞ্জ বড় মসজিদ

    আহমদ আলী পাটওয়ারীর প্রতিষ্ঠিত হাজীগঞ্জের ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্স, উঁচু মিনার ও কারুকাজ করা তোরণের জন্য পরিচিত। নামাজের সময়ের বাইরে দর্শনার্থীরা যেতে পারেন।

  3. অঙ্গীকার ভাস্কর্য

    চাঁদপুর শহরের মুক্তিযুদ্ধ স্মারক ভাস্কর্য, জাতীয় দিবসগুলোতে মানুষের সমাবেশস্থল।

  4. রূপসা জমিদার বাড়ি

    ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসায় পুরোনো জমিদারবাড়ি, বাংলাপিডিয়া যাকে জেলার দর্শনীয় স্থানের তালিকায় রেখেছে।

  5. মতলব

    নদীঘেরা উপজেলা, আইসিডিডিআর,বির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা গবেষণা কেন্দ্রের জন্য পরিচিত; মেঘনার কাছে শান্ত খাল আর ধানখেতও এর আকর্ষণ।

চাঁদপুর যে জন্য বিখ্যাত

চাঁদপুর কীভাবে যাবেন

চাঁদপুর যাওয়ার চিরাচরিত পথ ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চ: বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী ও মেঘনা হয়ে মোটামুটি সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টায় শহরের কাছের চাঁদপুর লঞ্চঘাটে পৌঁছানো যায়। সায়েদাবাদ থেকে মেঘনা ও গোমতী সেতু হয়ে বাসে লাগে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা। লাকসাম থেকে আসা শাখা রেলপথের শেষ স্টেশন চাঁদপুর, এখান থেকে কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের দিকে ট্রেন চলে।

হাট ও বাজার

বড় স্টেশন মাছঘাট
চাঁদপুর শহরে মেঘনার পাড়ে ইলিশ নামানো ও পাইকারি বেচাকেনার প্রধান জায়গা। ইলিশ মৌসুমের সকালগুলো সবচেয়ে ব্যস্ত: নৌকা থেকে মাছ নামে, নিলাম হয়, বরফ দিয়ে অন্য শহরে পাঠানো হয়।
পুরান বাজার, চাঁদপুর
ডাকাতিয়ার পাড়ের পুরোনো বাণিজ্যপাড়া, একসময় পাট ও শস্য ব্যবসার কেন্দ্র; এখনো চাল, মসলা ও গৃহস্থালি পণ্যের পাইকারি দোকানে ভরা।
হাজীগঞ্জ বাজার
জেলার ব্যস্ততম বাজারগুলোর একটি, ভেতরের উপজেলাগুলোর মানুষের শাকসবজি, মাছ ও কাপড়ের চাহিদা মেটায়।

এক নজরে চাঁদপুর

এক নজরে চাঁদপুর

মিডমার্টে চাঁদপুর-এর দোকান

Gadget360 ভেরিফায়েড বিক্রেতা চাঁদপুর
এখনো কোনো রিভিউ নেই কোনো পণ্য নেই

চাঁদপুর-এর সব দোকান দেখুন

চাঁদপুর-এর দোকান থেকে কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

চাঁদপুর নিয়ে প্রশ্ন

কারণ চাঁদপুরের মেঘনা দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ ইলিশক্ষেত্র, আর শহরটি ইলিশ নামানো ও বেচাকেনার বড় কেন্দ্র। জেলা প্রশাসন "ইলিশের বাড়ি" নামটিকেই জেলার ব্র্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করে।

চাঁদপুর-এ কিছু বানান বা ফলান?

বিনামূল্যে দোকান খুলুন আর সারা বাংলাদেশের ক্রেতার কাছে বিক্রি করুন। কোনো কমিশন বা লিস্টিং ফি নেই — ক্রেতা সরাসরি আপনাকে টাকা দেন, কুরিয়ার বেছে নেন আপনি।

চাঁদপুর থেকে অনলাইনে বিক্রি করুন

চট্টগ্রাম বিভাগের আরও জেলা

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা

সংখ্যাগুলো নিচের তথ্যসূত্র থেকে নেওয়া। আলাদা করে বলা না থাকলে জনসংখ্যার তথ্য ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা থেকে।