বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

খুলনা বিভাগ · বাংলাদেশ

মাগুরা

রাজা সীতারামের দেশ — পাটের খেত, পেড়া সন্দেশ আর খামারপাড়ার দই

নবগঙ্গা ও মধুমতীর তীরের ছোট কৃষিপ্রধান জেলা মাগুরা। মহম্মদপুরে রাজা সীতারাম রায়ের প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ, পাট, পেড়া সন্দেশ ও খামারপাড়ার দই এবং কবি ফররুখ আহমদ ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের জন্য জেলাটি পরিচিত।

আয়তন
১,০৩৯ বর্গকিমি
জনসংখ্যা (২০২২)
১,০৩৩,১১৫
উপজেলা
৪
ইউনিয়ন
৩৬
জেলা গঠন
১৯৮৪
সাক্ষরতা
৭২.২%
মহম্মদপুরে রাজা সীতারাম রায়ের প্রাসাদের সংস্কার করা লাল ইটের কাছারিবাড়ি, সামনে বাঁধানো পথ ও সবুজ চত্বর
রাজা সীতারাম রায়ের কাছারিবাড়ি, মহম্মদপুর ছবি: MD SADDAM AHMED · CC0

মাগুরা সম্পর্কে

দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের প্রায় মাঝখানে, ফরিদপুর ও ঝিনাইদহের মধ্যে ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের ওপর মাগুরা জেলা। উত্তরে রাজবাড়ী, পূর্বে মধুমতীর ওপারে ফরিদপুর, দক্ষিণে নড়াইল, দক্ষিণ-পশ্চিমে যশোর আর পশ্চিমে ঝিনাইদহ। নবগঙ্গা বয়ে গেছে মাগুরা শহরের মধ্য দিয়ে, গড়াই–মধুমতী জেলার পূর্ব সীমানা, আর মাঝের কৃষিজমিতে পানি জোগায় কুমার ও ফটকি নদী।

মাত্র চারটি উপজেলা — মাগুরা সদর, মহম্মদপুর, শালিখা ও শ্রীপুর — নিয়ে মাগুরা দেশের ছোট জেলাগুলোর একটি, প্রায় পুরোটাই গ্রামীণ। এর নিচু জমি দক্ষিণ-পশ্চিমের সেরা পাটের জমিগুলোর মধ্যে পড়ে; গ্রীষ্মের শেষে গ্রামের রাস্তার দুই পাশে পাট পচানোর ডোবা আর সোনালি আঁশ শুকানোর বাঁশের মাচা চোখে পড়ে।

দুধের মিষ্টি, নদীর উৎসব আর মানুষের জন্যও মাগুরা পরিচিত: কবি ফররুখ আহমদ শ্রীপুরের মাঝাইলে জন্মগ্রহণ করেন, আর ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান বেড়ে উঠেছেন মাগুরা শহরে।

ইতিহাস

মাগুরার অতীতের সবচেয়ে পরিচিত অধ্যায় রাজা সীতারাম রায়ের। সতেরো শতকের শেষে বাংলার মোগল শাসকদের অধীনে এই ভূস্বামী ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন। মহম্মদপুরকে রাজধানী করে তিনি দুর্গ, প্রাসাদ ও মন্দির নির্মাণ করেন, বড় বড় দিঘি খনন করান; পরে মুর্শিদাবাদের নবাবের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং আঠারো শতকের গোড়ায় বন্দী হয়ে প্রাণদণ্ড পান। মধুমতীর পাশে তাঁর রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ আজও দাঁড়িয়ে আছে।

ব্রিটিশ আমলে মাগুরা যশোরের একটি মহকুমা হয়; শহরের উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫৪ সালে। ১৯৭১ সালে এলাকাটি মুক্তিযুদ্ধের ৮ নম্বর সেক্টরে ছিল, মুক্তিযোদ্ধা ও পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে প্রায় ১৬টি সংঘর্ষের কথা নথিভুক্ত আছে। ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ মাগুরা জেলায় উন্নীত হয়।

অর্থনীতি ও জীবিকা

প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পরিবারের জীবিকা কৃষি। পাট এখানকার প্রধান অর্থকরী ফসল, সঙ্গে ধান, গম, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুন, ডাল, আখ ও সবজি। পাটের আঁশ ও পাটকাঠির বড় ব্যবসা হয়; মধুমতীর এলাংখালী ঘাট থেকে পাটকাঠি কার্গো নৌকায় বোঝাই করে পাঠানো হয়। দুগ্ধ খামারও গুরুত্বপূর্ণ, যা মাগুরা শহর ও খামারপাড়ার মিষ্টি কারিগরদের দুধ জোগায়। ছোট চালকল, ইটভাটা, মহাসড়কের পরিবহন আর প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো টাকাই স্থানীয় অর্থনীতির বাকি অংশ।

খাবার, সংস্কৃতি ও উৎসব

মিষ্টি মাগুরার গর্ব: পেড়া সন্দেশ — নরম, হালকা শুকনো দুধের মিষ্টি, যা গত শতকের মাঝামাঝি শহরে চালু হয়; আর খামারপাড়ার দই — শ্রীপুরের খামারপাড়ার এক ঘোষ পরিবারের হাতে প্রথম তৈরি মিষ্টি দই। দুটিই অঞ্চলজুড়ে বিয়ে ও উৎসবে অর্ডার দিয়ে আনা হয়।

বর্ষায় নদীতে নৌকাবাইচ, কিছু গ্রামে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড়, আর বাংলা বছরের শেষে চৈত্রসংক্রান্তির উৎসব — যখন হিন্দু সম্প্রদায় রঙিন চৈত্রপূজার শোভাযাত্রা বের করে — এসব গ্রামীণ মেলা মাগুরার সংস্কৃতির অংশ।

মাগুরা-এর দর্শনীয় স্থান

  1. রাজা সীতারাম রায়ের প্রাসাদ, মহম্মদপুর

    মাগুরা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মধুমতীর পাশে সীতারামের রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ; সংস্কার করা কাছারিবাড়ি, মন্দির, দোলমঞ্চ আর কয়েকটি বড় দিঘি রয়েছে।

  2. সিদ্ধেশ্বরী মঠ, আঠারোখাদা

    মাগুরা শহর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে নবগঙ্গার তীরে হিন্দু মন্দির কমপ্লেক্স; গুরুত্বপূর্ণ উপাসনাস্থল এবং নদীর পাড়ে হাঁটার মনোরম জায়গা।

  3. মদনমোহন মন্দির, শত্রুজিৎপুর

    মাগুরা সদর উপজেলার শত্রুজিৎপুরের পুরোনো হিন্দু মন্দির, জেলার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর একটি; এখনো ভক্তরা এখানে আসেন।

  4. ফররুখ আহমদের জন্মস্থান, মাঝাইল

    শ্রীপুর উপজেলার যে গ্রামে ‘সাত সাগরের মাঝি’র কবি ১৯১৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন; সেখানে তাঁর স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে।

মাগুরা যে জন্য বিখ্যাত

মাগুরা কীভাবে যাবেন

মাগুরা ঢাকা–খুলনা প্রধান সড়কের ওপরেই। গাবতলী ও সায়েদাবাদ থেকে বাস পদ্মা সেতু পার হয়ে মোটামুটি সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টায় মাগুরা পৌঁছায়। জেলায় কোনো রেলস্টেশন নেই; নিকটতম বিমানবন্দর যশোর, সড়কপথে প্রায় দেড় ঘণ্টা।

হাট ও বাজার

এলাংখালী ঘাট, মহম্মদপুর
মধুমতীর তীরের নদীঘাট, যেখানে ব্যবসায়ীরা মাগুরা ও আশপাশের জেলার কৃষকদের কাছ থেকে পাট ও পাটকাঠি কিনে কার্গো ট্রলারে বোঝাই করেন।
আড়পাড়া বাজার, শালিখা
শালিখা উপজেলার ব্যস্ত ইউনিয়ন বাজার; চাল, সবজি, মাছ ও কৃষি উপকরণের কেনাবেচা হয়।
মাগুরা শহরের মিষ্টির দোকান
জেলা শহরের পুরোনো মিষ্টির দোকানগুলোতেই স্থানীয় দুধে সেদিন তৈরি টাটকা পেড়া সন্দেশ ও দই পাওয়া যায়।

এক নজরে মাগুরা

এক নজরে মাগুরা

মিডমার্টে মাগুরা-এর দোকান

মাগুরা থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে বিক্রি করছে না।

মাগুরা-এর দোকান থেকে কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

মাগুরা নিয়ে প্রশ্ন

মহম্মদপুরে রাজা সীতারাম রায়ের প্রাসাদ, পাট, পেড়া সন্দেশ ও খামারপাড়ার দই, এবং ফররুখ আহমদ ও সাকিব আল হাসানের জন্য।

মাগুরা-এ কিছু বানান বা ফলান?

বিনামূল্যে দোকান খুলুন আর সারা বাংলাদেশের ক্রেতার কাছে বিক্রি করুন। কোনো কমিশন বা লিস্টিং ফি নেই — ক্রেতা সরাসরি আপনাকে টাকা দেন, কুরিয়ার বেছে নেন আপনি।

মাগুরা থেকে অনলাইনে বিক্রি করুন

খুলনা বিভাগের আরও জেলা

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা

সংখ্যাগুলো নিচের তথ্যসূত্র থেকে নেওয়া। আলাদা করে বলা না থাকলে জনসংখ্যার তথ্য ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা থেকে।