বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

খুলনা বিভাগ · বাংলাদেশ

সাতক্ষীরা

আগাম আম, সফট-শেল কাঁকড়া আর পশ্চিম সুন্দরবন

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের জেলা সাতক্ষীরার সীমানায় ভারত ও পশ্চিম সুন্দরবন। আগাম পাকা আম, চিংড়ি ও সফট-শেল কাঁকড়া চাষ, সাতক্ষীরার সন্দেশ এবং ঈশ্বরীপুরের প্রাচীন যশোরেশ্বরী মন্দিরের জন্য জেলাটি বিখ্যাত।

আয়তন
৩,৮১৭ বর্গকিমি
জনসংখ্যা (২০২২)
২,১৯৬,৫৮২
উপজেলা
৭
ইউনিয়ন
৭৮
জেলা গঠন
১৯৮৪
সাক্ষরতা
৭৫.৩%
ঈশ্বরীপুরে গম্বুজাকৃতির চূড়া ও ইটের স্তম্ভসহ বাঁধানো চত্বরে যশোরেশ্বরী কালী মন্দির
যশোরেশ্বরী কালী মন্দির, শ্যামনগর ছবি: নিওফাইট · CC BY-SA 4.0

সাতক্ষীরা সম্পর্কে

সাতক্ষীরা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ। ইছামতী, কালিন্দী ও রায়মঙ্গল নদী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে এর পশ্চিম সীমান্তের বড় অংশ তৈরি করেছে; উত্তরে যশোর, পূর্বে খুলনা, আর দক্ষিণে জেলাটি মিশেছে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে। বেতনা, কপোতাক্ষ, মরিচ্চাপ, খোলপেটুয়া ও আড়পাঙ্গাশিয়া নদী ভূমিকে বাঁধঘেরা মাঠের দ্বীপে ভাগ করেছে।

কলারোয়া ও সাতক্ষীরা শহরের আশপাশের উত্তরাঞ্চল উর্বর মিঠা পানির কৃষিজমি — আম, ধান ও সবজির জন্য পরিচিত। দক্ষিণের আশাশুনি ও শ্যামনগর লবণাক্ত; সেখানে ধানের জমির বড় অংশ এখন চিংড়ি ও কাঁকড়ার ঘের। শ্যামনগরে সুন্দরবনের বড় একটি অংশ, আর গাবুরার মতো দ্বীপ ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি।

সাতক্ষীরা একটি বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বারও। পশ্চিম সীমান্তের ভোমরা স্থলবন্দর ভারতের সঙ্গে পণ্য আনা-নেওয়ার ব্যস্ত পথগুলোর একটি, আর এখানকার বাজারগুলো ঢাকা ও বিদেশগামী মাছ, চিংড়ি ও আমে ভরা থাকে।

ইতিহাস

অঞ্চলটি ছিল ষোলো শতকের বারো ভূঁইয়া রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজ্যের অংশ, যাঁর রাজধানী ছিল আজকের শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুরের কাছে; সেখানকার যশোরেশ্বরী মন্দিরে আজও তীর্থযাত্রীরা আসেন। স্থানীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী সাতক্ষীরা নামের উৎস সাতঘরিয়া — আঠারো শতকে এক জমিদার পরিবার এই সম্পত্তি কেনেন এবং তাঁদের বসতি ঘিরেই শহর গড়ে ওঠে, যদিও বিবরণে ভিন্নতা আছে।

ব্রিটিশ আমলে ১৮৬১ সালে সাতক্ষীরা যশোরের মহকুমা হয় এবং ১৮৮২ সালে নতুন খুলনা জেলায় যুক্ত হয়। ১৯৭১ সালে এটি মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টরে ছিল; ভারতগামী শরণার্থীরা ঝাউডাঙ্গা ও শহরে হামলার শিকার হন। ১৯৮৪ সালে সাতক্ষীরা আলাদা জেলা হয়।

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে জোয়ার-ভাটার নদীর কাদামাটির পাড়ে ম্যানগ্রোভ গাছ ও গোলপাতা
সুন্দরবন, সাতক্ষীরা রেঞ্জ ছবি: A junaid alam khan · CC BY-SA 4.0

অর্থনীতি ও জীবিকা

সাতক্ষীরা দেশের শীর্ষ চিংড়ি উৎপাদনকারী জেলাগুলোর একটি: আশাশুনি, দেবহাটা, কালীগঞ্জ ও শ্যামনগরের লোনা পানির ঘেরের বাগদা যায় খুলনার প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানি কারখানায়। বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরার আশপাশে কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ ও সফট-শেল কাঁকড়া চাষ এখন উল্লেখযোগ্য রপ্তানি খাত। সাতক্ষীরার আম — হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্রপালি — দেশের বেশির ভাগ এলাকার আগে পাকে এবং ঢাকা ও বিদেশে যায়। উত্তরে ধান, পাট, সবজি ও খেজুর গুড় হয়; ভোমরা স্থলবন্দরকে ঘিরে ব্যবসা ও পরিবহন চলে; আর সুন্দরবন থেকে আসে মধু, মাছ ও গোলপাতা।

খাবার, সংস্কৃতি ও উৎসব

সাতক্ষীরা সন্দেশের জন্য বিখ্যাত — টাটকা ছানার নরম দুধের মিষ্টি, যা অতিথিরা বাক্সে ভরে বাড়ি নিয়ে যান। সঙ্গে চিংড়ি ও কাঁকড়ার পদ, আর গ্রীষ্মে আমের অফুরান জোগান। শীতে আসে খেজুর রস ও পিঠা।

উপকূলের বনজীবীরা সুন্দরবনে ঢোকার আগে বনবিবির পূজা দেন। শক্তিপীঠগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত যশোরেশ্বরী মন্দিরে কালীপূজায় বিপুল সমাগম হয়। লোকগান, যাত্রা ও কীর্তন এখনো গ্রামের মেলার অংশ।

সাতক্ষীরা-এর দর্শনীয় স্থান

  1. যশোরেশ্বরী কালী মন্দির, ঈশ্বরীপুর

    শ্যামনগর উপজেলার প্রাচীন হিন্দু মন্দির, ৫১ শক্তিপীঠের একটি হিসেবে বিবেচিত এবং রাজা প্রতাপাদিত্যের সঙ্গে সম্পর্কিত, যিনি এটি সংস্কার করেছিলেন বলে কথিত। বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশ থেকেই তীর্থযাত্রীরা আসেন।

  2. মুন্সীগঞ্জ ও বুড়িগোয়ালিনী হয়ে সুন্দরবন

    শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জ ও নীলডুমুর ঘাট থেকে নৌকায় পশ্চিম সুন্দরবনে যাওয়া যায় — ম্যানগ্রোভের খাল, পাখি, হরিণ আর কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র। দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য বন বিভাগের অনুমতি লাগে।

  3. মান্দারবাড়িয়া সমুদ্রসৈকত

    সুন্দরবনের প্রান্তে হাড়িয়াভাঙ্গা মোহনার মুখোমুখি নির্জন বালুকাবেলা; বুড়িগোয়ালিনী থেকে কয়েক ঘণ্টার নৌপথ। সাধারণত শীতে ট্যুর অপারেটরদের মাধ্যমে যাওয়া হয়।

  4. তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ, তালা

    উনিশ শতকে স্থানীয় এক জমিদার পরিবারের নির্মিত বহু গম্বুজবিশিষ্ট বড় মসজিদ, সে সময়ের স্থাপত্যের ভালোভাবে সংরক্ষিত নিদর্শন।

সাতক্ষীরা যে জন্য বিখ্যাত

সাতক্ষীরা কীভাবে যাবেন

ঢাকার গাবতলী ও সায়েদাবাদ থেকে বাস পদ্মা সেতু পার হয়ে যশোর বা খুলনা হয়ে মোটামুটি পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টায় সাতক্ষীরা শহরে পৌঁছায়। জেলায় কোনো রেলপথ নেই। ঢাকা থেকে প্রতিদিন ফ্লাইট আসা যশোর বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। সাতক্ষীরা শহর থেকে শ্যামনগর ও মুন্সীগঞ্জ আরও দুই থেকে তিন ঘণ্টা দক্ষিণে।

হাট ও বাজার

সুলতানপুর বাজার, সাতক্ষীরা শহর
জেলা শহরের প্রধান বাজার; ভোর থেকেই মাছ, চিংড়ি, সবজি আর মৌসুমে স্থানীয় আমের স্তূপে জমজমাট।
কোর্ট মার্কেট এলাকা
সাতক্ষীরা শহরের আদালতপাড়ার আশপাশের দোকানপাট; সাতক্ষীরার সন্দেশ বিক্রির পুরোনো মিষ্টির দোকান, পোশাক ও গৃহস্থালি পণ্যের জন্য পরিচিত।
বুড়িগোয়ালিনী ও মুন্সীগঞ্জের ঘাট
শ্যামনগরের নদীতীরের অবতরণস্থল, যেখানে সুন্দরবন থেকে কাঁকড়া, মাছ ও বনজ পণ্য আসে এবং ডিপো ব্যবসায়ীরা কিনে নেন।

এক নজরে সাতক্ষীরা

এক নজরে সাতক্ষীরা

মিডমার্টে সাতক্ষীরা-এর দোকান

সাতক্ষীরা থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে বিক্রি করছে না।

সাতক্ষীরা-এর দোকান থেকে কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

সাতক্ষীরা নিয়ে প্রশ্ন

আগাম মৌসুমের আম, বাগদা চিংড়ি ও সফট-শেল কাঁকড়া, সাতক্ষীরার সন্দেশ, পশ্চিম সুন্দরবন এবং যশোরেশ্বরী মন্দিরের জন্য।

সাতক্ষীরা-এ কিছু বানান বা ফলান?

বিনামূল্যে দোকান খুলুন আর সারা বাংলাদেশের ক্রেতার কাছে বিক্রি করুন। কোনো কমিশন বা লিস্টিং ফি নেই — ক্রেতা সরাসরি আপনাকে টাকা দেন, কুরিয়ার বেছে নেন আপনি।

সাতক্ষীরা থেকে অনলাইনে বিক্রি করুন

খুলনা বিভাগের আরও জেলা

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা

সংখ্যাগুলো নিচের তথ্যসূত্র থেকে নেওয়া। আলাদা করে বলা না থাকলে জনসংখ্যার তথ্য ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা থেকে।