গল্পটা
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে, সুন্দরবন আর ভারত সীমান্ত ঘেঁষা সাতক্ষীরা দুধ উৎপাদনে দেশের অন্যতম প্রধান জেলা। স্থানীয় মিষ্টির কারিগরেরা বলেন, সস্তা আর প্রচুর দুধই শহরটিকে মিষ্টির জন্য পরিচিত করেছে। তার মধ্যে সন্দেশই এমন মিষ্টি, যা মানুষ নাম ধরে চায়। সাতক্ষীরার গর্বের তালিকায় এর জায়গা আছে; পরিবারগুলো ঢাকা আর বিদেশে আত্মীয়দের কাছে পাঠায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রবাসীদের মধ্যেও ক্রেতা মিলেছে।
সাতক্ষীরা শহরের বেশ কয়েকটি দোকান সন্দেশ দিয়েই নাম কামিয়েছে। সবচেয়ে পুরোনো হিসেবে সাধারণত বলা হয় ফকির মিষ্টান্ন ভান্ডারের কথা; কথিত আছে, ১৯৪৭ সালে নাজমুল সরণিতে গোলাম মোহাম্মদ ফকির আহমেদ এটি চালু করেন, এখন তাঁর উত্তরসূরিরা দুটি আলাদা দোকান চালান। সাগর সুইটস, ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভান্ডার আর কেষ্ট ময়রার নামও স্থানীয়রা বলেন। সাদা ও ক্ষীরের সন্দেশের পাশাপাশি এসব দোকানে প্যারা সন্দেশ, সরপুরিয়া, রসমালাইসহ নানা দুধের মিষ্টি তৈরি হয়।
পদ্ধতি সহজ, কিন্তু পুরোটাই টাটকা দুধের ওপর নির্ভর। ভোরে কারিগরেরা গরুর দুধ সংগ্রহ করেন, জ্বাল দিয়ে ছানা কাটান, তারপর কাপড়ে বেঁধে ঝুলিয়ে পানি ঝরান। সংবাদমাধ্যমে কারিগরদের হিসাব, প্রায় বিশ কেজি দুধে সাত কেজি ছানা হয়; সেই ছানা লোহার কড়াইয়ে চিনি, অথবা নলেন গুড় ও চিনি দিয়ে আধা ঘণ্টার মতো পাক দিয়ে ঠান্ডা করে আকার দেওয়া হয়। নলেন গুড়ের সন্দেশ হয় শীতে, যখন অঞ্চলজুড়ে খেজুরগাছ কাটা হয়; দোকানিরা বলেন, মৌসুমে এটি চিনির সন্দেশের প্রায় দ্বিগুণ বিক্রি হয়।
আসল সাতক্ষীরার সন্দেশ চিনবেন কীভাবে
ভালো সাতক্ষীরার সন্দেশ নরম আর ভেজা ভেজা, তবে আকার ধরে রাখে; গড়ন মিহি, সামান্য দানাদার, মুখে দিলেই গলে যায়, আর স্বাদে টাটকা দুধ স্পষ্ট। নলেন গুড়ের সন্দেশের রং হালকা লালচে বাদামি, নতুন গুড়ের ধোঁয়াটে, সুগন্ধি ঘ্রাণ; পোড়া বা তেতো লাগবে না, রং হবে সমান, চকচকে বা ছোপ ছোপ নয়। কড়া সুগন্ধ, ঝাঁঝালো কৃত্রিম গুড়ের স্বাদ কিংবা অস্বাভাবিক গাঢ় বাদামি রং হলে আসল গুড়ের বদলে এসেন্স বা রং ব্যবহারের সন্দেহ জাগে। শুকনো, রাবারের মতো বা চকের মতো সন্দেশ সাধারণত বাসি, নয়তো গুঁড়া দুধে তৈরি। অন্য জায়গাতেও অনেকে "সাতক্ষীরার সন্দেশ" বিক্রি করেন, তাই কোন দোকানের, কোন দিনের তৈরি, জিজ্ঞেস করুন।
কেনার পরামর্শ
ছানার সন্দেশ টাটকা খাবার, কোনো সংরক্ষণকারী থাকে না, তাই তৈরির এক-দুই দিনের মধ্যেই সেরা। অর্ডারের আগে বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করুন সন্দেশ সাতক্ষীরায় তৈরি কি না, কবে বানানো, চিনির না নলেন গুড়ের, আর কীভাবে প্যাক হবে; কার্টনের ভেতরে মুখবন্ধ প্লাস্টিক বা ফয়েলের বাক্সে দিলে সন্দেশ চ্যাপ্টা হয় না। কোন কুরিয়ারে পাঠাবেন, আপনার কাছে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে, তাও জেনে নিন। গুড়ের সন্দেশ চাইলে শীতে অর্ডার দিন; মৌসুমের বাইরে হলে জিজ্ঞেস করুন কোন গুড় দেওয়া হয়েছে। ধরনভেদে দাম আলাদা, সাধারণত সাদা সন্দেশের চেয়ে গুড় আর ক্ষীরের সন্দেশের দাম বেশি।
মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি চার্জ নেয়, তাই সাতক্ষীরার সন্দেশ আর অন্য জেলার দই নিলে ডেলিভারিও দুটি, চার্জও দুটি। মিডমার্ট নিজে টাকা নেয় না, কিছু ডেলিভারিও করে না; দাম, পরিশোধ আর কুরিয়ার বিক্রেতার সঙ্গে সরাসরি ঠিক করে নিন।
কীভাবে রাখবেন
ঢাকনাওয়ালা বাক্সে ফ্রিজে রাখুন, দুই-তিন দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলুন। পরিবেশনের কয়েক মিনিট আগে বের করে রাখলে স্বাদ ফিরে আসে। টক গন্ধ, পিচ্ছিল ভাব বা ছত্রাক দেখলে ফেলে দিন।
মিডমার্টে সাতক্ষীরার সন্দেশ খুঁজুন
যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান
সাতক্ষীরা থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।
মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।
ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন
English
বাংলা