বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

বাংলাদেশের বিখ্যাত পণ্য

বাগদা চিংড়ি

খুলনা, সাতক্ষীরা আর কক্সবাজারের লোনাপানির ঘেরের বাগদা চিংড়ি

বাগদা চিংড়ি বা ব্ল্যাক টাইগার শ্রিম্প চাষ হয় দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল আর কক্সবাজারের লোনাপানির ঘেরে, দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানিপণ্য। ২০২২ সালে এটি জিআই পণ্য হয়। কেনার আগে জেলি দেওয়া চিংড়ি চেনার উপায় জেনে নিন।

মৌসুম
সারা বছর
GI
জিআই নিবন্ধন ২০২২
সাদা বোর্ডের ওপর কালো ডোরা, লম্বা শুঁড় আর লাল পায়ের একটি কাঁচা বাগদা চিংড়ি
কাঁচা ব্ল্যাক টাইগার শ্রিম্প, যে প্রজাতি বাগদা নামে বিক্রি হয় (ছবিটি বাংলাদেশের বাইরে তোলা) ছবি: Almandine (Wikimedia Commons) · CC BY-SA 3.0

গল্পটা

বাগদা হলো ব্ল্যাক টাইগার শ্রিম্পের বাংলা নাম, ধূসর-সবুজ শরীরে কালো ডোরাকাটা বড় সামুদ্রিক চিংড়ি, রান্না করলে যা উজ্জ্বল কমলা-লাল হয়ে যায়। নদী আর সাগরের মিলনস্থলের লোনাপানিতে এটি ভালো বাড়ে। ১৯৮০-এর দশক থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা আর বাগেরহাটের উপকূলীয় এলাকা, সঙ্গে কক্সবাজারের চকরিয়াসহ নানা জায়গায় বিস্তীর্ণ নিচু জমি পরিণত হয়েছে ঘেরে, অর্থাৎ বাঁধ দেওয়া পুকুরে, যেখানে জোয়ারের পানি ঢুকিয়ে চিংড়ির পোনা ছাড়া হয়। এই ঘেরের চিংড়ি যায় খুলনা আর চট্টগ্রামের প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায়, আর কয়েক দশক ধরে হিমায়িত চিংড়ি দেশের প্রধান রপ্তানিপণ্যগুলোর একটি।

মৎস্য অধিদপ্তরের আবেদনে ২০২২ সালে বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ি নামে এটি ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হয়, মূলত রপ্তানি বাজারে এর পরিচিতি জোরালো করতে। এই চাষের মূল্যও আছে। আগের ধানি জমিতে লোনাপানি ঢোকায় উপকূলের জীবিকা আর মাটি বদলে গেছে, সুন্দরবনের প্রান্তেও চাপ বেড়েছে, তাই দক্ষিণ-পশ্চিমে চিংড়ি চাষ নিয়ে সত্যিকারের বিতর্ক আছে।

এই ব্যবসার একটি পরিচিত মানের সমস্যাও আছে। খুলনাসহ নানা জেলা থেকে খবর আসে, কিছু ডিপো আর মধ্যস্বত্বভোগী ওজন বাড়াতে চিংড়ির মাথা আর শরীরে স্টার্চ, গাম বা অন্য ঘন করার উপাদান দিয়ে তৈরি জেলির মতো পদার্থ পুশ করেন। এতে কেজিপ্রতি দাম বাড়ে, চিংড়ি দ্রুত পচে, আর স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে; মৎস্য কর্তৃপক্ষ নিয়মিত এমন চিংড়ি জব্দ করে নষ্ট করে। ঘরের ক্রেতার জন্য সবচেয়ে ভালো সুরক্ষা হলো লক্ষণগুলো চিনে রাখা।

আসল বাগদা চিংড়ি চিনবেন কীভাবে

টাটকা বাগদার খোসা শক্ত, চকচকে আর শরীরের সঙ্গে আঁটসাঁট লেগে থাকে, ডোরা স্পষ্ট, চোখ কালো, আর অ্যামোনিয়ার মতো গন্ধ থাকে না। মাথা আর শরীরের সংযোগে কালো দাগ পুরোনো হওয়ার লক্ষণ। জেলি আছে কি না বুঝতে দেখুন চিংড়ি আকারের তুলনায় অস্বাভাবিক ফোলা বা মোটা কি না, মাথা ফুলে আছে কি না, আর মাথা ও জোড়ার কাছে সুচের ছোট ছিদ্র আছে কি না। একটি চিংড়ির মাথায় আলতো চাপ দিন বা মাথা ছিঁড়ে দেখুন: স্বচ্ছ বা ঘোলাটে জেলি বেরিয়ে এলে বা দলা পাকিয়ে লেগে থাকলে সাবধান। রান্নার সময় জেলি দেওয়া চিংড়ি থেকে পিচ্ছিল পানি বের হয় আর চিংড়ি অনেকটা ছোট হয়ে যায়। জীবিত চিংড়িতে জেলি পুশ করা যায় না, তাই জীবিত কেনা বা এমন উৎস থেকে কেনা, যাকে প্রশ্ন করা যায়, সবচেয়ে নিরাপদ।

কেনার পরামর্শ

বাগদা বিক্রি হয় আকার অনুযায়ী গ্রেডে, সাধারণত কেজিতে কয়টি ধরে, আর মাথাসহ বা মাথা ছাড়া, টাটকা বা হিমায়িত। বড় গ্রেডের দাম বেশি। বিক্রেতার কাছে জানতে চান চিংড়ি কোথাকার ঘেরের, কবে তোলা, টাটকা না হিমায়িত, আর পথে কীভাবে ঠান্ডা রাখা হবে। যে বিক্রেতা বলেন তিনি জেলি পরীক্ষা করেন, তিনি কীভাবে করেন তা বুঝিয়ে বলতে পারার কথা। হাতে পাওয়া চিংড়িতে জেলি পেলে সঙ্গে সঙ্গে ছবিসহ বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি চার্জ ঠিক করে নেয়, তাই এক বিক্রেতার চিংড়ি আর আরেকজনের মাছ দুটি পার্সেলে, দুবার চার্জে আসবে। মিডমার্ট টাকা নেয় না, ডেলিভারিও করে না; টাকা আর পাঠানোর বিষয় বিক্রেতার সঙ্গে সরাসরি ঠিক করবেন। চিংড়ি খুবই পচনশীল, তাই বরফ বা হিমায়িত প্যাকিং কেমন হবে আর পৌঁছাতে কত ঘণ্টা লাগবে জেনে নিন।

কীভাবে রাখবেন

টাটকা চিংড়ি বরফ দিয়ে ফ্রিজে রাখুন আর এক দিনের মধ্যে রান্না করুন। জমাতে চাইলে ধুয়ে, চাইলে মাথা ছাড়িয়ে, পানি মুছে এক বেলার রান্নার মাপে ভাগ করে মুখবন্ধ ব্যাগে রাখুন; কয়েক মাস ভালো থাকে। ফ্রিজের নিচের তাকে বা বন্ধ ব্যাগসহ ঠান্ডা পানির ধারায় বরফ গলান, আর একবার গলানো চিংড়ি আবার জমাবেন না।

মিডমার্টে বাগদা চিংড়ি খুঁজুন

মিডমার্টে “বাগদা চিংড়ি” খুঁজুন

যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান

কক্সবাজার, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

বাগদা চিংড়ি নিয়ে প্রশ্ন

হ্যাঁ। ২০২২ সালে বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ি নামে ব্ল্যাক টাইগার শ্রিম্প দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হয়।

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা