বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

বাংলাদেশের বিখ্যাত পণ্য

দিনাজপুরের লিচু (বেদানা ও বোম্বাই)

দেশের লিচুর জেলা, আর ২০২৫ সালে জিআই পাওয়া ছোট আঁটির বেদানা

দিনাজপুরের সব উপজেলায় লিচু হয়, আর দেশে এ জেলার লিচুই সবচেয়ে পরিচিত। বোম্বাই সাধারণ জাত; ছোট আঁটি আর পুরু মিষ্টি শাঁসের বেদানা ২০২৫ সালের এপ্রিলে জিআই সনদ পেয়েছে। মৌসুম ছোট, মে মাসের শেষ থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত।

যেখান থেকে
দিনাজপুর
মৌসুম
মে – জুন
GI
জিআই নিবন্ধন ২০২৫
দিনাজপুরের লাল আর হালকা গোলাপি লিচুর একটি থোকার কাছ থেকে তোলা ছবি
ডালসহ দিনাজপুরের লিচু ছবি: Sd Raihan · CC BY-SA 4.0

গল্পটা

মে মাসের শেষে দিনাজপুর শহরের আশপাশের পথঘাট লাল হয়ে ওঠে লিচুতে। জেলার প্রতিটি উপজেলার বাগান থেকে থোকায় থোকায় লিচু আসে কালিতলার পাইকারি বাজারে, যেখানে এখনো শ গুনে বিক্রি হয়, আর সেখান থেকে যায় সারা দেশে। সদর উপজেলার মাশিমপুর আর বিরল উপজেলার মাধববাটী ও রবিপুরের লিচু স্বাদের জন্য বিশেষ নামকরা। মাত্র চার-পাঁচ সপ্তাহের মৌসুমে একের পর এক জাত আসে: প্রথমে মাদ্রাজি, তারপর বোম্বাই, বেদানা আর শেষের দিকে চায়না-৩।

দিনাজপুরের লিচু ব্যবসার মেরুদণ্ড বোম্বাই। সবচেয়ে বেশি জমিতে এর চাষ, ফলন বেশি, ফল বড় আর টকটকে লাল, অন্য অনেক জাতের চেয়ে কম ফাটে। বেদানা সমঝদারদের লিচু। ডালিমের আরেক নাম বেদানা থেকেই এর নাম; জেলার বাগানের সামান্য অংশেই এর গাছ, ফলনও কম। বিনিময়ে ফলের আঁটি ছোট, প্রায়ই চুপসানো, শাঁস পুরু আর মিষ্টতা বেশি; তাই দাম বোম্বাই বা মাদ্রাজির চেয়ে অনেক বেশি।

২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবসের অনুষ্ঠানে পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর দিনাজপুরের বেদানা লিচুর জিআই সনদ তুলে দেয়; একই দিনে মাগুরার হাজরাপুরী লিচুও স্বীকৃতি পায়। জিআই কেবল বেদানার, জেলার সব লিচুর নয়। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এরপর অল্প পরিমাণে বেদানা বিদেশি ক্রেতাদের কাছেও গেছে।

আসল দিনাজপুরের লিচু (বেদানা ও বোম্বাই) চিনবেন কীভাবে

বেদানা লিচু গোলাকার, প্রায় বলের মতো, খোসা তুলনামূলক মসৃণ, গাঢ় গোলাপি থেকে লাল। খোসা ছাড়ালে মিলবে পুরু, স্বচ্ছ, রসাল শাঁস, আর ভেতরে চোখে পড়ার মতো ছোট আঁটি, কখনো আঙুলের ডগার চেয়েও ছোট, প্রায়ই চুপসানো। স্বাদ মিষ্টি, টক খুব কম। বোম্বাই আকারে বড়, একটু লম্বাটে বা পানপাতার মতো, খোসা উজ্জ্বল লাল, আঁটি স্বাভাবিক আকারের বাদামি; শাঁস মিষ্টি, তবে আঁটির তুলনায় পাতলা। মাদ্রাজি আগাম, প্রায়ই একটু বেশি টক, আর চায়না-৩ বড় আকারের নাবি লিচু। বেদানার দাম চাইলে বিক্রেতার কাটা ফল দেখিয়ে ছোট আঁটি প্রমাণ করতে পারা উচিত। টাটকা লিচুর ডাল আর পাতা সবুজ ও নমনীয় থাকে; পাড়ার এক-দুই দিনের মধ্যে খোসা বাদামি হতে শুরু করে, এটা স্বাভাবিক, নষ্টের লক্ষণ নয়; তবে খুব শুকনো, কালচে লিচু পুরোনো।

কেনার পরামর্শ

পাড়ার পর লিচু আর পাকে না, তাই পাকা অবস্থায় পাড়তে হয় আর দ্রুত খেতে হয়। মূল সপ্তাহগুলোতে, মোটামুটি মে মাসের শেষ দিনগুলো থেকে জুনজুড়ে অর্ডার করুন, আর কোন জাত পাবেন জিজ্ঞেস করুন, কারণ বেদানা, বোম্বাই আর মাদ্রাজির দামে বড় পার্থক্য। লিচু সাধারণত শ বা থোকা ধরে বিক্রি হয়; দাম নির্ভর করে জাত, ফলের আকার, মৌসুমের পর্যায় আর কত দূরে যাবে তার ওপর।

লিচু কয়েক দিনের বেশি টেকে না, তাই দূরত্ব আর গতিই আসল। মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজে ডেলিভারির ব্যবস্থা করে আর নিজের চার্জ ঠিক করে; মিডমার্ট টাকা নেয় না, পার্সেলও সামলায় না, তাই দুটোই বিক্রেতার সঙ্গে সরাসরি ঠিক করুন। পাড়ার তারিখ, থোকাগুলো পাতাসহ বাতাস চলাচলের ঝুড়ি বা ক্যারেটে প্যাক হবে কি না আর কুরিয়ারে কত দিন লাগবে জেনে নিন। দূরের শহরের জন্য দিনাজপুর বা কাছাকাছি এমন বিক্রেতাই ভালো, যিনি পাড়ার দিনই পাঠান।

কীভাবে রাখবেন

লিচু পৌঁছালেই বন্ধ বাক্স থেকে বের করুন। এক দিনের মধ্যে খেলে ঠান্ডা, ছায়াময় জায়গায় রাখুন। আরও বেশি দিন রাখতে খোসাসহ লিচু ছিদ্রওয়ালা ব্যাগে বা কাগজ বিছানো পাত্রে ফ্রিজে রাখুন, আরও কয়েক দিন ভালো থাকবে। খাওয়ার ঠিক আগে ছাড়া ধোবেন না। খোসা ছাড়ানো শাঁস শরবত আর মিষ্টান্নের জন্য জমিয়ে রাখা যায়।

মিডমার্টে দিনাজপুরের লিচু (বেদানা ও বোম্বাই) খুঁজুন

মিডমার্টে “লিচু” খুঁজুন

যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান

দিনাজপুর থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

দিনাজপুরের লিচু (বেদানা ও বোম্বাই) নিয়ে প্রশ্ন

মোটামুটি মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত। প্রথমে আসে মাদ্রাজি, তারপর বোম্বাই আর বেদানা, শেষের দিকে চায়না-৩।

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা