বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

বাংলাদেশের বিখ্যাত পণ্য

মধুপুরের আনারস

টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের লাল মাটির আনারস, মৌসুম মে থেকে আগস্ট

শালবনঘেরা লাল মাটির উঁচু গড় এলাকা মধুপুর দেশের সবচেয়ে বড় আনারস উৎপাদনকেন্দ্র। ২০২৪ সালে এটি জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পায়। মে-জুনে আসে মিষ্টি হানিকুইন বা জলডুগি, জুলাই-আগস্টে বড় আকারের জায়ান্ট কিউ বা ক্যালেন্ডার।

যেখান থেকে
টাঙ্গাইল
মৌসুম
মে – আগস্ট
GI
জিআই নিবন্ধন ২০২৪
মধুপুরের বনপথে পাকা আনারস বোঝাই সাইকেল, রাস্তার পাশে বানরের দল
মধুপুরের শালবনের ভেতর দিয়ে বাজারে যাচ্ছে আনারস ছবি: Frameofashik · CC BY-SA 4.0

গল্পটা

মধ্য বাংলাদেশের প্লাবনভূমির মাঝখানে খানিকটা উঁচু হয়ে আছে মধুপুর গড়, যার মাটি লাল ও ঝুরঝুরে, বৃষ্টির পানি জমে থাকে না। ধানের জমির চেয়ে এ মাটি আনারসের জন্য অনেক বেশি উপযোগী, আর সে কারণেই টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা ধীরে ধীরে দেশের আনারসের রাজধানী হয়ে উঠেছে। স্থানীয়ভাবে বলা হয়, এলাকার গারো জনগোষ্ঠীর মানুষই মেঘালয়ের পাহাড় থেকে চারা এনে প্রথম আনারস লাগিয়েছিলেন বিশ শতকের মাঝামাঝি। ঠিক কোন বছর, তা নিয়ে নানা মত আছে, তবে সত্তরের দশকের মধ্যেই আনারস হয়ে ওঠে এখানকার প্রধান অর্থকরী ফসল।

মধুপুরে মূলত দুই জাতের আনারস হয়। হানিকুইন, যাকে স্থানীয়রা জলডুগি বলেন, আকারে ছোট, ভেতরটা গাঢ় হলুদ, ঘ্রাণ আর মিষ্টতা দুটোই বেশি। এটি ওঠে মূলত মে ও জুন মাসে। জায়ান্ট কিউ, স্থানীয় নাম ক্যালেন্ডার, অনেক বড় আর রসালো, স্বাদে সামান্য টক, এর মৌসুম জুলাই-আগস্ট। মৌসুমে জলছত্র বাজারের আশপাশের রাস্তায় সাইকেল আর ভ্যানে আনারসের স্তূপ চোখে পড়ে, যা চলে যায় ঢাকাসহ সারা দেশে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের আবেদনের ভিত্তিতে পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর মধুপুর গড় এলাকার আনারসকে ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধন দেয়। এই স্বীকৃতি একটি এলাকা ও তার ঐতিহ্যের, কোনো নির্দিষ্ট বাগানের মান-সনদ নয়। কৃষক ও সংবাদমাধ্যম বারবার বলেছে, অন্য এলাকার আনারসও মধুপুরের নামে বিক্রি হয়।

আসল মধুপুরের আনারস চিনবেন কীভাবে

প্রথমে মৌসুম আর জাত মিলিয়ে নিন। মে-জুনে ছোট, গোলগাল, খুব মিষ্টি আনারস হলে সেটি সম্ভবত হানিকুইন; জুলাই-আগস্টে লম্বা, ভারী, চওড়া পাতার আনারস সাধারণত জায়ান্ট কিউ। ডিসেম্বরে কেউ মধুপুরের আনারস বললে সেটি মূল মৌসুমের ফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। প্রাকৃতিকভাবে পাকা আনারস গোড়া থেকে ওপরের দিকে হলুদ হতে থাকে, মাথার দিকটা কিছুটা সবুজ থাকে, আর গোড়ায় নাক লাগালে মিষ্টি ঘ্রাণ পাওয়া যায়। পুরো ফল সমানভাবে ঝকঝকে হলুদ অথচ ঘ্রাণ প্রায় নেই, এমন আনারসে হরমোন স্প্রে করা হয়ে থাকতে পারে; মধুপুর অঞ্চলে এ চর্চা নিয়ে পত্রপত্রিকায় বহু প্রতিবেদন হয়েছে। এমন ফল প্রায়ই পানসে আর পানিতে ভরা হয়। গোড়ার কাছে আলতো চাপ দিলে সামান্য দেবে যাবে, কিন্তু কোথাও নরম, রস চুইয়ে পড়া বা গাঁজানো গন্ধের দাগ থাকা চলবে না।

কেনার পরামর্শ

বিক্রেতার কাছে জানতে চান কোন জাত, কোন উপজেলার আনারস, আর কবে তোলা হয়েছে। সৎ চাষি বা ব্যবসায়ী সাধারণত বাগান বা জলছত্রের মতো বাজারের নাম বলতে পারেন, হরমোন দেন কি না তাও জানাতে পারেন। আনারস ভারী আর সহজে থেঁতলে যায়, তাই প্রতিটি ফল কীভাবে মোড়ানো হবে আর পার্সেল কদিন পথে থাকবে তা জেনে নিন। পুরো হলুদ হওয়ার একটু আগে তোলা ফল দূরের পথে ভালো টেকে।

মিডমার্টে প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি চার্জ ঠিক করে, তাই এক দোকান থেকে আনারস আর আরেক দোকান থেকে কাঁঠাল নিলে দুটি আলাদা পার্সেল, দুবার চার্জ। মিডমার্ট আপনার টাকা নেয় না, কিছু পৌঁছেও দেয় না; দাম, টাকা দেওয়ার পদ্ধতি আর কুরিয়ার বিক্রেতার সঙ্গে সরাসরি ঠিক করবেন। কোনো দোকান মধুপুরের আনারস লিখলেই উৎস প্রমাণিত হয় না, তাই অর্ডারের আগে ওপরের প্রশ্নগুলো করে নিন।

কীভাবে রাখবেন

গাছ থেকে তোলার পর আনারস আর মিষ্টি হয় না, শুধু নরম হয়। আস্ত ফল ঘরের তাপমাত্রায়, রোদ থেকে দূরে রাখুন এবং দুই-তিন দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলুন। কয়েক ঘণ্টা পাতার দিকটা নিচে রেখে উল্টো করে দাঁড় করিয়ে রাখলে মিষ্টতা ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। কাটার পর টুকরোগুলো ঢাকনাওয়ালা পাত্রে ফ্রিজে রাখুন, দুই-তিন দিনের মধ্যে খান।

মিডমার্টে মধুপুরের আনারস খুঁজুন

মিডমার্টে “আনারস” খুঁজুন

যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান

টাঙ্গাইল থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

মধুপুরের আনারস নিয়ে প্রশ্ন

মূল মৌসুম মোটামুটি মে থেকে আগস্ট। মে-জুনে আগে আসে হানিকুইন বা জলডুগি, জুলাই-আগস্টে জায়ান্ট কিউ বা ক্যালেন্ডার।

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা