গল্পটা
স্বরূপকাঠি পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার পুরোনো নাম, আর এই নামেই পরিচিত আশপাশের পেয়ারা অঞ্চল, যা ছড়িয়ে আছে ঝালকাঠি সদর আর বরিশালের বানারীপাড়া পর্যন্ত। এখানকার জমি নিচু, জোয়ার-ভাটার খালে ভরা। চাষিরা সমান্তরাল নালা কেটে সেই মাটি দিয়ে লম্বা উঁচু কান্দি বানান, তার ওপর পেয়ারাগাছ লাগান। ফলে বর্ষার পানিতেও বাগান ডোবে না, আর বাগানের ফাঁকে নালা দিয়ে নৌকা চলে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এভাবেই পেয়ারা চাষ হয়ে আসছে, আর দেশের পেয়ারার বড় একটা অংশ আসে দক্ষিণের এই ছোট্ট কোণ থেকে।
জুলাইয়ে পেয়ারা তোলা শুরু হয়, চলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। চাষিরা ছোট ডিঙিতে পেয়ারা বোঝাই করে খালের মোহনায় নিয়ে যান, সেখানে বড় ইঞ্জিনচালিত নৌকায় অপেক্ষা করেন পাইকারেরা, আর কেনাবেচা হয় পানির ওপরেই। তিন খালের মিলনস্থলে ভীমরুলির হাট এ ধরনের ভাসমান বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত, কাছেই আটঘর আর কুড়িয়ানা। এখন ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পর্যটকেরাও দলে দলে আসেন। এখান থেকে ট্রলার আর ট্রাকে পেয়ারা যায় ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে।
স্বরূপকাঠির পেয়ারার কদর এর কচকচে, রসালো, মিষ্টি শাঁসের জন্য; আমাদের দেশে যেমন রীতি, শক্ত আর একটু সবুজ অবস্থায় লবণ-মরিচ দিয়ে খাওয়া হয়। তবে পেয়ারা খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়, আর প্রায় প্রতি মৌসুমেই পত্রিকায় খবর আসে, ভরা মৌসুমে দাম পড়ে যাওয়ায় নরম হওয়ার আগে পেয়ারা বেচতে চাষিদের হিমশিম খাওয়ার কথা। স্বরূপকাঠির পেয়ারা জিআই নিবন্ধিত নয়; নামটি সুপরিচিত আঞ্চলিক পরিচয়, আইনি সুরক্ষিত নাম নয়।
আসল স্বরূপকাঠির পেয়ারা চিনবেন কীভাবে
মৌসুমে স্বরূপকাঠি অঞ্চলের টাটকা পেয়ারা শক্ত, চকচকে, হালকা সবুজ, পাকতে থাকলে হলদেটে-সবুজ হয়; খোসা পাতলা, ঘ্রাণ পরিষ্কার মিষ্টি। ঠিক সময়ে পাড়া হলে শাঁস সাদা থেকে ঘিয়ে রঙের আর কচকচে। পুরো হলুদ আর নরম পেয়ারা সেদিন খাওয়ার জন্য ঠিক আছে, কিন্তু দূরের পথে টিকবে না। খোসায় বাদামি বা কালো বসে যাওয়া দাগ থাকলে সাধারণত মাছি বা ছত্রাকের আক্রমণ বোঝায়, ছোট ফুটো থাকলে ভেতরে পোকা থাকতে পারে। নানা জেলার পেয়ারা দেখতে প্রায় একই রকম, আর বছরের অনেকটা সময় বাজারে থাকে, তাই মৌসুমই সবচেয়ে বড় সূত্র: জুলাই-সেপ্টেম্বরের বাইরে স্বরূপকাঠি বা ঝালকাঠির পেয়ারা বলে যা বিক্রি হয়, তা ভাসমান হাটের মৌসুমি পেয়ারা হওয়ার সম্ভাবনা কম।
কেনার পরামর্শ
বিক্রেতার কাছে জানতে চান বাগান কোথায়, কোন হাট হয়ে এসেছে আর কবে পাড়া হয়েছে। পেয়ারা দ্রুত নরম হয়, তাই এক-দুই দিনের মধ্যে পাড়া শক্ত পেয়ারা চান, বাতাস চলাচলের ফুটোওয়ালা কার্টনে স্তরে স্তরে কাগজ দিয়ে প্যাক করতে বলুন, আর পার্সেল পৌঁছাতে কদিন লাগবে জেনে নিন। দূরের পথে একটু কাঁচা পেয়ারাই নিরাপদ।
মিডমার্টে প্রতিটি দোকান আলাদা ডেলিভারি চার্জ নেয়, তাই একই অঞ্চলের আমড়াও নিতে চাইলে এমন একজন বিক্রেতা খুঁজুন যাঁর কাছে দুটোই আছে, তাহলে দুবার চার্জ দিতে হবে না। মিডমার্ট টাকা নেয় না, ডেলিভারিও করে না; টাকা দেওয়া আর পাঠানোর বিষয় বিক্রেতা সরাসরি আপনার সঙ্গে ঠিক করবেন। স্বরূপকাঠি নামটিকে বর্ণনা হিসেবে নিন, নিশ্চয়তা হিসেবে নয়, আর অর্ডারের আগে ওপরের বিষয়গুলো যাচাই করে নিন।
কীভাবে রাখবেন
শক্ত পেয়ারা ঘরের তাপমাত্রায় এক স্তরে ছড়িয়ে রাখুন, এক-দুই দিনে পেকে যাবে। পাকলে কাগজের ব্যাগে বা খোলা বাক্সে ফ্রিজে রাখুন, তিন-চার দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলুন। খাওয়ার ঠিক আগে ধোবেন। বেশি পাকা পেয়ারা রেখে না দিয়ে জুস, জ্যাম বা জেলি বানিয়ে ফেলা ভালো।
মিডমার্টে স্বরূপকাঠির পেয়ারা খুঁজুন
যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান
বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।
মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।
ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুনস্বরূপকাঠির পেয়ারা নিয়ে প্রশ্ন
আরও বিখ্যাত পণ্য
তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা
- The Daily Star: Your guide to the floating guava market of Bhimruli, Pirojpur
- Dhaka Tribune: Floating orchards of Bhimruli
- UNB: Floating Guava Market in Barishal
- ঝালকাঠি, পিরোজপুর আর বরিশালের সংযোগস্থলে ভীমরুলির ভাসমান পেয়ারার হাট — ছবি: Lonely Explorer · CC BY-SA 4.0 (উৎস, CC BY-SA 4.0)
English
বাংলা