বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

বরিশাল বিভাগ · বাংলাদেশ

বরগুনা

বিষখালী আর বলেশ্বর যেখানে সাগরে মেশে: ইলিশ, ম্যানগ্রোভ আর রাখাইন তাঁত

বঙ্গোপসাগরের পাড়ের জেলা বরগুনা — পাথরঘাটার সাগরের ইলিশ, টেংরাগিরি ও হরিণঘাটার ম্যানগ্রোভ বন, সতেরো শতকের বিবি চিনি মসজিদ আর তালতলীর রাখাইন তাঁতের জন্য পরিচিত।

আয়তন
১,৮৩১ বর্গকিমি
জনসংখ্যা (২০২২)
১,০১০,৫৩১
উপজেলা
৬
ইউনিয়ন
৪২
জেলা গঠন
১৯৮৪
সাক্ষরতা
৮০.৭%
বেতাগীতে গাছপালার মাঝে ঘাসে ঢাকা টিলার ওপর এক গম্বুজের ইটের বিবি চিনি শাহী মসজিদ
বিবি চিনি শাহী মসজিদ, বেতাগী ছবি: Farhan Al Mostakim · CC BY-SA 4.0

বরগুনা সম্পর্কে

বরিশাল বিভাগের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে বরগুনা — নিচু উপকূলীয় এক জেলা, যেখানে পায়রা, বিষখালী আর বলেশ্বর তিনটি বড় নদী পাশাপাশি গিয়ে মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। পশ্চিমে বলেশ্বর নদী বরগুনাকে বাগেরহাটের সুন্দরবন থেকে আলাদা করেছে। আমতলী, বামনা, বরগুনা সদর, বেতাগী, পাথরঘাটা ও তালতলী — এই ৬টি উপজেলা নিয়ে প্রায় ১,৮৩১ বর্গকিলোমিটারের জেলা; ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী লোকসংখ্যা ১০ লাখের কিছু বেশি।

একসময় এই মাটি ছিল সুন্দরবনেরই অংশ; টেংরাগিরি, হরিণঘাটা আর লালদিয়ায় উপকূল ঘেঁষে আজও ম্যানগ্রোভ বন টিকে আছে। বাকি এলাকা সমতল ধানখেত, নারকেল-সুপারির বাগান, মাছের ঘের আর জোয়ার ঠেকানোর বেড়িবাঁধ। ঘূর্ণিঝড় এখানকার মানুষের স্মৃতির অংশ — ২০০৭ সালের সিডর বরগুনা ও পাথরঘাটায় ভয়াবহ ক্ষতি করেছিল, তাই প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে পাকা আশ্রয়কেন্দ্র চোখে পড়ে।

বরগুনা শহর খাকদোন নদীর তীরে, বিষখালীর কাছে। বড় শহর নয়, শান্ত জেলা সদর; তবে পাথরঘাটা ও তালতলীর সৈকত-বন আর দক্ষিণের রাখাইন পাড়ায় যাওয়ার পথ এখান থেকেই শুরু।

ইতিহাস

নামের উৎস নিয়ে স্থানীয় একটি মত হলো, উত্তরের কাঠ ব্যবসায়ীরা খরস্রোতা নদী পার হওয়ার আগে এখানে অনুকূল জোয়ার বা "বড় গোন"-এর অপেক্ষায় থাকতেন; আরেক মতে, স্রোতের উল্টো দিকে গুন টেনে নৌকা নেওয়া থেকেই নাম। আঠারো শতক থেকে বন কেটে বাঙালি বসতি আর আরাকান থেকে আসা রাখাইন পরিবারগুলো এখানে ধানচাষ শুরু করে। বাকেরগঞ্জের অধীন থানা থেকে ১৯৬৯ সালে বরগুনা পটুয়াখালীর মহকুমা হয় এবং ১৯৮৪ সালে পূর্ণাঙ্গ জেলা।

জেলার সবচেয়ে পুরোনো স্থাপনা বেতাগীর বিবি চিনি মসজিদ; প্রচলিত মতে পারস্য থেকে আসা ধর্মপ্রচারক শাহ নেয়ামতুল্লাহ ১৬৫৯ সালে, শাহ সুজার সুবাদারির সময় এখানে আসেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী বরগুনা কারাগারে বন্দিদের হত্যা করে; সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। লেখক ও রাজনীতিবিদ কামরুল আহসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান ও অভিনেতা মীর সাব্বির এই জেলার পরিচিত মুখ।

বরগুনায় নদীর পাড়ে খুঁটির ওপর ঘরবাড়ি ও তীরে বাঁধা ছোট নৌকা
বরগুনার নদীতীরের জনপদ ছবি: Silver Blu3 · CC BY-SA 2.0

অর্থনীতি ও জীবিকা

মাছই বরগুনার অর্থনীতির মেরুদণ্ড। পাথরঘাটায় বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের অবতরণ কেন্দ্রটি দেশের সবচেয়ে বড় দুটির একটি; নানা জেলার ট্রলার এখানে সাগরের ইলিশ, রূপচাঁদা, চিংড়ি আর অন্যান্য মাছ নামায়, আর চারপাশে গড়ে উঠেছে বহু বরফকল। শুকনো মৌসুমে পাথরঘাটা, কুমিরমারা, হরিণঘাটা ও তালতলীর শুঁটকিপল্লিতে মাছ শুকানো হয়। কৃষিতে আমন ধানই প্রধান; শীতের শেষে আমতলী ও তালতলীতে প্রচুর তরমুজ হয়, সঙ্গে নারকেল, সুপারি, ডাল আর মরিচ। ছোট চালকল, নৌকা তৈরি আর প্রবাসী আয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

খাবার, সংস্কৃতি ও উৎসব

বরগুনার রান্না উপকূলের রান্না — সরষে ইলিশ, শুঁটকি ভর্তা, কাঁকড়া আর চিংড়ির তরকারি, আর প্রায় সবকিছুতেই নারকেল। এখানকার কথ্য ভাষা বরিশালি উপভাষারই অংশ, নৌকা, জোয়ার-ভাটা আর মাছের জন্য রয়েছে নিজস্ব শব্দ।

তালতলী ও বরগুনা সদরের রাখাইন সম্প্রদায় জেলার সংস্কৃতিতে আলাদা রং যোগ করেছে। তাদের বৌদ্ধ বিহার, নববর্ষের জলকেলি উৎসব আর বুদ্ধ পূর্ণিমায় শ্রদ্ধাশীল দর্শনার্থীরা যেতে পারেন। রাখাইন নারীরা ঐতিহ্যবাহী হস্তচালিত তাঁতে উজ্জ্বল, ঘন নকশার সুতি চাদর, ওড়না আর ব্যাগ বোনেন।

বরগুনা-এর দর্শনীয় স্থান

  1. টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য (ফাতরার বন)

    তালতলী উপজেলায় প্রায় ৪,০০০ হেক্টরের সংরক্ষিত উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন, ২০১০ সালে অভয়ারণ্য ঘোষিত। কেওড়া-গেওয়া গাছের ভেতর দিয়ে হাঁটাপথ গেছে সোনাকাটা সৈকতের দিকে; হরিণ, বানর আর নানা পাখি দেখা যায়।

  2. হরিণঘাটা বন ও লালদিয়া সৈকত

    পাথরঘাটা শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে ম্যানগ্রোভ ইকোপার্ক; কাঠের ট্রেইল ধরে যাওয়া যায় বলেশ্বর-বিষখালীর মোহনায় লালদিয়া সৈকতে। ভোরে নিরিবিলি থাকে, চিত্রা হরিণ দেখার সম্ভাবনাও বেশি।

  3. বিবি চিনি শাহী মসজিদ

    বেতাগীর বিবি চিনি গ্রামে উঁচু টিলার ওপর এক গম্বুজের ছোট ইটের মসজিদ, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত। পাশের তিনটি কবর প্রতিষ্ঠাতা শাহ নেয়ামতুল্লাহ ও তাঁর দুই মেয়ের বলে জনশ্রুতি আছে।

  4. শুভসন্ধ্যা সৈকত

    তালতলীতে পায়রা মোহনার মুখোমুখি দীর্ঘ, তুলনামূলক নির্জন বালুকাবেলা; বিস্তৃত সূর্যাস্ত আর সন্ধ্যায় ঘরে ফেরা মাছধরা নৌকার জন্য পরিচিত।

  5. তালতলীর বৌদ্ধ বিহার ও রাখাইন পাড়া

    তালতলীর আশপাশের রাখাইন পাড়ায় কাঠ ও পাকা বৌদ্ধ বিহার আর ঘরে ঘরে তাঁত; এখানে সরাসরি তাঁতিদের কাছ থেকে চাদর কেনা যায়।

বরগুনা যে জন্য বিখ্যাত

বরগুনা কীভাবে যাবেন

ঢাকার সায়েদাবাদ ও গাবতলী থেকে পদ্মা সেতু হয়ে সরাসরি বাসে বরগুনা যেতে মোটামুটি ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা লাগে। সদরঘাট থেকে বরগুনা ও আমতলীর রাতের লঞ্চে লাগে প্রায় ১২ ঘণ্টা বা তার বেশি। চাইলে বিমানে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরের বরিশালে নেমে সড়কপথেও আসা যায়। বরগুনা শহর থেকে পাথরঘাটা ও তালতলীতে লোকাল বাস, অটোরিকশা বা মোটরসাইকেলে যাওয়া যায়; তালতলী থেকে কুয়াকাটাও কাছে।

হাট ও বাজার

পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র
জেলার সবচেয়ে বড় মাছের বাজার; ভোরে ট্রলারের মাছ নিলামে ওঠে, তারপর বরফে প্যাক হয়ে যায় দেশের নানা প্রান্তে। আগস্ট থেকে অক্টোবর ইলিশের ভরা মৌসুম, তবে অক্টোবরের সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময় বন্ধ থাকে।
তালতলী রাখাইন তাঁতিদের বাজার
জেলা পরিষদের উদ্যোগে গড়া ছোট বাজার, যেখানে রাখাইন নারীরা হাতে বোনা চাদর, ওড়না, ব্যাগ ও লুঙ্গি বিক্রি করেন; শীতের আগে সবচেয়ে জমজমাট।
আমতলী বাজার
পায়রা নদী আর মহাসড়কের মিলনে ব্যস্ত বাণিজ্যকেন্দ্র; আশপাশের ইউনিয়ন থেকে তরমুজ, ধান, নারকেল আর মাছ এখানে এসে জড়ো হয়।

এক নজরে বরগুনা

এক নজরে বরগুনা

মিডমার্টে বরগুনা-এর দোকান

বরগুনা থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে বিক্রি করছে না।

বরগুনা-এর দোকান থেকে কেনাকাটা

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

বরগুনা নিয়ে প্রশ্ন

সাগরের ইলিশ ও পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, শুঁটকি, টেংরাগিরি ও হরিণঘাটার ম্যানগ্রোভ বন, বিবি চিনি মসজিদ, তরমুজ আর রাখাইন সম্প্রদায়ের তাঁতের কাপড়ের জন্য।

বরগুনা-এ কিছু বানান বা ফলান?

বিনামূল্যে দোকান খুলুন আর সারা বাংলাদেশের ক্রেতার কাছে বিক্রি করুন। কোনো কমিশন বা লিস্টিং ফি নেই — ক্রেতা সরাসরি আপনাকে টাকা দেন, কুরিয়ার বেছে নেন আপনি।

বরগুনা থেকে অনলাইনে বিক্রি করুন

বরিশাল বিভাগের আরও জেলা

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা

সংখ্যাগুলো নিচের তথ্যসূত্র থেকে নেওয়া। আলাদা করে বলা না থাকলে জনসংখ্যার তথ্য ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা থেকে।