বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

বাংলাদেশের বিখ্যাত পণ্য

রাজশাহীর মিষ্টি পান

মোহনপুর আর বাগমারার বরজে জন্মানো হালকা মিষ্টি স্বাদের পান

রাজশাহীর মিষ্টি পান পাতলা, নরম, স্বাদে হালকা মিষ্টি, অন্য পানের মতো ঝাঁজ নেই। মোহনপুর, বাগমারা আর দুর্গাপুরের ছায়াঘেরা বরজে এর চাষ হয়। ২০২৪ সালে এটি জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হয়।

যেখান থেকে
রাজশাহী
মৌসুম
সারা বছর
GI
জিআই নিবন্ধন ২০২৪

গল্পটা

শত শত বছর ধরে বাঙালির আপ্যায়নে পান আছে: খাওয়ার পর অতিথিকে, বিয়েতে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পান দেওয়ার রীতি। বাংলাদেশে কয়েক জাতের পান হয়, স্বাদে সেগুলোর পার্থক্য অনেক। সাচি পানে ঝাঁজ আর ঝাল বেশি, অথচ রাজশাহী যে পানের জন্য বিখ্যাত, সেই মিষ্টি বা মিঠা পান নরম, স্বাদে হালকা মিষ্টি, ঘ্রাণও মনোরম। নারকেল, মৌরি আর নানা মসলা দিয়ে মিষ্টি পান সাজাতে অনেকে এ পাতাই বেছে নেন।

পানলতার দরকার ছায়া, আর্দ্রতা আর বাতাস থেকে আড়াল, তাই এর চাষ হয় বরজে: বাঁশ আর পাটকাঠি দিয়ে বানানো লম্বা ঘেরা জায়গা, ওপরে আর চারপাশে খড় বা পাতার ছাউনি। ভেতরে সারি সারি সরু খুঁটি বেয়ে লতা ওঠে। রাজশাহীর হালকা মাটি আর আবহাওয়া পানের উপযোগী, আর মোহনপুর, বাগমারা, দুর্গাপুরের মতো উপজেলায় পানই প্রধান অর্থকরী ফসল, স্থানীয় কৃষকের কাছে জেলার বিখ্যাত আমের চেয়েও বেশি লাভের। সারা বছরই পান ভাঙা হয়, বিক্রি হয় মৌগাছি, কেশরহাটের মতো হাটে, সেখান থেকে যায় সারা দেশে আর বিদেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাজ্যে।

২০২৩ সালে করা আবেদনের ভিত্তিতে ২০২৪ সালে পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর রাজশাহীর মিষ্টি পানকে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে নিবন্ধন দেয়। এ স্বীকৃতি আঞ্চলিক পণ্যটির, কোনো নির্দিষ্ট বরজ, ব্যবসায়ী বা দোকানের মান-সনদ নয়।

আসল রাজশাহীর মিষ্টি পান চিনবেন কীভাবে

ভালো রাজশাহীর মিষ্টি পান মাঝারি আকারের, পানপাতার চিরচেনা হৃৎপিণ্ড গড়ন, পাতলা আর নমনীয়; রং হালকা থেকে মাঝারি সবুজ, ওপরটা চকচকে, শিরাগুলো সূক্ষ্ম, খুব উঁচু নয়। টাটকা পাতার ছোট একটা টুকরো চিবিয়ে দেখুন: স্বাদ হালকা, সামান্য মিষ্টি, মুখে তীব্র জ্বালা থাকবে না। মোটা, গাঢ়, চামড়ার মতো শক্ত আর ঝাল-ঝাঁজালো পাতা সম্ভবত সাচি বা অন্য জাতের। টাটকা পান মচমচে আর স্প্রিংয়ের মতো; হলদে হয়ে যাওয়া, কালো দাগ, ছেঁড়া কিনারা বা ভ্যাপসা গন্ধের আঁটি, কিংবা বেশি ভেজা রাখায় পিচ্ছিল হয়ে যাওয়া পাতা এড়িয়ে চলুন। মৌসুম আর ভাঙার সময়ভেদে পাতার চেহারা বদলায়, তাই শুধু দেখে নয়, স্বাদ আর টাটকা ভাব দিয়ে বিচার করুন।

কেনার পরামর্শ

পান বিক্রি হয় স্থানীয় হিসাবে, যা হাটভেদে আলাদা, তাই প্রতি আঁটিতে ঠিক কতগুলো পাতা আর আকার অনুযায়ী বাছাই করা কি না, বিক্রেতার কাছে জেনে নিন। কোন উপজেলার পান, কবে ভাঙা হয়েছে আর কীভাবে প্যাক করা হবে, তাও জিজ্ঞেস করুন: মুখবন্ধ প্লাস্টিকে নয়, ভেজা কাপড় বা কলাপাতায় মুড়িয়ে বাতাস চলাচলের বাক্সে পাঠালে পান সবচেয়ে ভালো থাকে। প্রথমবার অল্প পরিমাণে নিয়ে স্বাদ যাচাই করুন।

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি চার্জ ঠিক করে নেয়, তাই পান এক বিক্রেতার কাছ থেকে আর সুপারি বা মসলা আরেকজনের কাছ থেকে নিলে দুবার ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে। মিডমার্ট টাকা নেয় না, ডেলিভারিও করে না; টাকা দেওয়া আর পাঠানোর বিষয় বিক্রেতা আপনার সঙ্গে সরাসরি ঠিক করবেন। বিজ্ঞাপনে রাজশাহীর মিষ্টি পান লেখা বিক্রেতার বর্ণনা, প্রমাণ নয়, তাই আগে ওপরের প্রশ্নগুলো করে নিন।

কীভাবে রাখবেন

পরিষ্কার, সামান্য ভেজা কাপড়ে পান আলগা করে মুড়িয়ে ঠান্ডা, ছায়াযুক্ত জায়গায় রাখুন, অথবা বাক্সে ভরে ফ্রিজের নিচের তাকে রাখুন। রোজ একবার দেখে হলুদ বা কালো হয়ে যাওয়া পাতা ফেলে দিন, কারণ পচন দ্রুত ছড়ায়। পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন না। এভাবে রাখলে টাটকা পান সাধারণত কয়েক দিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে।

মিডমার্টে রাজশাহীর মিষ্টি পান খুঁজুন

মিডমার্টে “পান” খুঁজুন

যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান

রাজশাহী থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

রাজশাহীর মিষ্টি পান নিয়ে প্রশ্ন

হ্যাঁ। ২০২৪ সালে রাজশাহীর মিষ্টি পান বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হয়।

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা