বাংলাদেশের স্বাধীন দোকানের মার্কেটপ্লেস hello@midmart.com.bd
+880 1818611831 সকাল ১০টা – রাত ১০টা · সব দিন উইশলিস্ট

বাংলাদেশের বিখ্যাত পণ্য

জামালপুরের নকশিকাঁথা

নকশিকাঁথার দেশ জামালপুরের হাতে সেলাই করা কাঁথা ও সূচিকর্ম

নকশিকাঁথা গ্রামবাংলার নারীদের ছোট ছোট ফোঁড়ে সেলাই করা নকশি কাঁথা। ২০২৪ সালে জামালপুরের নকশিকাঁথা জিআই সনদ পায়; যশোর, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ আর নারায়ণগঞ্জও এর পরিচিত কেন্দ্র।

মৌসুম
সারা বছর
GI
জিআই নিবন্ধন ২০২৪
সাদা নকশিকাঁথায় কমলা ফুল আর সবুজ রানিং ফোঁড়ের জাল নকশার কাছের ছবি
হালের একটি নকশিকাঁথায় ফুলের মোটিফ আর রানিং ফোঁড় ছবি: A junaid alam khan · Public domain

গল্পটা

কাঁথার শুরু মিতব্যয়িতা থেকে: পুরোনো শাড়ি আর ধুতি তিন থেকে সাত পরতে বিছিয়ে রানিং ফোঁড়ে সেলাই করে তৈরি হতো হালকা কাঁথা বা চাদর। মেয়েরা যখন রঙিন শাড়ির পাড় থেকে সুতা তুলে তাতে মানুষ, ফুল, মাছ, নৌকা, বিয়ের দৃশ্য আর পাড় ফোটাতে লাগলেন, সাধারণ কাঁথা হয়ে উঠল নকশিকাঁথা। মেয়ের বিয়ে, নতুন শিশুর জন্ম কিংবা পারিবারিক জীবনের স্মৃতি ধরে রাখতে বোনা হতো এসব কাঁথা, আর জসীমউদ্‌দীনের "নকশী কাঁথার মাঠ" এ শিল্পকে বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী জায়গা দিয়েছে।

এখন জামালপুরই নকশিকাঁথার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র। ১৯৭৯ সালে ব্র্যাক সেখানে গ্রামের নারীদের কাঁথা সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ শুরু করে, আর আড়ংকে পণ্য জোগানো আয়েশা আবেদ ফাউন্ডেশন এখনো জেলাজুড়ে বহু উপকেন্দ্র চালায়। জামালপুর সদর, বকশীগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ আর মেলান্দহের শত শত ছোট উদ্যোক্তা নকশা আঁকা কাপড় আর সুতা আশপাশের গ্রামের নারীদের হাতে তুলে দেন; তাঁরা ঘরে বসে সেলাই করেন, প্রতিটি কাজের জন্য মজুরি পান। জেলাটি সরকারিভাবে "নকশিকাঁথার জেলা" হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা, আর ২০২৪ সালের এপ্রিলে জামালপুরের নকশিকাঁথা জিআই সনদ পায়।

শিল্পটি সারা দেশেরই। যশোরে আছে বিপুলসংখ্যক সেলাইশিল্পী আর তাঁদের কাজনির্ভর অনেক ব্র্যান্ড; ফরিদপুর আর মানিকগঞ্জের কাঁথার ঐতিহ্য পুরোনো; নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের লোকশিল্প জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে চমৎকার পুরোনো কাঁথা। এখন কাঁথার ফোঁড় শুধু কাঁথায় নয়, বিছানার চাদর, শাড়ি, পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, কুশন কভার আর ব্যাগেও দেখা যায়।

আসল জামালপুরের নকশিকাঁথা চিনবেন কীভাবে

কাঁথাটি উল্টে দেখুন। হাতের কাঁথা সেলাই রানিং ফোঁড়, তাই পেছনেও ছোট ছোট ড্যাশের মতো রেখা থাকে, নতুন সুতা শুরুর জায়গায় ছোট গিঁট বা সুতার মাথা; ফোঁড়ের মাপ একটু এদিক-ওদিক, রেখাও সামান্য আঁকাবাঁকা। মেশিনের এমব্রয়ডারিতে ফোঁড় একেবারে সমান, ভরাট অংশ সব জায়গায় হুবহু এক, আর উল্টো পিঠে একটানা ববিনের সুতা বা শক্ত আস্তরণ থাকে। রানিং ফোঁড়ে পরতগুলো টেনে ধরায় কাপড়ে যে হালকা ঢেউখেলানো জমিন তৈরি হয়, সেটি আসল কাঁথার জোরালো লক্ষণ। নতুন কাঁথায় হালকা নীল বা বেগুনি রেখা থাকলে তা নকশা ছাপার দাগ, সাধারণত এক-দুই ধোয়ায় উঠে যায়।

"যশোর স্টিচ" আলাদা জিনিস। এটি যশোরের কারিগরদের হাতে পোশাকে, বিশেষ করে থ্রি-পিস আর শাড়িতে, করা সূচিকর্মের বাণিজ্যিক নাম; এতে কাঁথার রানিং ফোঁড় থাকতে পারে, তবে প্রায়ই এক পরত কাপড়ে চেইন, সাটিনসহ নানা ফোঁড় মেশানো থাকে। কাজটি সুন্দর হতে পারে, কিন্তু পরতে পরতে সেলাই করা নকশিকাঁথা নয়। ঠিক কী কিনছেন, জিজ্ঞেস করে নিন।

কেনার পরামর্শ

দাম নির্ভর করে জমিনে সেলাই কতটা ঘন, নকশা কতটা সূক্ষ্ম, মাপ, মূল কাপড় (সুতি, রেশম না পুরোনো শাড়ি) আর পুরো কাজ হাতে করা কি না তার ওপর। ঘন সেলাইয়ের বড় একটি বিছানার চাদরে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস লাগতে পারে। বিক্রেতার কাছে জানতে চান সেলাই পুরোপুরি হাতে কি না, কোন জেলার কাজ, কত দিন লেগেছে, আর সামনে-পেছনের কাছের ছবি চেয়ে নিন।

মিডমার্ট স্বাধীন দোকানগুলোর মার্কেটপ্লেস, প্রতিটি দোকান নিজের ডেলিভারি চার্জ নেয়; দুই দোকান থেকে দুটি কাঁথা মানে দুবার চার্জ। মিডমার্ট টাকা নেয় না, ডেলিভারিও করে না; দুটোই বিক্রেতা আপনার সঙ্গে সরাসরি ঠিক করেন। ফরমাশ দিয়ে বানালে নকশা, মাপ, রং, কবে শেষ হবে আর কীভাবে কিস্তিতে টাকা দেবেন, সব বিক্রেতার সঙ্গে লিখিতভাবে ঠিক করুন।

কীভাবে রাখবেন

কাঁথা ঠান্ডা পানিতে হালকা ডিটারজেন্টে আলতো করে হাতে ধোবেন, রেশমের কাঁথা ড্রাই ক্লিন করান; মোচড়াবেন না, ঘষবেন না, ওয়াশিং মেশিনে দেবেন না, তাতে সেলাই টেনে যায়। প্রথম ধোয়ায় কিছু রং উঠতে পারে, তাই আলাদা করে ধোবেন। কড়া রোদে নয়, ছায়ায় বিছিয়ে বা দড়িতে মেলে শুকান, রোদে সুতার রং ফিকে হয়। সুতি বা মসলিন কাপড়ে মুড়ে আলগা ভাঁজে রাখুন, মাঝেমধ্যে ভাঁজ বদলান, আর বর্ষায় শুকনো দিনে ছায়ায় মেলে বাতাস লাগান। ন্যাপথলিন কাগজে মুড়ে কাপড় থেকে দূরে রাখুন; শুকনো নিমপাতা কোমল বিকল্প।

মিডমার্টে জামালপুরের নকশিকাঁথা খুঁজুন

মিডমার্টে “নকশিকাঁথা” খুঁজুন

যেখানে তৈরি হয়, সেখানকার দোকান

ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, যশোর, জামালপুর থেকে এখনো কোনো দোকান মিডমার্টে নেই।

মিডমার্টের প্রতিটি দোকান নিজের মতো করে টাকা নেয় এবং নিজেই ডেলিভারির ব্যবস্থা করে — মিডমার্ট কখনো আপনার টাকা বা পার্সেল হাতে নেয় না। ডেলিভারি চার্জ দোকানপ্রতি: তিনটি দোকান থেকে অর্ডার করলে তিনটি ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।

ডেলিভারি চার্জের আনুমানিক হিসাব দেখুন

জামালপুরের নকশিকাঁথা নিয়ে প্রশ্ন

২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল জামালপুরের নকশিকাঁথা জিআই সনদ পায়; সেদিন মোট ১৪টি পণ্য সনদ পেয়েছিল।

তথ্যসূত্র ও ছবির কৃতজ্ঞতা